ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

ঝিনাইদহে জমেনি হাট, ব্যবসায়ীদের কপালে ভাঁজ

জেলা প্রতিনিধি | ঝিনাইদহ | প্রকাশিত: ০৩:৫২ এএম, ০৯ আগস্ট ২০১৯

ঝিনাইদহে কোরবানি পশুর হাটগুলোতে রয়েছে পর্যাপ্ত দেশি গরু সরবরাহ। ক্রেতারা হাট ঘুরে পছন্দের গরু কিনছেন কোরবানির জন্য। দাম নিয়ে তাদের কোনো অভিযোগ না থাকলেও এবার হাটে বেচা-বিক্রি কম বলছেন খামারি ও স্থানীয় ব্যাপারীরা।

প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের তথ্যমতে, এবার জেলায় কোরবানির জন্য ২৩৭টি খামার ও ব্যক্তিগতভাবে ৫৫ হাজার ৮৯৬টি গরু প্রস্তুত করা হয়েছে। জেলায় পশুর হাট বসছে ২৭টি, এর মধ্যে তিনটি অস্থায়ী।

শৈলকুপার গরু ব্যবসায়ী এনামুল হক জানান, কোনো ক্ষতিকর ওষুধ ছাড়াই খড়, কাঁচা ঘাস, গমের ভূসি, খৈলসহ বিভিন্ন প্রকারের প্রাকৃতিক খাবার খাইয়ে গরু মোটাতাজাকরণ করছেন। গত বছরের তুলনায় গোখাদ্যের দাম বেড়েছে দ্বিগুণ। তারপরও আশায় বুক বেঁধেছিলেন। কিন্তু এবার বিক্রি অনেক কম। বাজারে ক্রেতা না থাকায় লোকসানের মুখে পড়তে হচ্ছে তাদের।

cow

ঝিনাইদহ জেলার কিছু এলাকা ও গরুর হাটে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে একই চিত্র।

সদর উপজেলার সুরাট গ্রামের খামারি মিরাজ জানান, এবার কোরবানির ঈদে ১০টি গরু বিক্রির জন্য প্রস্তুত করেছিলেন। গরুগুলো ১৬ লাখ টাকায় বেচার স্বপ্ন ছিল তার। কিন্তু সে স্বপ্ন এখন ভেঙে গেছে। একই অবস্থা এ গ্রামের খামারি মতিয়ারের। এবার গরুর হাটে ৯টি গরু বিক্রি করবেন বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কিন্তু বর্তমান বাজারে তেমন বেচা-কেনা নেই। আসল টাকা উঠবে কি না শঙ্কায় রয়েছেন তিনিও।

কোরবানির পশু কিনতে আশা সাবিব আহম্মেদ জানান, হাট ঘুরে পছন্দের পশুটি কিনেছেন কোরবানির জন্য। এবার দাম স্বাভাবিক রয়েছে। তিনি বলেন, গত বছরের থেকে এবার বাজারে অনেক দেশি গরু রয়েছে। তবে এখনও তেমন একটা বেচা-কেনা দেখা যাচ্ছে না।

cow

স্থানীয় ব্যাপারীরা বলেন, আমরা গরু কিনে বাইরের বড় ব্যাপারীদের কাছে বিক্রি করি। এবার দেশে বন্যাসহ নানা কারণে বড় বড় ব্যাপারীদের দেখা মিলছে না হাটে। বাজারে ক্রেতাও নেই। এতে আমাদের লোকসান হচ্ছে। যেটুকু কিনছি জানি না ওপারে দাম পাব কি না। ফলে লোকসানের আশঙ্কা হচ্ছে।

কোরবানি পশুর হাট কমিটি জানায়, ব্যাপারী ও ক্রেতাদের নিরাপত্তার জন্য সকল ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এবার গরুপ্রতি হাটে খাজনা আদায় করা হচ্ছে ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা। তবে পশু বেচা-কেনা কম হাওয়ায় হাট কমিটিও আতঙ্কে রয়েছে হাট কিনে লোকসানের।

cow

জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিলু মিয়া বিশ্বাস বলেন, পশুর হাটে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। প্রতিটা হাটে পুলিশের কন্ট্রোল রুমের পাশাপাশি টহলদল ও জাল টাকা শনাক্তকারী মেশিন বসানো হয়েছে। পাশাপাশি মলম পার্টি কিংবা অন্য কোনো অভিযোগ আসলে সঙ্গে সঙ্গেই ব্যবস্থা নেয়া হবে। যাতে কেউ প্রতারণার শিকার না হয়।

আব্দুল্লাহ আল মাসুদ/বিএ