ছিনতাইকারীদের কোপেও টাকার ব্যাগ ছাড়লেন না এনজিও কর্মকর্তা
নগরবাড়ি ঘাট
ছিনতাইকারীদের উপর্যুপরি কোপেও টাকার ব্যাগ রক্ষা করলেন বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) ‘আশা’র ঋণ কর্মকর্তা হারুন রশিদ (৩২)। সোমবার (১৮ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে পাবনার বেড়া উপজেলার নগরবাড়ি ঘাটে প্রকাশ্যে শত শত মানুষের সামনে ছিনতাইকারীরা তাকে কুপিয়ে গুরুতর যখম করে।
আহত হারুন রশিদ সুজানগর উপজেলার উলাট গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে। তাকে আশঙ্কাকাজনক অবস্থায় প্রথমে পাবনা জেনারেল হাসাপাতালে এবং পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। বর্তমানে তিনি রামেকের আইসিইউতে ভর্তি।
প্রত্যক্ষদর্শী এবং ‘আশা’র পাবনা আঞ্চলিক কার্যালয়ের কর্মকর্তারা জানান, হারুন বেড়া উপজেলার নান্দিয়ারা এলাকা থেকে ক্ষুদ্র ঋণের আদায় করা ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা নিয়ে অফিসে ফিরছিলেন। বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে তিনি পাবনা-নগরবাড়ি মহাসড়কের নগরবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির সামনে পৌঁছলে মোটরসাইকেল আরোহী দুই ছিনতাইকারী হারুনের টাকা ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। তিনি টাকার ব্যাগ না ছাড়ায় ছিনতাইকারীরা তার ঘাড়ে, বুকে ও পেটে উপর্যুপরি কোপায়। এ সময় হারুনের পেটের নাড়িভুঁড়ি বেরিয়ে যায়। কিন্তু তিনি টাকার ব্যাগ ছাড়েননি। টাকা নিতে ব্যর্থ হয়ে ছিনতাইকারীরা পরে মুজিব বাঁধ হয়ে সুজানগরের দিকে চলে যায়।
পরে স্থানীয়রা হারুনকে উদ্ধার করে প্রথমে পাবনা জেনারেল হাসাপাতালে ভর্তি করে। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাকে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। বর্তমানে তিনি রামেকের আইসিইউতে ভর্তি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা অভিযোগ করেন, পুলিশ ফাঁড়ির মাত্র ১০ গজ দূরে ছিনতাইকারীরা এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটালেও কোনো পুলিশ সদস্য বের হননি। পুলিশ ফাঁড়ির পেছন থেকে মাদরাসার শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় অন্যরা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে।
এ বিষয়ে আমিনপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মমিনুল ইসলাম বলেন, পুলিশ ছিনতাইকারীদের ধরার চেষ্টা করছে।
নগরবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির কোনো সদস্য ছিনতাই প্রতিরোধে এগিয়ে আসেনি কেন- এমন প্রশ্নের জবাবে ওসি বলেন, ওটা নৌপুলিশ ফাঁড়ি। আমাদের নিয়ন্ত্রণে নয়।
একে জামান/আরএআর/এমকেএইচ