প্রভাবশালীদের জন্য রাতের অন্ধকারে রাস্তা তৈরি
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে ১৫ কৃষকের দুই বিঘা ফসলি জমি দখল করে রাতারাতি মাটি কাটা ভেকু মেশিন দিয়ে রাস্তা তৈরি করেছে প্রভাবশালীরা। কাউকে কিছু না জানিয়ে কালীগঞ্জ উপজেলার ৫নং শিমলা-রোকনপুর ইউনিয়নের পুখুরিয়া গ্রামের প্রভাবশালী কয়েকটি পরিবারের যাতায়াতের সুবিধার জন্য এ রাস্তা তৈরি করা হয়েছে। পূর্বে এখানে কোনো রাস্তায় ছিল না।
গতকাল বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে সিমলা-রোকনপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নাসির চৌধুরীর নেতৃত্বে ছোট শিমলা গ্রামের কয়েকজন কৃষকের দুই বিঘা জমি দখল ও গাছ-ফসল নষ্ট করে ভেকু মেশিন দিয়ে এ রাস্তা তৈরি করা হয়। রাস্তাটি প্রায় ৮০০ ফুট দৈর্ঘ্য। এ রাস্তা তৈরির সময় কৃষকের জমির ২০টা মেহগনি গাছ, আখক্ষেত ও মরিচ গাছ নষ্ট করা হয়েছে।
এছাড়া আবাদি জমিতে মাটি কেটে বড় বড় গর্ত করা হয়েছে। এ রাস্তা তৈরিতে ছোট শিমলা গ্রামের মোমিন হোসেন, জাকির হোসেন, সিরাজ হোসেন, বিল্লাহ হোসেন, আব্দুল মান্নান, ওলিয়ার রহমান, খোকন মাস্টার, সলেমান হোসেন, বাহার আলী, পিন্টু মেম্বর, মন্টু হোসেন, হামিদুর রহমানসহ প্রায় ১৫ কৃষকের ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ভুক্তভোগী ছোট শিমলা গ্রামের এক কৃষকের স্ত্রী সালেহা খাতুন বলেন, ঋণের টাকা দিয়ে অন্যের জমি লিজ নিয়ে আখ চাষ করেছি। প্রতি সপ্তাহে কিস্তি দিতে হয়। আমার স্বামী কাজ করতে পারে না। ছোট ছেলেকে দিয়ে ভ্যান চালিয়ে খায়। আমি নিঃস্ব গরিব মানুষ। দুই মেয়ে আর এক ছেলে নিয়ে খুব কষ্ট করতে হয়। ফসল ও জমির ক্ষতি করে রাস্তা করা ঠিক হয়নি।
ছোট শিমলা গ্রামের আব্দুল মান্নান জানান, বৃহস্পতিবার রাত ১২টার পর মাটি কাটা ভেকু মেশিন নিয়ে পুকুরিয়া গ্রামের লোকজন নিয়ে আমাদের নিজস্ব জমিতে ফসল নষ্ট করে রাস্তা তৈরি করা হয়েছে। মেহগনি গাছ, মরিচ গাছ ও আখক্ষেত নষ্ট করে তারা রাস্তা করেছে। রাস্তা করার ব্যাপারে আমরা কিছু জানি না। ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বা মেম্বার কেউ আমাদের এ ব্যাপারে জানায়নি। তিনি অভিযোগ করে বলেন, চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে এ রাস্তা করেছে।

এ ব্যাপারে ৫নং শিমলা রোকনপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নাসির চৌধুরীর বক্তব্য ভিন্ন। তিনি বলেন, আমি উপস্থিত ছিলাম না। ঘটনাটি আমি শুনে সকালে দেখতে গিয়েছিলাম। পুখুরিয়া উত্তরপাড়ার লোকের যাতায়াতের সুবিধার্থে রাস্তাটি করেছে। এ রাস্তা ইউনিয়ন পরিষদের না।
কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুবর্ণা রানী সাহা বলেন, এ ব্যাপারে আমি অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব।
আব্দুল্লাহ আল মাসুদ/এমএএস/পিআর