স্ত্রীর সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক করায় ছুরি মেরে খুন
প্রতীকী ছবি
যশোরে দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে শহিদুল ইসলাম শহিদ (৩৩) নামে এক জুটমিল শ্রমিক নিহত হয়েছেন। নিহত শহিদ মাগুরা সদর উপজেলার হাজরাপুর গ্রামের লোকমান হোসেন কাজীর ছেলে এবং যশোরের বিরামপুর এলাকার আফনান জুটমিলের শ্রমিক।
সোমবার দুপুরে সদর উপজেলার বাহাদুরপুর জেস গার্ডেন এলাকায় আফনান জুটমিলের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মেহেদী হাসান টফি নামে একজনকে আটক করেছে পুলিশ। আটক টফি উপশহর বিরামপুর এলাকার আসলাম হোসেনের ছেলে।
নিহত শহিদের সহকর্মী শাহীন জানিয়েছেন, শহিদ সোমবার দুপুরে আফনান জুটমিলে ডিউটি শেষ করে বের হন। গেট থেকে একশ গজ দূরে টিটুর চায়ের দোকানের সামনে পৌঁছা মাত্র আনসার আলী ওরফে আমছার আলী, হাবু ওরফে আবু, জিয়ারুল এবং মেহেদী হাসান টফি তার পথরোধ করে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই আমছারের কোমরে থাকা চাকু বের করে শহিদের সারা গায়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে। এরই মধ্যে শহিদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে ওই দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে যশোর হাসপাতালে আনা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
আটক মেহেদী হাসান টফি জানিয়েছেন, তার মামা আমছার আলীর স্ত্রী জুলেখার সঙ্গে শহিদের অবৈধ সম্পর্ক ছিল। এ নিয়ে গত শুক্রবার স্থানীয়ভাবে সালিশ মীমাংসার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু ওই সালিশে সুষ্ঠু সমাধান না হওয়ায় আমছার আলী শহিদকে খুনের পরিকল্পনা করে। সোমবার বেলা আড়াইটার দিকে আমছার আলী, মেহেদী, জিয়ারুল ও আবু ওরফে হাবুকে কথা আছে বলে মিলগেট থেকে ডেকে নেয়। টিটুর দোকানের সামনে পৌঁছা মাত্র আমছারের কোমরে থাকা চাকু দিয়ে শহিদকে এলোপাতাড়ি আঘাত করা হয়। সঙ্গে থাকা অন্যরাও তাকে মারপিট করে।
মেহেদী হাসান আরও জানিয়েছেন, তার মা এবং মামি ওই মিলে কাজ করেন। বেশ কিছুদিন ধরে টফির মাকে ডিউটি নিয়ে ঝগড়াঝাটি করতেন শহিদ। এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে টানাপোড়েন যাচ্ছিল।
এ খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উপশহর পুলিশ ক্যাম্পের এএসআই শরিফুল ইসলাম ঘটনাস্থলে গিয়ে মেহেদী হাসান টফিকে আটক করেন।
যশোর কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অপূর্ব হাসান জানিয়েছেন, শহিদ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অন্যদের আটকের জন্য অভিযান শুরু হয়েছে।
মিলন রহমান/এএম/এমএস