সংস্কার করা হলো সেই সেতুটি
শরীয়তপুর সদর উপজেলার কীর্তিনাশা নদীতে নির্মাণাধীন সেতুর মেঝেতে ফাটল দেখা দিয়েছিল। পরে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকরা ফাটলের ওই স্থানে সংস্কার করেছে। সংস্কারের পর সেতুটির দুপাশের রেলিংয়ে রঙ করা হয়েছে।
‘উদ্বোধনের আগেই মাঝখান দিয়ে ফাটল সাড়ে ৪ কোটি টাকার সেতু' শিরোনামে গত ১৮ ডিসেম্বর জাগো নিউজে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। এতে তৎপর হয় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি)। প্রতিষ্ঠানটির শরীয়তপুর কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী শাহজাহান ফরাজি ও সদর উপজেলা প্রকৌশলী শাহ আলম মিয়া সেতুটি পরিদর্শন করেন। এরপর গত তিনদিন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকরা কাজ করে সেতুর ৩৩ মিটার মেঝের ফাটল অংশের সংস্কার করেন।
এলজিইডি শরীয়তপুর কার্যালয় সূত্র জানায়, শরীয়তপুর সদর উপজেলার আংগারিয়া ইউনিয়নের নতুনহাট সংলগ্ন উত্তর ভাসানচর ও দক্ষিণচর এলাকার কীর্তিনাশা নদীতে ৯৯ মিটার দৈর্ঘ্য ও সাড়ে সাত মিটার প্রস্থের একটি সেতুর নির্মাণ কাজ চলছে। বৃহত্তর ফরিদপুর গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় সেতুটি নির্মিত হচ্ছে। এ জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ কোটি ৬২ লাখ টাকা। গত বছর ৩১ জুন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হামীম ইন্টারন্যাশনালকে কার্যাদেশ দেয়া হয়। ইতোমধ্যে সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। এখন চলছে রেলিংয়ে রঙয়ের কাজ।
সংশ্লিষ্টরা জানান, সেতুতে স্লাপ বসানোর পর তার ওপর মেঝেতে দুই হতে তিন ইঞ্চি পুরু একটি ঢালাই দিতে হয়। গত সেপ্টম্বর মাসে স্লাপের ওপর ঢালাই দেয়ার তিন-চারদিন পরই সেতুর উত্তর প্রান্তে ৩৩ মিটার অংশ জুড়ে মাঝ বরাবর ফাটল দেখা দেয়। যার গভীরতা ছিল এক ইঞ্চির মতো।
হামীম ইন্টারন্যাশনালের ব্যবসায়ী অংশীদার (সেতুর নির্মাণ কাজ তদারককারী) আব্দুল ওহাব বলেন, ফ্লোর ঢালাইয়ের তিন-চারদিন পর শ্রমিকরা সেতুতে একটি ভারী ভেকু মেশিন তুলেছিল। ঢালাই মজবুত না হওয়ায় সেটির ওজনে একটি অংশ দেবে যায়। এ কারণে ওই ফাটলের সৃষ্টি হয়েছে। আমরা সে অংশ সংস্কার করে দিয়েছি। এতে মূলসেতুর কোনো সমস্যা হয়নি।
এলজিইডির শরীয়তপুর সদর উপজেলা প্রকৌশলী শাহ আলম মিয়া বলেন, ওই ঢালাই সেতুর উপরিভাগের একটি ফাইনাল প্রলেপ। যানবাহন চলাচল ও সেতু ব্যবহারের সময় এতে ফাটল দেখা দিলে বা ভেঙে গেলে তা সংস্কার করা হবে। ওই ফাটলের কারণে মূলসেতুর কোনো ক্ষতি হয়নি। বিষয়টি নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গে সংস্কারে উদ্যোগ নিয়েছি। সেতুর পুরো কাজ শেষ হয়েছে, এখন যে কোনোদিন উদ্বোধন করা হবে।
মো. ছগির হোসেন/এমএমজেড/পিআর