ফাঁকা পাটুরিয়া ঘাটে স্বস্তির ঈদযাত্রা
যানবাহনের দীর্ঘ সারি। ফেরির জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা। যাত্রীদের দুর্ভোগ ও ভোগান্তি- এসবই চিরচেনা রূপ পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ঘাটের। কিন্তু শনিবার দিনভর ব্যস্ততম এই ঘাটের চিত্র ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। ফেরির জন্য যানবাহনগুলোকে অপেক্ষায় থাকতে হয়নি। ঘাটে পৌঁছেই পার হতে পেরেছেন যাত্রীরা। এতে করে টার্মিনালসহ পুরো ঘাট এলাকা ছিল প্রায় যানবাহন শূন্য। আর স্বস্তিতে ফেরি পার হতে পেরে ঘরমুখো যাত্রীদের চোখে মুখে ছিল খুশির ঝিলিক।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্পোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) সূত্র জানায়, শুক্রবার ভোর থেকে রাত পর্যন্ত যানবাহনের বেশ চাপ ছিল। যার মধ্যে ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যাই ছিল বেশি। ফেরি পার হতে একেকটি যানবাহনকে প্রায় তিন ঘণ্টা অপেক্ষায় থাকতে হয়েছে। তবে শনিবার সকাল থেকেই ঘাটের চিত্র পুরোপুরি পাল্টে যায়। যাত্রীবাহী বাস কিংবা ছোট গাড়ি ঘাটে পৌঁছেই ফেরিতে উঠতে পারছে। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে না।
এতটা স্বস্তির যাত্রা কীভাবে সম্ভব? কারণ হিসেবে বিআইডব্লিউটিসির এজিএম জিল্লুর রহমান জানান,পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌ-রুটে আগে যেখানে ১১ থেকে ১৫টি ফেরি যানবাহন পারাপারে নিয়োজিত থাকত, সেখানে বর্তমানে ফেরি সংখ্যা রয়েছে ১৯টি। তাছাড়া পাটুরিয়া ঘাটে ঘরমুখো মানুষ ও যানবাহনের চাপ থাকলেও দৌলতদিয়া ঘাটে যানবাহনের তেমন চাপ নেই। ফেরিগুলো দৌলতদিয়ায় যানবাহন পৌঁছে দিয়েই দ্রুত পাটুরিয়া ঘাটে ফিরে আসছে।

তিনি জানান, ঈদ উপলক্ষে সড়কে আইন-শৃঙ্খলাবাহিনী তৎপর থাকায় গাড়িগুলো সুশৃঙ্খলভাবে ফেরি ঘাটে আসছে। পাটুরিয়া ৫ নম্বর ঘাট দিয়ে শুধুমাত্র ছোট গাড়ি পারাপার করা হয়। এছাড়া ঘাটে কোনো পণ্যবাহী ট্রাকও নেই। সব মিলেয়ে ১৯টি ফেরিই একযোগে যানবাহন পারাপারে নিয়োজিত থাকায় ঘাটে যানবাহনগুলোকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষায় থাকতে হয়নি।
ঢাকা থেকে প্রাইভেটকারে করে পরিবার-পরিজন নিয়ে খুলনায় যাচ্ছিলেন বেসরকারি চাকরিজীবী নুরুল ইসলাম ঘাটে পৌঁছে ফেরিতে উঠতে পেরে ভীষণ খুশি। তিনি জানান, প্রতিবছরই বাড়ি যাওয়ার সময় ফেরিঘাটে বেশ ভোগান্তিতে পড়তে হয়। কিন্তু এবার এসেই নদী পার হতে পারবেন চিন্তাও করেননি। তার ছেলে-মেয়েরাও ভীষণ খুশি হয়েছেন। স্বস্তির এই যাত্রার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান। তার মতো একই প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অনেক পরিবহন চালক ও যাত্রীরা।
শনিবার সন্ধ্যা ৬টায় এই রিপোর্ট লেখা পযন্ত ঘাটে ফেরি পারাপার পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল। অপেক্ষমাণ কোনো যানবাহন ছিল না।

এদিকে দুপুরে পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি মো. হাবিবুর রহমান পাটুরিয়া ঘাট পরিদর্শন করেছেন। ঘাটে পৌঁছে তিনি সার্বিক প্রস্তুতি ও আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ে খোঁজ-খবর নেন এবং ঘাট সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, যাত্রী ও পরিবহন চালকদের সঙ্গে কথা বলেন। ঘাটের সার্বিক বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।
এসময় মানিকগঞ্জ পুলিশ সুপার রিফাত রহমান শামীম, জেলা প্রশাসক এস এম ফেরদৌস উপস্থিত ছিলেন।
বি এম খোরশেদ/এমবিআর/এমকেএইচ