ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

৬ হাজার টাকা দিয়েও ঘুরছেন ৬ মাস

জেলা প্রতিনিধি | গাইবান্ধা | প্রকাশিত: ০৪:৫৩ পিএম, ২০ ডিসেম্বর ২০১৯

সারাদেশের উপজেলা ভূমি অফিসে জমির খারিজ বা নামজারির জন্য সরকার নির্ধারিত ফি সাড়ে ১১শ থেকে ১২শ টাকা। অথচ গাইবান্ধার সাঘাটায় ৬ হাজার টাকা ঘুষ দিয়ে ৬ মাস ধরে ঘুরেও খারিজ বা নামজারি করা সম্ভব হচ্ছে না। এ অবস্থায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

অভিযোগ রয়েছে অতিরিক্ত টাকা ছাড়া কোনো খারিজ হয় না সাঘাটা উপজেলা ভূমি অফিসে। যদিও বড় স্যার (উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা) ঘুষ নেন না। কিন্তু বাকি সবাইকেই পদে পদে টাকা দিতে হয়, এমন অভিযোগ সেখানকার উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমানের। তার দাবি অফিসের কেউ কেউ ঘুষ না নিলে তিনিও নেবেন না। তবে, উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা জানান, এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সরেজমিনে দেখা যায়, সাঘাটা উপজেলা ভূমি অফিসের যাত্রী ছাউনির নিচে চলছে সাঘাটা ও ঘুড়িদহ ইউনিয়নের ভূমি অফিসের কার্যক্রম। কারণ এ দুই ইউনিয়নের দায়িত্বে থাকা উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মাহাবুর রহমান সরকার নির্ধারিত ফির চেয়ে চারগুণ টাকা নেন। তাই তাকে ক্লোজড করে উপজেলা সদরে রাখা হয়েছে গতিবিধি নজরে রাখতে।

হাসিলকান্দি গ্রামের বাসিন্দা নাজমুল ইসলাম জানান, ৬ মাস যাবত সাঘাটা ভূমি অফিসে ঘুরছি জমির খারিজের জন্য, কিন্তু হচ্ছে না। আজ নয় কাল, কাল নয় পরশু- এভাবে ঘুরতে ঘুরতে জীবন শেষ। তবুও মিলছে না খারিজ। সরকার নির্ধারিত ফি ১২শ টাকা। কিন্তু কাজ দ্রুত করার জন্য ৬ হাজার টাকা দিয়েছি, তবুও হচ্ছে না। জানি না আর কতোদিন লাগবে।

তার মতো একই অবস্থা উপজেলার সাঘাটা গ্রামের শামীম বেপারির। জানান, পারিবারিক প্রয়োজনে জমি বিক্রি করতে খারিজের জন্য আসেন সাঘাটা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে। সেখানকার দায়িত্বে থাকা উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান তার কাছ থেকে সাড়ে ৪ হাজার টাকা ঘুষ নিয়ে বলেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যেই খারিজ/নামজারী কাগজ বুঝিয়ে দেয়া হবে। কিন্তু এরপর ২ মাস কেটে গেলেও মেলেনি সেই খারিজ বা নামজারি।

jagonews

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরও করেয়কজন জানান, সাঘাটা উপজেলা ভূমি অফিসের সার্টিফিকেট সহকারী আয়েশা সিদ্দিকা জমি খারিজ বাবদ দলিল যাচাইবাছাই করতে ২ থেকে ৪ হাজার টাকা ঘুষ নেন। না দিলে ফাইল আটকে রেখে নানা টালবাহনা করেন। এ কারণে ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তারা ঘুষ নিতে বাধ্য হন। তার বিরুদ্ধে ইতোপূর্বে একাধিকবার লিখিত অভিযোগ করা হয়েছিল। কিন্তু কোনো পদক্ষেপ নেয়নি সংশ্লিষ্ট দফতর। তাই এ অফিসের সহকারীরা ঘুষ নিতে কোনো দ্বিধাবোধ করেন না।

এদিকে সাঘাটা ইউনিয়ন উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মাহবুর রহমান বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, উপজেলা ভূমি অফিসের বড় স্যার ছাড়া সবাই টাকা খায়, আমি কী করব। তাদের দেয়া লাগে বলেই আমাকেও নিতে হয়। তাদের দেয়া না লাগলে আমিও নেব না।

জমি খরিজ বা নামজারির জন্য সরকার নির্ধারিত ফির চেয়ে বেশি টাকা নেয়ার বিষয়ে উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা শাকিল আহম্মেদ জানান, মাত্র দুইমাস হয়েছে এ অফিসে যোগ দিয়েছেন। তাই এসব সমস্যা সমাধানে আরও সময় লাগবে।

তিনি আরও জানান, কেউ সরকার নির্ধারিত ফির চেয়ে অতিরিক্ত টাকা নিলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জাহিদ খন্দকার/এমএমজেড/এমকেএইচ