স্বর্গে যাওয়ার ‘কল্প জাহাজ’ ভাসাতে দর্শনার্থীদের ভিড়
কক্সবাজারের রামু উপজেলার বাঁকখালী নদীতে স্বর্গে যাওয়ার ঐতিহ্যবাহী ‘কল্প জাহাজ’ ভাসানো উৎসবে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের ভিড় জমেছে।
মনকে আলোকিত করার আশায় প্রবারণা পূর্ণিমায় ফানুস ওড়ানোর পাশাপাশি রামুতে প্রতি বছর বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা স্বর্গে যাওয়ার ‘কল্প জাহাজ’ ভাসানোর এ উৎসবের আয়োজন করে। সোমবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত রামু বাজারের পূর্ব পাশের বাঁকখালী নদীতে চলে ‘কল্প জাহাজ’ ভাসানো উৎসব।
এবারও ভাসানো হয়েছে দৃষ্টিন্দন নয়টি ‘কল্প জাহাজ’। বাঁশ, কাঠ, বেত এবং রঙিন কাগজের ওপর কারুকাজে তৈরি এসব ‘কল্প জাহাজ’ ভাসানোকে ঘিরে বাঁকখালী নদীর দুই তীরে ছিল দর্শনার্থীদের ভিড়।
প্রধান অতিথি হিসেবে উৎসবের উদ্বোধন করেন কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল। বিশেষ অতিথি ছিলেন কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন, পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রণয় চাকমা, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) চাই থোয়াইলা চৌধুরী ও এটিএন নিউজের প্রধান নির্বাহী মুন্নী সাহা। পুরো আয়োজনকে জমিয়ে তোলেন সাংবাদিক মুন্নী সাহা।

উৎসবে দেখা যায়, পাঁচ-ছয়টি নৌকার ওপর বসানো হয়েছে একেকটি ‘কল্প জাহাজ’। রঙ-বেরঙের কাগজ আর বাঁশ-কাঠের অর্পূব কারুকাজে তৈরি প্রতিটি জাহাজই নজরকাড়া। আকর্ষণীয় নির্মাণশৈলী আর বৈচিত্র্যে ভরা প্রতিটি জাহাজেই বেজেছে বুদ্ধ কীর্তন-বুদ্ধ, ধর্ম, সংঘের নাম সবাই বলো রে ‘বুদ্ধের মতো এমন দয়াল আর নাইরে’। আবার কোনো কোনো জাহাজে নানা বাদ্য বাজিয়ে তারা নাচছে আর গাইছে। নদীতে ভাসতে ভাসতে জাহাজগুলো যাচ্ছে নদীর এপার থেকে ওপারে।
এবার ‘কল্প জাহাজ’ ভাসানোর জন্য হাই-টুপি, শ্রীকুল, পূর্ব মেরংলোয়া, জাদী পাড়া, উত্তর মিঠাছড়ি, হাজারিকুল, উত্তর ফতেখারকুল, দ্বীপ শ্রীকুল, পূর্ব রাজারকুলসহ ১০টি কল্পজাহাজ তৈরি করা হলেও মেরংলোয়া গ্রামের জাহাজটি উৎসবস্থলে আনা হয়নি। অন্যদিকে হাইটুপি গ্রামের জাহাজটিও নদীতে এনেও ভাসানো হয়নি।
স্থানীয় বৌদ্ধ নেতৃবৃন্দ জানান, গত ৩ অক্টোবর বৌদ্ধ ধর্মীয় গুরু, রামু কেন্দ্রীয় সীমা মহা বিহারের অধ্যক্ষ পণ্ডিত সত্যগ্রিয় মহাথেরের মহাগ্রয়াণে বৌদ্ধ সমাজে এখনো শোকাবহ পরিবেশ বিরাজ করছে। ফলে আগে থেকে আয়োজন করেও অনেক বৌদ্ধ গ্রাম উৎসবে যোগ দেয়নি। ফলে এবার আমেজ কম।
সায়ীদ আলমগীর/এএম/এমকেএইচ