লাখে ৩ হাজার টাকা ঘুষ নেন সাব-রেজিস্ট্রার রহমত
কলমাকান্দা উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়
নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রার রহমত উল্লাহ লতিফের বিরুদ্ধে ঘুষ, দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সাব-রেজিস্ট্রারের ঘুষ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন দলিল লেখকরা।
কর্মবিরতি কর্মসূচির কারণে সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে দলিল সম্পাদনের কাজ বন্ধ হয়ে গেছে। এতে করে জমি ক্রেতা ও বিক্রেতারা তাদের দলিল সম্পাদন নিয়ে বিপাকে পড়েছেন।
বৃহস্পতিবার (০৫ ডিসেম্বর) সকাল থেকে কর্মসূচি পালনের পাশাপাশি সমিতির ৪৫ জন সদস্য স্বাক্ষরিত একটি লিখিত অভিযোগ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন দলিল লেখক সমিতির সভাপতি আক্তার হোসেন।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়, দলিল সম্পাদনে ১ লাখ টাকায় তিন হাজার ১০০ টাকা করে ঘুষ না দিলে দলিল সম্পাদন করেন না সাব-রেজিস্ট্রার রহমত উল্লাহ। কমিশনে দলিল করার ক্ষেত্রে সাত থেকে ১৫ হাজার টাকা ঘুষের বাইরেও প্রতি লাখে পাঁচ হাজার টাকা করে অতিরিক্ত আদায় করেন। নকল সরবরাহসহ অন্যান্য কাগজপত্র সরবরাহে ঘুষ বাবদ নেন এক হাজার টাকা। ঘুষ না দিলে দলিল লেখক, দলিলের দাতা ও গ্রহীতাদের সঙ্গে অসদাচরণ করেন তিনি।
সাব-রেজিস্ট্রারের এই ঘুষ, দুর্নীতি থেকে পরিত্রাণ পেতে জেলা প্রশাসক, জেলা রেজিস্ট্রার, দুদকসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অভিযোগের অনুলিপি দেয়া হয়ে বলে জানিয়েছেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক গোপাল তালুকদার।
গোপাল তালুকদার বলেন, সাব-রেজিস্ট্রার রহমত উল্লাহ লতিফকে প্রত্যাহারসহ তার অনিয়ম ও দুর্নীতির নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় কোনো দলিল লেখক কাজ করবেন না।
কলমাকান্দা বাজারের বাসিন্দা মো. রতন মিয়া তার একখণ্ড জমি বিক্রি করেছেন প্রতিবেশি চায়না আক্তারের কাছে। বৃহস্পতিবার দলিল সম্পাদন করতে গিয়ে দলিল করে দিতে পারেননি তিনি।
তিনি বলেন, সাব-রেজিস্ট্রারের দুর্নীতি নিয়ে দলিল লেখকরা কর্মবিরতি পালন করায় দলিল করতে পারিনি। অথচ দলিল করে দিতে পারলে জমি বেচার টাকা পেতাম। টাকাটা আমার খুবই দরকার। হয়রানিতে পড়ে গেলাম।
একই ধরনের অবস্থার কথা জানিয়েছেন, রায়পুর গ্রামের ইসমাইল হোসেন। এরকম অনেকেই দলিল করতে না পেরে ফিরে গেছেন বাড়িতে।
তবে ঘুষ, দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কলমাকান্দা উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রার রহমত উল্লাহ লতিফ। তিনি বলেন, এসব অভিযোগ মিথ্যা।
কামাল হোসাইন/এএম/পিআর