ডেঙ্গু শনাক্তকরণ কিটস নেই সদর হাসপাতালে
নওগাঁ সদর হাসপাতালে এ পর্যন্ত ১২ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ৯ জন সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় বাকি ৩ জনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
ডেঙ্গু আক্রান্তরা হলেন- জেলার মহাদেবপুর উপজেলার মোরশেদ আলী (৩৫) ও আতিকুর রহমান (২৫), পত্নীতলার সিহাব উদ্দিন (৩১), নওগাঁ সদরের হোসনে আরা (৪৫), সাবিহা খাতুন (২২), ও বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী সিফাইত জান্নাত তিথি (২০), রানীনগরের কলেজছাত্র মেহেদী হাসান (২০), মান্দার লাইলী বেগম (৪০) সহ ১২জন।
গত ২৭ জুলাই নওগাঁ সদর হাসপাতালে সদর উপজেলার তিলকপুর গ্রামের সুখি আক্তার (২০) নামে ছাত্রী ডেঙ্গু রোগ নিয়ে ভর্তি হন। সে সময় হাসপাতালে কোনো যন্ত্রপাতি না থাকায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রামেকে পাঠানো হয়।
জানা গেছে, গত ২৭ থেকে ৩১ জুলাই ৫ দিনে জেলা সদর হাসপাতালে ১২ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়। তাদের মধ্যে সুখি আক্তার নামে এক ছাত্রীর স্থানীয়ভাবে ডেঙ্গু ধরা পড়ে। বাকি সবাই ঢাকা থেকে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে এই হাসপাতালে আসেন। তাদের শুধু খাবার স্যালাইন, শরীরে স্যালাইন ও প্যারাসিটামল দেয়া হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, নওগাঁ সদর হাসপাতালে প্রাথমিকভাবে ডেঙ্গু রোগ শনাক্তকরণ ‘এনএস-১’ থাকলেও তা পর্যাপ্ত না। এছাড়া ‘আইজিজি ও আইজিএম ডিভাইস এবং প্লাটিনেট সেল কাউন্টার মেশিনও নেই। ফলে সরকারি এই হাসপাতাল থেকে যথেষ্ট সেবা পাচ্ছেনা রোগীরা। ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে ডেঙ্গু আক্রান্তদের।
প্লাটিনেট সেল কাউন্টার হাসপাতালে না থাকায় বাইরের চারটি ক্লিনিক (ল্যাব এইড, ডক্টরস ল্যাব, প্রাইম ল্যাব অ্যান্ড হসপিটাল এবং ইসলামী ব্যাংক অ্যান্ড কমিউনিটি হসপিটাল) থেকে রোগীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে রিপোর্ট নিয়ে আসতে হচ্ছে।
জেলার রানীনগর উপজেলার আবাদপুকুর গ্রামের মেহেদী হাসানের বাবা আসাদুজ্জামান বলেন, হাসপাতাল থেকে শুধু স্যালাইন ও প্যারাসিটামল দেয়া হয়েছে। আর কোনো পরীক্ষা করা হয়নি। ঢাকাতে যা করা হয়েছিল এখানেও তাই। এখন ছেলে মোটামুটি সুস্থ আছে।
নওগাঁ সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. রওশন আরা খানম বলেন, ডেঙ্গু রোগী শনাক্তকরণে ১০০টি ‘এনএস-১’ কিটস নিয়ে আসা হয়েছে। যারা জ্বর নিয়ে হাসপাতালে আসছেন তাদের এ কিটস দিয়ে পরীক্ষা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৪০টি ‘এনএস-১’ শেষ হয়ে গেছে। এছাড়া ডেঙ্গু রোগ নির্ণয়ে ‘আইজিজি ও আইজিএম ডিভাইস’ লাগবে, সেগুলোর জন্য ঢাকায় যোগাযোগ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে স্যালাইন ও প্যারাসিটামল ট্যাবলেটের পর্যাপ্ত মজুদ আছে।
এদিকে জেলা সদর হাসপাতলে ডেঙ্গু কিটস না থাকায় আতঙ্কের মধ্যে আছেন নওগাঁবাসী। তারা দ্রুত ডেঙ্গু চিকিৎসার সরঞ্জাম সরবরাহের জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি দাবি জানিয়েছেন।
আব্বাস আলী/এমএমজেড/জেআইএম
আরও পড়ুন
সর্বশেষ - দেশজুড়ে
- ১ ১৬ মার্চ থেকে তেল উত্তোলন বন্ধের হুঁশিয়ারি পাম্প মালিকদের
- ২ ঝালকাঠিতে খাল খননে দেড় কোটি টাকা ব্যয়েও কাটেনি জলাবদ্ধতা
- ৩ কুমিল্লায় সড়কের ৫ হাজার ইট উধাও, উদ্ধার হলো গরুর খামার-পুকুর থেকে
- ৪ দীর্ঘদিন পর দেশে ফিরে দুই সহস্রাধিক এলাকাবাসীকে নিয়ে ইফতার প্রবাসীর
- ৫ ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রতি শনিবার চলবে পরিচ্ছন্ন কার্যক্রম