ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

১০টি করে প্লট নিলেন চেয়ারম্যান-নির্বাহী কর্মকর্তা-এস্টেট অফিসার

নিজস্ব প্রতিবেদক | রাজশাহী | প্রকাশিত: ১০:০৭ পিএম, ০১ অক্টোবর ২০১৯

প্লট কেলেঙ্কারিতে ফেঁসে যাচ্ছেন রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আরডিএ) সদ্য সাবেক চেয়ারম্যান বজলুর রহমানসহ ১০ কর্মকর্তা। তাদের বিরুদ্ধে নগরীর বনলতা আবাসিক এলাকার প্লট বরাদ্দ নিয়ে অনিয়মের মামলার অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রধান কার্যালয়।

অভিযোগের অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আল আমিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, অভিযোগের তদন্ত শেষে প্রধান কার্যালয়ে প্রতিবেদন পাঠিয়েছি। সেখান থেকে মামলার অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এ সংক্রান্ত কাগজপত্র আমার কার্যালয়ের উপপরিচালক জাহাঙ্গীর আলমের কাছে এসেছে। জাহাঙ্গীর আলম এখন আমাকে মামলা দায়েরের লিখিত অনুমতি দেবেন। এরপরই মামলা করব।

দুদকের এই কর্মকর্তা জানান, মামলায় আরডিএর সাবেক চেয়ারম্যানসহ ১০ কর্মকর্তাকে আসামি করা হবে। তবে উপপরিচালক জাহাঙ্গীর আলম এখন প্রশিক্ষণের জন্য ঢাকায় থাকায় মামলা দায়েরে বিলম্ব হচ্ছে। তিনি ফিরলেই মামলা হবে। আর এখন থেকে থানা কিংবা আদালত নয়, দুদকের কার্যালয়েই মামলা করা হবে। আরডিএর এই মামলাটিই হবে তাদের এই কার্যালয়ের প্রথম মামলা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বনলতা বাণিজ্যিক ও আবাসিক এলকার ৫৫ দশমিক ৬৭ কাঠা জমির ৩১টি প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির লিখিত অভিযোগ হয়েছিল দুদক চেয়ারম্যানের কাছে।

অভিযোগের প্রাথমিক ধরন বিবেচনা ও যাচাই-বাছাই শেষে দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালককে অভিযোগের প্রাথমিক অনুসন্ধানের নির্দেশ দেয়া হয়।

জুনের প্রথম দিকে প্লট কেলেঙ্কারির অনুসন্ধান কর্মকর্তা নিযুক্ত হন দুদকের সহকারী পরিচালক মো. আল আমিন। দায়িত্ব পেয়েই তিনি ২৪ জুন আরডিএর চেয়ারম্যানকে তথ্য সরবরাহের জন্য চিঠি দেন।

জুলাইয়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথিপত্র সরবরাহের জন্য নির্দেশ দেয়া হয়। এরপর আরডিএর পক্ষ থেকে দুদকের কাছে যেসব নথিপত্র জমা দেয়া হয়েছিল তাতে স্পষ্টভাবেই প্লট ভাগাভাগির বিষয়টি উঠে এসেছে।

এদিকে, দুদকে দেয়া অভিযোগে বলা হয় ২০১৩ সালে বনলতা আবাসিক প্রকল্পের ১৯৩টি সরকারি প্লট বরাদ্দ দেয়া হয় ক্ষতিগ্রস্তসহ মোট ১৫টি ক্যাটাগরিতে। ওই সময় প্রতি কাঠার দাম ছিল ৯ লাখ ৬০ হাজার টাকা।

মন্ত্রণালয়ের অনুমোদিত পরিপত্র অনুযায়ী শতকরা ৫ ভাগ হিসেবে আরডিএর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভাগে পড়ে মোট ১০টি প্লট। কিন্তু আরডিএর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে মাত্র চারজন প্লটের জন্য আবেদন করেন। ফলে আরডিএ কোটার অবশিষ্ট ছয়টি প্লট রেজুলেশন করে পরে অপেক্ষমান তালিকার অন্য কোটার আবেদনকারীদের মাঝে বরাদ্দ দেয়া হয়।

২০১৭ সালে একই প্রকল্পের অবশিষ্ট ৩১ প্লটের জন্য আবেদন নিয়ে একই হিসেবে প্লট ভাগ-বণ্টন করা হয়। তবে এবার রহস্যজনক কারণে ক্যাটাগরির সংখ্যা কমিয়ে নয়টি করা হয়। ক্ষতিগ্রস্ত কোটা রাখার বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের বাধ্যবাধকতা থাকলেও তাদের বাদ দেয়া হয়।

ক্ষতিগ্রস্তরা অভিযোগ করলেও তাদের আবেদন করারই সুযোগ দেয়া হয়নি। বঞ্চিতদের অভিযোগ, ২০১৭ সালের ৩১ মে আরডিএর চেয়ারম্যান বজলুর রহমান, তৎকালীন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কমলা রঞ্জন দাস ও এস্টেট অফিসার
বদরুজ্জামান চেয়ারম্যানের কক্ষে বসে নিজেদের মধ্যে প্লট ভাগ-বাটোয়ারা করে নেন।

সরকারি কোটা অনুযায়ী শতকরা ৫ ভাগ হিসেবে ৩১ প্লটের মধ্যে আরডিএর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভাগে পড়ে সর্বোচ্চ দুটি প্লট। কিন্তু এই ৩১ প্লটের মধ্যে চেয়ারম্যান, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, এস্টেট অফিসারসহ মোট ১০টি প্লট বরাদ্দ নেন।

বনলতার প্লটের বরাদ্দ তালিকা অনুযায়ী, আরডিএর তখনকার চেয়ারম্যান বজলুর রহমান নেন সবচেয়ে বড় আয়তনের সাত কাঠার একটি প্লট। প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা পাঁচ কাঠা ও এস্টেট অফিসার বদরুজ্জামান নেন ছয় কাঠার প্লট।

এছাড়া চেয়ারম্যানের পিয়ন ইউনুস আলী দুটি, অথোরাইজড অফিসারের পিয়ন রেজাউল করিম দুটি, আরডিএর নিম্নমান সহকারী শামসুন্নাহার নুন্নী দুটি, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার গাড়িচালক শরিফুল ইসলাম একটিসহ মোট ১০টি প্লট বরাদ্দ
নেন।

অভিযোগকারীরা বলেছেন, ৩১ প্লটে জমির পরিমাণ ৫৫ দশমিক ৬৭ কাঠা। এর মধ্যে আরডিএর কর্মকর্তা-কর্মচারীরাই নিয়েছেন ৩১ কাঠা। এই হিসাবে অর্ধেক প্লটই তারা নিয়েছেন। পূর্ব পরিকল্পনা মোতাবেক নিজেদের মধ্যে প্লট ভাগাভাগির জন্য ক্ষতিগ্রস্ত কোটায় কোনো প্লট বরাদ্দ দেয়া হয়নি। ২০১৩ সালে যে প্লটের দাম ৯ লাখ ৬০ হাজার টাকা ছিল, ৪ বছর পরও একই দামে প্লট দেয়া হয়েছে।

জানা গেছে, প্লটের মূল্যের ওপর আরডিএ শতকরা ১৩ ভাগ হারে সুদ গ্রহণ করে থাকে। এই হিসাবে ২০১৭ সালে কাঠা প্রতি এসব প্লটের দাম পড়ে ১৪ লাখ ৬০ হাজার টাকা। চার বছর আগের মূল্যে প্লট বরাদ্দের ফলে সরকারের ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৪ কোটি টাকা।

এসব অনিময় এবং মামলা অনুমোদনের বিষয়ে জানতে চাইলে আরডিএর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম কোনো কথা বলতে চাননি।

পড়ুন : দুর্নীতির আরও খবর

ফেরদৌস সিদ্দিকী/এএম/এমএস