ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

শীত ও ঠান্ডা বাতাসে কাতর ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষ

জেলা প্রতিনিধি | ঠাকুরগাঁও | প্রকাশিত: ০৯:৪৭ পিএম, ৩০ ডিসেম্বর ২০১৯

শীতের তীব্রতা বেড়েছে ঠাকুরগাঁওয়ে। পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও উত্তরের সর্বশেষ জেলা এবং হিমালয়ের কাছাকাছি হওয়ায় এখানে শীতের তীব্রতা প্রতি বছরই বেশি হয়। কিন্তু এবার যেন অন্যবারের চেয়ে ঠান্ডাটা একটু বেশিই দাপুটে। নভেম্বরের মাঝামাঝি শীত শুরু হলেও ডিসেম্বর শেষে অসহনীয় অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

এবার ঠাকুরগাঁওয়ে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬.৪ ডিগ্রি সেঃ রেকর্ড করা হয়েছে। কোনো দিন কখনও সারাদিন ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন থাকছে, আবার কখনও হালকা রোদের ভেলকিবাজি। দুদিন ধরে এখানে দিনের বেলায় কিছু সময় সূর্য দেখা গেলেও বাতাস অনেক ঠান্ডা।

সন্ধ্যা থেকে সকাল পর্যন্ত চারদিক কুয়াশায় ঢাকা পড়ছে। রাতে বৃষ্টির মতো ঝিরঝির করে কুয়াশা ঝরছে। প্রচণ্ড শীতে সাধারণ মানুষ কাজে যেতে পারছে না। শ্রমিক শ্রেণির মানুষ পরিবার নিয়ে অনাহারে দিনাতিপাত করছে। অতিরিক্ত শীতের কারণে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে শিশুসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ।

সদর হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, জেলায় প্রতি বছর শীতজনিত রোগে দেড় শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়। শীত এলেই শিশুসহ নানা বয়সের মানুষ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়।

thakurgaon-pic3-(2).jpg

ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালের সিভিল সার্জন ডা. এইচ এম আনোয়ারুল বলেন, এ জেলায় শীতের তীব্রতা অনেক বেশি। তাই শিশু ও বিভিন্ন বয়সের মানুষ তাড়াতাড়ি শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ে। শীতের তীব্রতা থেকে রক্ষার জন্য গরম কাপড় পরিধান করতে হবে। শিশুদের ঠান্ডা না লাগানোর জন্য মায়েদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

জেলা প্রশাসন সূত্র যায়, সরকারিভাবে ইতোমধ্যে ৪০ হাজার কম্বল পেয়েছে জেলা প্রশাসন। বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন থেকে পেয়েছে প্রায় ২ হাজার। প্রাপ্ত কম্বল জেলার পাঁচ উপজেলা ও তিন পৌর এলাকায় বিতরণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এখনও অনেক ইউনিয়নের গ্রাম পর্যায়ে শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়নি। সাধারণ মানুষ অভিযোগ করে বলেন, ‘শীত পালাইলে কি হামাক কম্বল দিবে সরকার?’

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বালিয়া গ্রামের বৃদ্ধ আমজাদ হক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘হামার গ্রামত অনেক শীত। কম্বলত শীত মানিবার চায় না। কিন্তু হামার কপালত কোনো দিন একটাও শীতের কাপড় জুটেনি ‘

thakurgaon-pic3-(2).jpg

এছাড়া ঠাকুরগাঁওয়ের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে শীতবস্ত্র তেমন পায় না দরিদ্র মানুষ। এমন অভিযোগ সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষের। তারা বলেন, জেলা শহর থেকে আমাদের এখানে দূরত্ব বেশি হওয়ায় শীতবস্ত্র আসার আগেই শেষ হয়ে যায়।

এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক ড. কে এম কামরুজ্জামান সেলিম জানান, এবার জেলায় শীতের প্রকোপটা একটু বেশি। তাই জেলার শীতার্ত মানুষের শীত নিবারণের জন্য ইতোমধ্যে আরও ৫০ হাজার পিস কম্বল চেয়ে মন্ত্রণালয়ে চাহিদাপত্র দেয়া হয়েছে। প্রায় ৩৫ হাজার পিস কম্বল ইতোমধ্যে উপজেলা পর্যায়ে বিতরণ করা হয়েছে। চাহিদা অনুযায়ী কম্বল পাওয়া গেলে হয়তো কিছু মানুষকে শীতের কবল থেকে রক্ষা করতে পারবো। বরাদ্দ প্রাপ্তি সাপেক্ষে আরও কম্বল বিতরণ করা হবে।

সরকারের পাশাপাশি তিনি জেলার বিত্তবান ব্যক্তিদের শীতার্তদের পাশে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

এমএএস/এমএস