এক যুগ পর চালু হলো কলাপাড়া-ঢাকা লঞ্চ সার্ভিস
এক যুগ পর ফের পটুয়াখালীর কলাপাড়া থেকে ঢাকাগামী লঞ্চ চলাচল শুরু হয়েছে। শুক্রবার দুপুর ১২টায় আনুষ্ঠনিকভাবে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের মধ্যে দিয়ে প্রায় দুই শতাধিক যাত্রী নিয়ে বিলাসবহুল রয়েল ক্রুজ-২ নামের দোতালা লঞ্চটি ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যায়। এ সময় লঞ্চটি এক নজর দেখতে লঞ্চঘাটে ভিড় করে কয়েকশ উৎসুক জনতা।
এ নৌ রুটে লঞ্চ সার্ভিস চালু হওয়ার ফলে পর্যটকদের কুয়াকাটা যাতায়াত সহজ হবে। এছাড়া স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ঢাকার মোকাম থেকে মালামাল বহনও সহজ হবে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
লঞ্চঘাট সূত্রে জানা গেছে, লঞ্চটি প্রতিদিন ঢাকা থেকে সন্ধ্যা ৬টায় ছেড়ে আসবে। আবার দুপুর ১২টায় কলাপাড়া লঞ্চঘাট থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যাবে। পথে বালিয়াতলী, পায়রা বন্দর ও রাঙ্গাবালীর কোরালিয়া, ফেলাবুনিয়া আর গলাচিপায় ঘাটে থামবে। এ নৌ রুটে দুটি বিলাসবহুল লঞ্চ থাকবে বলে ঘাট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
লঞ্চটির প্রথম শ্রেণির মাস্টার মো. তাহাজ্জুদ শেখ জানান, সাউথ বাংলা শিপিং লাইনস লি. এম ভি রয়েল ক্রুজ-২ বিলাসবহুল লঞ্চে ৮টি ভিআইপি কেবিন, ৭টি ফ্যামিলি কেবিন, ৪৯টি ডাবল কেবিন, ৩৩টি সিঙ্গেল শিতাতপ নিয়ন্ত্রিত কেবিন রয়েছে। প্রতিটি ভিআইপি কেবিন ৬ হাজার টাকা, ফ্যামিলি কেবিন ৩ হাজার টাকা, ডাবল কেবিন ২ হাজার ৪০০ টাকা ও সিঙ্গেল কেবিন এক হাজার ২০০ টাকা ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া কলাপাড়া টু ঢাকা ডেক টিকিট জনপ্রতি ৪০০ টাকা।
কলাপাড়া ব্যবসায়ী সমিতির অর্থ সম্পাদক ফরিদ উদ্দিন বিপু বলেন, আবারও লঞ্চ যোগে ঢাকায় যাতায়াত করা যাবে। এটা কলাপাড়ার মানুষের জন্য সত্যিই আনন্দের সংবাদ।
ঘাট ইজারাদার তানভীর মুন্সি জানান, দীর্ঘদিন এ রুটে লঞ্চ চলাচল বন্ধ ছিল। অনেক চেষ্টার পর লঞ্চ সার্ভিস চালু করা সম্ভব হয়েছে। সকলের সহযোগিতা পেলে লঞ্চ সার্ভিসটি চালু থাকবে। আর এ লঞ্চ সার্ভিসের ফলে পর্যটকরা নির্বিঘ্নে কুয়াকাটায় আসতে পারবে।
পটুয়াখালী বিআইডব্লিটি’র সহকারী পরিচালক খাজা সাদিকুর রহমান জানান, এ রুটে লঞ্চ সার্ভিস চালু হওয়ার ফলে মানুষের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গছে। পর্যাপ্ত যাত্রী চলাচল করলে এ সার্ভিসটি চালু থাকবে।
উল্লেখ্য, প্রায় ১২ বছর আগে এ রুটে লঞ্চ সার্ভিস চালু ছিল। এক সময় এ এলাকার মানুষের ঢাকায় যাতায়াতের সহজ মাধ্যম ছিল লঞ্চ সার্ভিস। কিন্তু কোনো এক অদৃশ্য কারণে এ নৌ রুটে লঞ্চ চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ফলে দুভোর্গে পরে কলাপাড়াসহ রাঙ্গাবালী এলাকার সাধারণ যাত্রী ও ব্যবসায়ীরা।
আরএআর/পিআর