ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

ইটভাটার ধোঁয়ায় ১৬ একর জমির ধান নষ্ট, কৃষকের মাথায় হাত

মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) | প্রকাশিত: ০২:৩০ পিএম, ১৪ মে ২০১৯

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে ইটভাটা থেকে নির্গত বিষাক্ত ধোঁয়ায় প্রায় ১৬ একর জমির ইরি-বোরো ধান নষ্ট হয়ে গেছে। উপজেলার বহুরিয়া ইউনিয়নের বহুরিয়া পূর্বপাড়া এলাকার এএনবি-২ ইটভাটার চিমনি থেকে বের হওয়া বিষাক্ত ধোঁয়ায় ওই এলাকার জমির ধান পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। এতে কৃষক ও প্রজেক্ট মালিকদের কয়েক লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

একই কারণে ভাটা সংলগ্ন প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকার বাড়ির আম, কাঁঠালসহ বিভিন্ন প্রকারের ফলের গাছ থেকে ফল নষ্ট হয়ে ঝড়ে পড়ছে। উপজেলা কৃষি অফিসের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ও ব্লক সুপারভাইজার তোফায়েল হোসেন ভাটার বিষাক্ত ধোঁয়ায় কৃষকের কয়েক লাখ টাকার ধান নষ্ট হয়েছে বলে স্বীকার করেছেন।

এলাকাবাসী জানায়, গত এক বছর আগে এ উপজেলার গোড়াই ইউনিয়নের সোহাগপাড়া গ্রামের আব্দুর রহিম ও তার আত্মীয় গাজীপুরের কড্ডা এলাকার রেজাউল করিম বহুরিয়া গ্রামের পূর্বপাড়া এলাকার ১০/১২ একর আবাদী জমি ভাড়া নিয়ে সংশ্লিষ্ট দফতরের কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে অনুমোদন ছাড়াই ভাটাটি স্থাপন এবং ইট পোড়ানো শুরু করেন। ভাটার একপাশে নদী থাকলেও তিন পাশেই শত শত একর আবাদি জমি। ওই ভাটা সংলগ্ন এলাকায় চারটি প্রজেক্টের আওতায় প্রায় ৩০-৩২ একর জমিতে ইরি-বোরো ধান আবাদ করা হয়।

Mirzapur-02

গত ২৭ এপ্রিল সকালে ওই ভাটার বিষাক্ত ধোঁয়া ছেড়ে দেয়ায় আশপাশ এলাকায় প্রচণ্ড দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। তাছাড়া প্রচণ্ড গমর অনুভব করে স্থানীয় লোকজন। গরমের সঙ্গে দুর্গন্ধের কারণে অনেকে বমিও করেন। ২৮ এপ্রিল জমির মালিকরা ধানক্ষেতে গিয়ে ধানগাছের পাতা লালচে আকার দেখতে পান। গত এক সপ্তাহের মধ্যে চারটি প্রজেক্টের প্রায় ১৬ একর জমির ধান পুড়ে পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। বাকি জমির ধান গাছ সবুজ দেখা গেলেও ধানের ভেতর ভালো চাল হবে না বলে কৃষকরা আশঙ্কা করছেন।

ওই এলাকার কয়েকজন কৃষক ও স্থানীয়রা জানান, আবাদি জমিতে ইটভাটা স্থাপন করার পর থেকে ভাটা মালিকরা ওই এলাকার কৃষকদের নানাভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আসছে। এছাড়া ভেকু মেশিন দিয়ে আবাদি জমির মাটি কেটে ভাটায় নেয়া হচ্ছে। এতে পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে ।

বহুরিয়া পূর্বপাড়া গ্রামের কৃষক রহম আলী, ঠান্ডু মিয়া, তারা মিয়া, করিম সিকদার ও আলী মিয়া জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর ধানের ফলন ভালো হয়েছিল। ১০/১২ দিন পর থেকে ধান কাটাও শুরু হবে। কিন্তু কয়েক দিন আগে হঠাৎ ভাটার ধোঁয়া ছেড়ে দেয়ায় পুরো এলাকার জমির ধান পুড়ে নষ্ট হয়ে গেছে।

কৃষক বাদশা খান, আতর আলী ও জহিরুল ইসলাম জানান, ধান কাটার মৌসুম শুরু হলে গ্রামের বাড়িগুলোতে উৎসব বিরাজ করে। কৃষকরা পুরো বছরের খরচের ধান গোলায় তুলেন। কিন্তু সে উৎসব আর নেই। এ বছর ভাটার ধোঁয়ায় আবাদ নষ্ট হওয়ায় পরিবার পরিজন নিয়ে কষ্টে দিন পার করতে হবে। ভাটার ধোঁয়ার কারণে আশপাশের বাড়ির বিভিন্ন প্রকার ফল গাছের ফলও থাকছে না। তারা ধানের ক্ষতিপূরণ ও আবাদি জমির ওপর স্থাপন করা ইটভাটা অপসারণের দাবি জানান।

মেশিন মালিক (প্রজেক্ট) বাদশা সিকদার, তারা মিয়া, হায়দার ও জালাল উদ্দিন জানান, তাদের প্রজেক্টের আওতায় প্রায় ৩০-৩২ একর জমিতে ইরি-বোরো ধান আবাদ করা হয়েছিল। ওই জমিতে পানি বাবদ বিদ্যুৎ বিল ও মেশিন চালকের বেতনসহ তাদের প্রত্যেকের প্রায় ৭০ হাজার টাকা করে খরচ হয়েছে। ধোঁয়ার কারণে প্রজেক্টের পুরো ধান নষ্ট হওয়ায় খরচের টাকা নিয়ে তারা বিপাকে পড়েছেন।

Mirzapur-03

এ বিষয়ে এএনবি-২ ইটভাটা মালিক আব্দুর রহিমের সঙ্গে মুঠোফোনে বারবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও সম্ভব হয়নি।

মির্জাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ মশিউর রহমান জানান, খবর পেয়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট ব্লক সুপারভাইজার তোফায়েল হোসেনকে ঘটনাস্থলে গিয়ে ক্ষতি নিরুপণ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল মালেক বলেন, কৃষকরা অভিযোগ দিলে ওই এলাকা পরিদর্শন করে ইটভাটার মালিকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়াসহ কৃষকদের ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা হবে বলে।

এস এম এরশাদ/আরএআর/এমকেএইচ

আরও পড়ুন