ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

ভোলায় হাজার হেক্টর ফসলের ক্ষতি

জেলা প্রতিনিধি | ভোলা | প্রকাশিত: ০৭:০৮ পিএম, ১১ নভেম্বর ২০১৯

ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে ও অতি বৃষ্টিতে এক হাজার হেক্টরেরও বেশি জমির আমন ধান ও বিভিন্ন ধরনের শীতকালীন সবজির আবাদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ভোলায়। ফলে বড় ধরনের লোকসানের আশঙ্কায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন জেলার কৃষকরা। বিশেষ করে যারা বিভিন্ন ব্যাংক ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে আবাদ করেছেন তারা সরকারি সহায়তা না পেলে বিপাকে পড়বেন।

এ অবস্থায় কৃষকদের সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে নতুন করে আবারও আবাদ করার পরামর্শ দিয়েছে কৃষি বিভাগ।

সরেজমিনে কৃষকদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, উপকূলীয় দ্বীপ জেলা ভোলায় প্রান্তিক চাষীরা সাধারণত বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করেন। পরে ফসল বিক্রি করে সেই ঋণ পরিশোধ এবং সংসার চালান।

Bhola-Agricultural-Damage2

এবারও বুকভরা আশা নিয়ে তারা আমন ধান ও শীতকালীন সবজির আবাদ করেছিলেন। ধারদেনা করে হলেও নিয়মিত সার, ওষুধ দেয়াসহ পরিচর্যায় ব্যস্ত ছিলেন তারা। কিন্তু হঠাৎ প্রকৃতির বৈরি আচরণ তাদের সেই আশা ভেঙে তছনছ করে দিয়েছে। ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে টানা তিনদিনের ভারি বর্ষণে তলিয়ে গেছে ক্ষেতের ফসল। ভেসে গেছে তাদের স্বপ্ন।

ভোলা সদরের দিঘলদী ইউনিয়নের কৃষক আনিছুল হক জানান, কৃষি ব্যাংক ও বিভিন্ন এনজিও থেকে দেড় লাখ টাকা ঋণ নিয়ে এ বছর আমনের আবাদ করেছিলেন। হঠাৎ ঝড় ও অতি বৃষ্টিতে ভেঙে পড়েছে ফসল, তলিয়ে গেছে ক্ষেত। এতে ফসল ঘরে তুলতে পারবেন কি না সন্দেহ রয়েছে।

একই এলাকার কৃষক মো. জামাল হোসেন জানান, কৃষি কাজ করে বাপ-দাদার আমল থেকে সংসার চলে। এবার ঋণ নিয়ে আমন ফসল করেছি। ক্ষেতের অনেক ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। এখন সরকার যদি কোনো সহযোগিতা না করে তাহলে ঋণের কিস্তি পরিশোধের ভয়ে ঘর-বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে থাকতে হবে।

কুড়ালিয়া ইউনিয়নের সবজি চাষি গৌতম চন্দ্র জানান, এ বছর ২ লাখ টাকা খরচ করে সিম চাষ করেচিলেন। আর কয়েকদিন পর বাজারে সিম বিক্রি করতে পারতেন। কিন্তু ঝড় ও বৃষ্টিতে ক্ষেত তলিয়ে গাছের গোরায় পচন শুরু হয়েছে। ফলে তার মতো অনেক কৃষকই এ বছর মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। এখন সরকারি সহযোগিতা পেলে হয়তো ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করতে পারবেন তারা।

Bhola-Agricultural-Damage2

ভোলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ভোলায় ১ লাখ ৭৯ হাজার ২৮০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধানের আবাদ হয়েছে। তার মধ্যে দুর্যোগে আক্রান্ত হয়েছে ৫৩ হাজার ৭৮৩ হেক্টর। অপরদিকে শীতকালীন সবজির আবাদ হয়েছিল ২ হাজার ৭৪২ হেক্টর জামিতে। বৃষ্টিতে নষ্ট হয়েছে ৭৪২ হেক্টর জমির ফসল। এছাড়া জেলায় ২১৮ হেক্টর জমির আগাম জাতের খেসারি, ৪৪ হেক্টরের পান ও ৭ হেক্টরের আখ পানিতে তলিয়ে গেছে।

ভোলা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বিনয় কৃষ্ণ দেবনাথ জানান, কৃষকরা হতাশ না হয়ে নতুন করে আবার আবাদ শুরু করলে ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব।

তিনি আরও জানান, কৃষকদের ক্ষয়-ক্ষতির তালিকা তৈরি করা হয়েছে। আমরা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রণোদনা দিয়ে সহযোগিতা করব।

এদিকে কৃষকরা দ্রুত নতুন করে আবাদ শুরু না করলে ভোলায় ধান ও সবজির সংকট দেখা দেবে। তাই সরকারের পক্ষ থেকে কৃষকদের দ্রুত সহযোগিতা দেয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

এছাড়া অতি বৃষ্টির কারণে ভোলা সদরের ইলিশা, রিয়াদ, মায়ের দোয়া ও সাবাব বিক্সসহ ৬৩টি ব্রিক্স ফিল্ডের কয়েক লাখ কাঁচা ইট গলে যাওয়ায় কয়েক কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন মায়ের দোয়া ব্রিক্সের মালিক মো. আমির হোসেন। তিনিও সরকারি সহযোগিতার দাবি জানান।

জুয়েল সাহা বিকাশ/এমএমজেড/এমএস