বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যুবককে পেটালেন ইউপি চেয়ারম্যান
গ্রাম পুলিশ দিয়ে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদে (ইউপি) এক যুবককে বেধড়ক পেটানোর অভিযোগ উঠেছে চেয়ারম্যান আফজাল হোসেন হাবিলের বিরুদ্ধে। শুক্রবার (২০ ডিসেম্বর) দুপুরে দিকে সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার কেড়াগাছি ইউনিয়ন পরিষদে এ ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে স্থানীয়রা ওই যুবককে উদ্ধার করে কলারোয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
নির্যাতনের স্বীকার যুবক ইমরান হোসেন (৩০) কেড়াগাছি ইউনিয়নের বোয়ালিয়া গ্রামের হবিবর রহমানের ছেলে। তিনি কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন।
ইমরানের শ্বশুর মফিজুল ইসলাম বলেন, চেয়ারম্যান হাবিলকে ভোট দেয়নি ইমরান, মিছিলেও যায়নি। দীর্ঘদিন সেই রাগ পুষে রেখেছেন চেয়ারম্যান। বিভিন্ন সময় তাকে হয়রানির চেষ্টাও করেন। শুক্রবার চারজন গ্রাম পুলিশ দিয়ে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায় ইমরানকে। এরপর ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে নির্মমভাবে নির্যাতন করা হয়। পরবর্তীতে আমরা সবাই সেখানে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছি। থানায় অভিযোগ দিয়েছি।
কলারোয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম লাল্টু জানান, চেয়ারম্যান আফজাল হোসেন হাবিল কৃষি কাজ করা যুবক ইমরান হোসেনের বাড়িতে ইতোপূর্বে একাধিকবার পুলিশ ও গ্রাম পুলিশ পাঠিয়েছে। বিষয়টি ইমরান জানানোর পর কলারোয়া থানার ওসি ও চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলেছি। চেয়ারম্যান আফজাল হোসেন কিছু করবে না বলে জানিয়েছিল। কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না ইমরানের। শুক্রবার ৪-৫ জন গ্রাম পুলিশ পাঠিয়ে বাড়ি থেকে তুলে এনে ইউনিয়ন পরিষদে তাকে নির্মম নির্যাতন করা হয়েছে।
নির্যাতনের কারণ হিসেবে তিনি বলেন, চেয়ারম্যান আফজাল হোসেন হাবিলের কাছে জানতে চেয়েছিলাম ইমরানের অপরাধ কী। চেয়ারম্যান বলেছে, আমার সঙ্গে বেয়াদবি করেছে। এছাড়া অপরাধের আর কোনো কথা চেয়ারম্যান হাবিল জানায়নি।
যুবককে নির্যাতনের বিষয়ে জানতে চাইলে কেড়াগাছি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আফজাল হোসেন হাবিল বলেন, একটা অভিযোগের বিষয়ে আমি তাকে কয়েকবার ইউনিয়ন পরিষদে ডেকেছি কিন্তু আসেনি। তাই আমি তাকে মেরেছি। সামাজিকভাবে শাসন করেছি। অপরাধ করলে আমি তাকে শাসন করতে পারবো না ?
অপরাধ করলে পুলিশে দেননি কেন- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, সামাজিক শাসন প্রয়োজন। সামাজিক শাসন এখন নেই বলে সমাজের এই খারাপ অবস্থা।
কলারোয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মুনীর উল গিয়াস বলেন, চেয়ারম্যান হাবিল হোসেনের বিরুদ্ধে ইমরান নামে এক যুবককে নির্যাতনের অভিযোগ থানায় এসেছে। আমরা বিষয়টি তদন্ত করে দেখছি।
আকরামুল ইসলাম/আরএআর/এমএস