ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

আহত নারীর সঙ্গে পুলিশের বক্তব্য মিলছে না

জেলা প্রতিনিধি | যশোর | প্রকাশিত: ০৮:৪৩ পিএম, ২২ জুন ২০১৯

যশোরে পুলিশের বিরুদ্ধে সুফিয়া খাতুন (৫০) নামে ‘অসুস্থ এক নারীর পেটে লাথি মারার অভিযোগ’ উঠলেও এ ব্যাপারে কোনো শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। বরং ওই ঘটনাকে বানোয়াট ও উদ্দেশ্যমূলক বলছে পুলিশ।

পুলিশের দাবি, স্থানীয় এক প্রতারক নারী ব্ল্যাকমেইল চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকায় সুফিয়া খাতুন ও তার ছেলে রাকিব পুলিশের বিরুদ্ধে এ ‘মিথ্যা’ অভিযোগ তুলেছে। আর সুফিয়া খাতুনের দাবি, ‘পুলিশ এখন তাকে নানাভাবে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে।’ আগের সংবাদটি পড়ুন

অভিযোগে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে শহরের খড়কি হাজামপাড়া এলাকায় শ্রাবণী নামের ওই নারীকে ধরতে যান কোতোয়ালি থানা পুলিশের এসআই বিপ্লব ও ইকবাল। এ সময় তারা ওই এলাকার আবদুল হামিদের বাড়ির ভাড়াটিয়া ইনসার আলীর স্ত্রী সুফিয়া খাতুনের (৫০) ‘পেটে লাথি মারেন’। তাকে শুক্রবার যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আহত সুফিয়া খাতুন জানান, বৃহস্পতিবার রাতে সাদা পোশাকে দুই পুলিশ আমাদের বাসায় গিয়ে প্রতিবেশী ভাড়াটিয়া আসাদের স্ত্রী শ্রাবণীকে খুঁজতে থাকে। এ সময় পুলিশের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিতে না পারায় তারা আমাকে গালিগালাজ করে। আমার ছেলে এর প্রতিবাদ করলে, তার হাতে হাতকড়া পরিয়ে দেয়। আমি এগিয়ে গিয়ে প্রতিবাদ করি। এ সময় একজন পুলিশ আমার তলপেটে জোরে লাথি মারে। তখন আশপাশের আরও ভাড়াটিয়া জড়ো হয়ে যায়। এরপর পুলিশ চলে যায়। এ ঘটনার পর শুক্রবার সুফিয়াকে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি এখনও সেখানে চিকিৎসাধীন।

এ ঘটনার পর পুলিশ নানাভাবে সুফিয়াকে হুমকি দিচ্ছে বলে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেছেন। তার ছেলেও ‘মামলায় ফাঁসিয়ে’ দেয়ারও হুমকি দেয়া হচ্ছে। এ নিয়ে তারা আতঙ্কে আছেন।

এদিকে, ‘অসুস্থ এক নারীর পেটে লাথি মারার অভিযোগ’ অভিযোগ উঠলেও পুলিশ এখনও কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। বরং পুলিশ দাবি করছে, লাথি মারা ঘটনা বানোয়াট ও উদ্দেশ্যমূলক।

এ প্রসঙ্গে যশোর পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনসার উদ্দিন বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও ওই নারীর সঙ্গে কথা বলেছেন। খড়কি হাজামপাড়া এলাকায় শ্রাবণী নামে এক নারী প্রতারণা ও ব্ল্যাকমেইলের একটি চক্র চালায়। অনেক পুরুষ তার বাড়িতে ওঠাবসা করে। এক ব্যক্তির ল্যাপটপ রেখে দেয়ার অভিযোগ পেয়ে পুলিশ সেখানে অভিযান চালায়। এ সময় ওই চক্রের সঙ্গে সুফিয়ার ছেলের জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়ায় তাকে হ্যান্ডকাপ পড়াতে গেলে সুফিয়া বাধা দেন। এ সময় ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি পড়ে যান। কিন্তু কোনো লাথি দেয়ার ঘটনা ঘটেনি। ওই চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে বলেই সুফিয়া ও তার ছেলে এ ‘মিথ্যা অভিযোগ’ দিচ্ছে।

মিলন রহমান/এমএএস/এমকেএইচ

আরও পড়ুন