ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

সম্পত্তির লোভে নিঃসন্তান ফুফুকে হত্যা করেন ধ্রুব

জেলা প্রতিনিধি | যশোর | প্রকাশিত: ০৯:০৬ পিএম, ১৮ ডিসেম্বর ২০১৯

যশোরের অভয়নগরে জোসনা মন্ডল (৬৫) হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। মঙ্গলবার রাতে এই হত্যাকাণ্ডের মূল আসামি নিহত জোসনার ভাতিজা (ভাইয়ের ছেলে) ধ্রুব মন্ডলকে (৪৪) আটক করা হয়েছে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধ্রুব তার পিসি (ফুফু) জোসনাকে হত্যার কথা স্বীকার করেন। স্বীকারোক্তিতে ধ্রুব জানান, নিঃসন্তান পিসির জমি ও বাড়িঘরের লোভে তিনি এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। আজ বুধবার আদালতেও একই জবানবন্দি দেন তিনি।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআইর উপ-পরিদর্শক (এসআই) শরিফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

নিহত জোসনা মন্ডল উপজেলার ডুমুরতলা গ্রামের মৃত রাজেন্দ্রনাথ মন্ডলের স্ত্রী। আসামি ধ্রুব মন্ডল একই গ্রামের মৃত সুবল মন্ডলের ছেলে এবং জোসনা মন্ডলের ভাতিজা।

পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত ২৩ মার্চ পুলিশ জোসনা মন্ডলের বাড়ি থেকে তার লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় অভয়নগর থানার এসআই জিয়াউর রহমান বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা করেন। পরে গত ৫ মে পিবিআই মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে। প্রথমে এসআই আক্তার হোসেন ও পরে এসআই শরিফুল ইসলাম মামলাটির তদন্ত করেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা হত্যার বিভিন্ন দিক, তথ্য-উপাত্ত এবং তথ্য-প্রযুক্তির সাহায্যে মূল অভিযুক্ত ধ্রুবকে শনাক্ত করেন। মঙ্গলবার রাতে অভয়নগরের কুলটিয়ার তিন তারা ক্লাবের সামনে থেকে ধ্রুবকে আটক করা হয়।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পিবিআইর উপ-পরিদর্শক শরিফুল ইসলাম জানান, আটকের পর ধ্রুব তার পিসি জোসনা মন্ডলকে হত্যার কথা স্বীকার করেন। তিনি জানান, নিঃসন্তান জোসনা মন্ডলের স্বামী মারা যাওয়ার পর ৭ শতক জমির বাড়িতে একাই বসবাস করতেন তিনি। জোসনা তাকে (ধ্রুব) প্রায়ই এই জমিতে ঘর নির্মাণ করে বসবাস করার জন্য বলতেন। কিন্তু ধ্রুব তার নামে জমি লিখে দেয়ার দাবি করে আসছিলেন। এ নিয়ে জোসনার সঙ্গে তার বিবাদও হয়। জোসনার ধারণা ছিল, জমি লিখে দিলে ধ্রুব তা বিক্রি করে দিতে পারে।

এনিয়ে গত ২১ মার্চ সর্বশেষ বিবাদের পরদিন ধ্রুব মন্ডল স্ত্রী ও ছেলেকে নিয়ে আন্দা গ্রামে ভায়রার বাড়ি বেড়াতে যান। যাওয়ার পথে ধ্রুব মন্ডলের বাইসাইকেল নষ্ট হলে স্ত্রী ও ছেলেকে বাইসাইকেলসহ তার ভায়রার বাড়ি পাঠিয়ে দিয়ে নামযজ্ঞ অনুষ্ঠান দেখার জন্য পিসির বাড়ি ডুমুরতলায় আসেন তিনি। ২২ মার্চ বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে নামযজ্ঞ অনুষ্ঠান শেষে ধ্রুব পিসির বাড়িতে গিয়ে দেখেন জোসনা ঘুমিয়ে রয়েছে। এ সময় ধ্রুব ক্রোধেরবশে জোসনা মন্ডলের গলায় শাড়ি পেঁচিয়ে ও ইট দিয়ে আঘাত করে হত্যা করে পালিয়ে যায়।

মঙ্গলবার ধ্রুবকে আটকের পর বুধবার আদালতে সোপর্দ করা হয়। জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মঞ্জুরুল ইসলামের আদালতে ধ্রুব তার পিসি জোসনাকে হত্যার কথা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।

মিলন রহমান/এমবিআর/এমএস