ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

দুই লঞ্চের সংঘর্ষে নিহত হুমায়ূনের বাড়িতে শোকের মাতম

জেলা প্রতিনিধি | শরীয়তপুর | প্রকাশিত: ০৩:৩১ পিএম, ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯

নারায়ণগঞ্জের সীমানাধীন চরকিশোরগঞ্জ এলাকার মেঘনা নদীতে দুই লঞ্চের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত হুমায়ূন কবির বন্দুকছির গ্রামের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। শনিবার সকালে তার মৃত্যুর সংবাদ শোনার পর স্বজনেরা কান্নায় ভেঙে পড়েন।

নিহত হুমায়ূন কবির বন্দুকছি শরীয়তপুর জেলার ভেদরগঞ্জ উপজেলার রামভদ্রপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের রামভদ্রপুর গ্রামের মৃত মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই বন্দুকছির ছেলে। তিনি ঢাকার উত্তরা ১৪ নম্বর সেক্টরে একটি প্রাইভেট কোম্পানির গাড়িচালক ছিলেন।

শনিবার ঢাকা থেকে মরদেহ এনে জানাজা শেষে গ্রামের কবরস্থানে দাফন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।

গ্রামবাসী ও নিহতর পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হুমায়ূন তার পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তাকে হারিয়ে পরিবারের সদস্যরা শোকে পাথর ও দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। নাইম কবির (৬) নামের তার একটি ছেলে রয়েছে। নাইম ৩নং রামভদ্রপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

হুমায়ূনের স্ত্রী সিমা আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, শুক্রবার ছুটি ছিল তাই গ্রামের বাড়িতে আসেন তিনি। পরে রাতের লঞ্চে শরীয়তপুরের সুরেশ্বর থেকে ঢাকা সদরঘাট রওনা দেয়। রাত ১টার দিকে দ‌ুই লঞ্চের মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘুমন্ত অবস্থায় আমার স্বামী নিহত হন। এখন আমি ছেলেকে নিয়ে কোথায় যাব? কী করব?

নিহত হুমায়ূনের চাচাতো ভাই ফারুক বন্দুকছি বলেন, আমি ঢাকা ছিলাম। হুমায়ূন ভাইয়ের মৃত্যুর কথা শুনে তাকে লঞ্চে উদ্ধার করতে যাই। এমন মর্মান্তিক দৃশ্য আমি কোনো দিন দেখি নাই। তিনি শরীয়তপুর থেকে ঢাকাগামী মানিক-৪ লঞ্চের দোতলার ফ্লোরে ঘুমিয়ে ছিলেন। হঠাৎ আরেকটি লঞ্চের সঙ্গে সংঘর্ষে হলে তার দুই পা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। শনিবার সকালে পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তর জন্য মিডফোর্ড হাসপাতালে নিয়ে যায়। ময়নাতদন্ত শেষে গ্রামের বাড়িতে পারিবারিক কবরস্থানে মরদেহ দাফন করা হয়েছে।

হুমায়ূনের শ্বশুর নুর মোহাম্মদ বলেন, আমার মেয়ে ও নাত‌িকে রেখে হুময়ায়ূন চলে গেল। তার পরিবারটির জন্য সরকারের কাছে সাহায্য সহযোগিতা চাই।

রামভদ্রপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিপ্লব সিকদার বলেন, আমি কীভাবে এদের পরিবারকে সান্ত্বনা দেব, সে ভাষা আমার জানা নেই। তবে তাদের পাশে থাকার চেষ্টা করব।

শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক কাজী আবু তাহের বলেন, ভেদরগঞ্জ ইউএনওর মাধ্যমে শোকাহত পরিবারের খোঁজ-খবর নিয়েছি। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শোকাহত পরিবারকে সহায়তা করা হবে।

উল্লেখ্য, শুক্রবার দিবাগত রাত ১টার দিকে নারায়ণগঞ্জের সীমানাধীন চরকিশোরগঞ্জ এলাকার মেঘনা নদীতে ঢাকা থেকে চাঁদপুরগামী বোগদাদিয়া-১৩ ও শরীয়তপুর থেকে ঢাকাগামী মানিক-৪ লঞ্চের মুখোমুখি সংঘর্ষে হুমায়ন কবির বন্দুকছি নিহত হন। পরে শনিবার সকাল ৮টার দিকে পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তর জন্য মিডফোর্ড হাসপাতালে নেয়। এ ঘটনায় দুই লঞ্চের অন্তত ১৫ যাত্রী নিখোঁজ রয়েছেন।

মো. ছগির হোসেন/এমবিআর/জেআইএম