কাভার্ডভ্যানে গ্যাস বিক্রি, যেকোনো সময় ঘটবে বিস্ফোরণ
নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে লক্ষ্মীপুরের রায়পুর ও রামগঞ্জ উপজেলার দুটি জনবহুল স্থানে কাভার্ডভ্যানের মাধ্যমে সিলিন্ডার থেকে সিএনজি গ্যাস বিক্রি করা হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ ভ্রাম্যমাণ এসব গ্যাস স্টেশন থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও অন্যান্য যানবাহনে গ্যাস সরবরাহ করা হয়। স্থানীয় কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতার মদদে প্রকাশ্যে এ অবৈধ কার্যক্রম চলছে।
গত ১৯ আগস্ট রায়পুরে কাভার্ডভ্যানের গ্যাস স্টেশনে অভিযান চালিয়ে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। তখন স্টেশনটি বন্ধ করে দেয়া হয়। এরপর আবারও কার্যক্রম শুরু হয়।
অভিযোগ রয়েছে, অভিযানের পর কয়েকদিন বন্ধ থাকলেও প্রশাসনকে ম্যানেজ করে আবারও গ্যাস স্টেশনটি চালু করা হয়। এ অবস্থায় নীরব ভূমিকা পালন করছে প্রশাসন। এ নিয়ে স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ।

অন্যদিকে সরকারের শীর্ষস্থানীয় একটি গোয়েন্দা সংস্থা লক্ষ্মীপুর থেকে এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রতিবেদন দিয়েছে। এতে প্রশাসনের দায়িত্বহীন ভূমিকার কথা উল্লেখ করে দুর্ঘটনায় এড়াতে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করা হয়।
গত আগস্ট মাসে অনুষ্ঠিত জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় অবৈধভাবে গ্যাস সরবরাহের বিষয়টি উত্থাপন করেন রায়পুর পৌরসভার মেয়র ইসমাইল খোকন। তিনি বলেন, সড়কের পাশে কাভার্ডভ্যানে রাখা সিলিন্ডার থেকে গ্যাস বিক্রি করা হচ্ছে। জনবসতিপূর্ণ এলাকায় এটি স্থাপন করায় যেকোনো সময় মারাত্মক দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। দুর্ঘটনার আগেই জরুরি ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রায়পুর ও রামগঞ্জে কাভার্ডভ্যানে রেখে গ্যাস বিক্রি করছে স্বদেশ গ্লোরি এগ্রো নামের প্রতিষ্ঠান। রায়পুর উপজেলার চরপাতার সিংহের পুলে ও রামগঞ্জ পৌরসভার আঙ্গারপাড়ার জোড় কবরস্থান এলাকায় ওই প্রতিষ্ঠান দুটি কাভার্ডভ্যানে করে গ্যাস বিক্রি করছে।
স্বদেশ গ্লোরি এগ্রো গ্যাস স্টেশনের পরিচালক আল আমিন ও মুজিব উল্যা পাটোয়ারি জানান, তাদের স্টেশনে জৈব গ্যাস এনে যানবাহনে সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে ঝুঁকির কিছু নেই। সারাদেশে এ ধরনের গ্যাস স্টেশন রয়েছে।

লক্ষ্মীপুর ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক ইকবাল হোসেন বলেন, অনুমোদন ছাড়াই জনবহুল এলাকায় ভ্রাম্যমাণ গ্যাস স্টেশনগুলো গ্যাস বিক্রি করছে। কর্তৃপক্ষকে গ্যাস পাম্পগুলো বন্ধ করতে বলা হলেও করছে না। এটি বন্ধ না হলে যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটবে।
রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাবরীন চৌধুরী বলেন, এ নিয়ে উচ্চ আদালতে রিট চলছে। আদালতের রায় পেলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
বাংলাদেশ বিস্ফোরক পরিদপ্তরের প্রধান পরিদর্শক সামসুল ইসলাম বলেন, কাভার্ডভ্যানে সিলিন্ডার রেখে অবৈধভাবে গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। বিষয়টি আমরা শুনেছি। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্টদের চিঠি দেয়া হয়েছে।
কাজল কায়েস/এএম/এমএস