কক্সবাজারে সকাল-সন্ধ্যায় তিন ‘বন্দুকযুদ্ধ’
প্রতীকী ছবি।
কক্সবাজারের তিন উপজেলায় একদিনে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে এক রোহিঙ্গাও রয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকাল ও সন্ধ্যায় র্যাবের সঙ্গে এবং নিজেদের মাঝে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ তারা নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
র্যাব-১৫ এর উপ-অধিনায়ক মেজর রবিউল ইসলাম জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার কালামারছাড়া ইউনিয়নের নোনাছড়িতে র্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ জয়নাল আবেদীন ওরফে জয়নাল ডাকাত (৩০) নিহত হন। এলাকার পূর্ব নোনাছড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত জয়নাল ওই এলাকার মুফিজুর রহমান প্রকাশ মজু বলীর ছেলে।
র্যাব কর্মকর্তা জানান, সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারে পূর্ব নোনাছড়ি এলাকায় অভিযানে যায় র্যাবের একটি দল। র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে গুলি ছোড়ে সন্ত্রাসীরা। আত্মরক্ষার্থে র্যাবও পাল্টাগুলি চালায়। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে তালিকাভুক্ত ডাকাত জয়নাল আবেদীন নিহত হন। এ সময় একই এলাকার এলাদনের ছেলে সন্ত্রাসী শাহজাহান (৩৩) ও ফজল করিমের ছেলে আবছারকে (৩৫) গ্রেফতার করার পাশাপাশি ঘটনাস্থল থেকে একটি বন্দুক ও তিন রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
অপরদিকে কক্সবাজারের চকরিয়ায় ডাকাতদলের মধ্যে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ উপকূলের ত্রাস ১৭ মামলার পলাতক আসামি দুর্ধর্ষ ডাকাত সর্দার আনোয়ার হোসেন ওরফে আনু ডাকাত (৪২) নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৯ ডিসেম্বর) ভোররাতে উপজেলার সুরাজপুর-মানিকপুর ইউনিয়নের সুরাজপুরের কালাইয়ার গোদা পাহাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন চকরিয়া থানার ওসি হাবিবুর রহমান।
পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আনু ডাকাতের মরদেহ ও ডাকাতদলের ফেলে যাওয়া একটি এলজি, চার রাউন্ড কার্তুজ ও ৯ রাউন্ড ব্যবহৃত গুলির খোসা উদ্ধার করেছে। নিহত আনোয়ার হোসেন ওরফে আনু ডাকাত চকরিয়া উপজেলার চিরিঙ্গা ইউনিয়নের লাল মোহাম্মদ পাড়ার মুজিব উল্লাহ ওরফে কিনাইয়া ডাকাতের ছেলে।
ওসি হাবিবুর রহমান জানিয়েছেন, আনোয়ার হোসেন ওরফে আনু চকরিয়ার উপকূলীয় চিংড়ি জোনের ত্রাস। তার বিরুদ্ধে খুন, ডাকাতি, হত্যা, অস্ত্র, সন্ত্রাসী কার্যকলাপ, পুলিশ অ্যাসল্ট, ডাকাতির প্রস্তুতিসহ ১৭টি মামলা রয়েছে। এসব মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানাও ছিল। তন্মধ্যে ১৬টি মামলা চকরিয়া থানার এবং একটি মহেশখালীর।
ওসি আরও জানান, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সশস্ত্র ডাকাতদলের দুইপক্ষে এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় হত্যা ও অস্ত্র আইনে দুইটি মামলা রুজু হয়েছে।
অন্যদিকে টেকনাফে র্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ আলোচিত রোহিঙ্গা ডাকাত আব্দুল করিম (৩৮) নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার ভোরে টেকনাফ স্থলবন্দর সংলগ্ন ট্যুরিস্ট পার্ক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
র্যাব জানায়, নিহত করিম ডাকাতি, মাদক এবং অপহরণ কারবারে জড়িত ছিলেন। ঘটনাস্থল থেকে একটি দেশীয় অস্ত্র, ১০ হাজার পিস ইয়াবা, ৩ রাউন্ড তাজা কার্তুজ ও দুটি খালি খোসা উদ্ধার করা হয়েছে।
করিম টেকনাফের হ্নীলার লেদা ২৪ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকার ডি ব্লকের আব্দুস সালামের ছেলে। তার বিরুদ্ধে থানায় খুন, ডাকাতি, অপহরণ ও মাদকের একাধিক মামলা রয়েছে।
র্যাব-১৫ টেকনাফ ক্যাম্পের ইনর্চাজ লেফটেন্যান্ট মির্জা শাহেদ মাহাতাব (এক্সবিএন) জানান, ভোরে মাদক পাচারের জন্য টেকনাফ স্থলবন্দর সংলগ্ন বরইতলী এলাকায় একদল ডাকাতের অবস্থানের সংবাদে র্যাবের বিশেষ টহল দল সেখানে যায়। র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে তাদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালায় তারা। আত্মরক্ষার্থে র্যাবও পাল্টাগুলি চালায়। বেশ কিছুক্ষণ গুলি বিনিময়ের পর ডাকাতরা পাহাড়ের দিকে পালিয়ে যায়।
পরে ওই এলাকায় তল্লাশি করে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় একজনকে উদ্ধার করে টেকনাফ হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন। সেখানে নেয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় টেকনাফ থানায় পৃথক মামলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ।
সায়ীদ আলমগীর/বিএ
সর্বশেষ - দেশজুড়ে
- ১ ঈদের দিনও পরম মমতায় বেওয়ারিশ বৃদ্ধের দাফন করলো ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘর’
- ২ কুমিল্লায় বাস-ট্রেন সংঘর্ষ: ডাউন লাইন দিয়ে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক
- ৩ ফেনীতে দুই চালকের ঝগড়ার সময় আরেক বাসের ধাক্কা, নিহত ৩
- ৪ কুমিল্লায় বাস-ট্রেন সংঘর্ষ: কারণ জানতে দুই তদন্ত কমিটি
- ৫ ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে যুবক নিহত, খবর শুনে দাদার মৃত্যু