ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

দুই বংশের দীর্ঘদিনের বিরোধে প্রাণ গেল একজনের

জেলা প্রতিনিধি | শরীয়তপুর | প্রকাশিত: ০৬:৪৬ পিএম, ১০ জুন ২০১৯

শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার চান্দনি গ্রামে ইয়াকুব ছৈয়াল (৫৫) নামে এক ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তিনি ওই গ্রামের আরশেদ আলী ছৈয়ালের ছেলে।

সোমবার সকাল নয়টার দিকে তাকে কুপিয়ে আহত করা হয়। চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেয়ার পথে দুপুরে তার মৃত্যু হয়। ওই ব্যক্তি স্থানীয় চান্দনি বাজারের ইট-বালুর ব্যবসায়ী ছিলেন। এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সন্ত্রাসীরা তাকে হত্যা করেছে বলে অভিযাগ পাওয়া গেছে।

নড়িয়া থানা ও গ্রামবাসী সূত্র জানায়, উপজেলার ভোজেশ্বর ইউনিয়নের একটি গ্রাম চান্দনি। ওই গ্রামে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে স্থানীয় ছৈয়াল বংশ ও ঢালী বংশের মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিন যাবৎ বিরোধ রয়েছে। দুুই বংশের মানুষদের মধ্যে প্রায় সংঘর্ষ হতো। সর্বশেষ গত এপ্রিল মাসে ঢালী বংশের সালামত ঢালী, আবু সিদ্দিক ঢালী ও আবু আলেম ঢালীকে কুপিয়ে আহত করা হয়। ওই ঘটনায় মামলার প্রধান আসামি ছিলেন ইয়াকুব ছৈয়াল। হামলার ঘটনার পর ঢালী বংশের লোকজন প্রতিশোধ নেয়ার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠেন।

ইয়াকুব ছৈয়াল চান্দনি বাজারে ইট-বালুর ব্যবসায়ী ছিলেন। তিনি ছৈয়াল বংশের রাজনীতিকে নেতৃত্ব দিতেন। সোমবার সকাল নয়টার দিকে চান্দনি কীর্তিনাশা নদীর তীরের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে মোটরসাইকেল নিয়ে নড়িয়া মেইন সড়কের দিকে যাচ্ছিলেন ইয়াকুব। যাওয়ার পথে চান্দনি-ভোজেশ্বর বাইপাস সড়কে ঢালী বংশের লোকজন তার মোটরসাইকেল গতিরোধ করেন। এসময় নাসির ঢালীর নেতৃত্বে ১০-১২ জন সন্ত্রাসী তাকে কুপিয়ে আহত করেন। তারা এলাকায় আতঙ্ক ছড়ানোর জন্য ৪-৫টি ককটেল বোমার বিস্ফারণ ঘটায়। ইয়াকুবকে বাঁচাতে ছুটে আসেন তার স্ত্রী শিরিন বেগম। সন্ত্রাসীরা তাকেও কুপিয়ে আহত করেন।

গ্রামবাসী ইয়াকুবকে উদ্ধার করে সকাল সাড়ে নয়টার দিকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে আসে। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়ার পর অবস্থার অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। ঢাকায় নেয়ার পথে মুন্সীগঞ্জের নিমতলা এলাকায় পৌঁছলে দুপুর ১টার দিকে তিনি মারা যান।

ইয়াকুব ছৈয়ালের ভাই সোহরাব আলী ছৈয়াল বলেন, আমার ভাই ব্যবসা-বাণিজ্যের পাশাপাশি এলাকার শান্তি শৃঙ্খলার জন্য বিচার-শালিস করতো। বিভিন্ন অন্যায় কাজের প্রতিবাদ করতো। ওই কারণে ছৈয়াল বংশের লোকজন আমাদের ওপর ক্ষুব্দ ছিল।

অভিযুক্ত নাসির ঢালীকে এলাকায় পাওয়া যায়নি। ইয়াকুব ছৈয়ালের মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পরলে ঢালী বংশের অধিকাংশ পরিবার এলাকা থেকে পালিয়েছে।

নড়িয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঞ্জুরুল হক আকন্দ বলেন, ছৈয়াল বংশ ও ঢালী বংশের মধ্যে পূর্ব থেকেই বিরোধ ছিল। দু'পক্ষের বিরুদ্ধেই থানায় মামলা রয়েছে। পূর্ব শত্রুতার জেরেই ইয়াকুব ছৈয়ালকে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্তদের আটক করার জন্য পুলিশ চেষ্টা করছে। এখনও থানায় কোনো মামলা করা হয়নি। ইয়াকুবের লাশ শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ময়নতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

তিনি বলেন, ঘটনাস্থল থেকে একটি ককটেল উদ্ধার করা হয়েছে।

ছগির হোসেন/এমএএস/পিআর

আরও পড়ুন