মেয়েকে বাঁচাতে কাঠমিস্ত্রি বাবার আকুতি
শিশু মাইমুনা আক্তার (৭) ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত। চিকিৎসার জন্য প্রায় ২০ লাখ টাকা প্রয়োজন। কিন্তু কাঠমিস্ত্রি বাবা রাজু আহম্মেদের সেই সামর্থ্য নেই। তাই অসহায় হয়ে একমাত্র মেয়ের চিকিৎসার খরচ জোগাতে ঘুরছেনআত্মীয়-স্বজন ও সমাজের বৃত্তবানদের দ্বারে দ্বারে।
মাইমুনা আক্তার রাজবাড়ী সদর উপজেলা পৌরসভার ধুনচি গ্রামের রাজু আহম্মেদের মেয়ে। দুই সন্তানের মধ্যে সে ছোট এবং গোদার বাজার মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির ছাত্রী। অসুস্থতার কারণে এখন আর ঠিকমতো স্কুলে যেতে পারছে না সে। বাবা রাজু আহম্মেদ পেশায় একজন কাঠমিস্ত্রি। পৈত্রিক ভিটায় বাড়ি ছাড়া তার নিজস্ব বলে কিছুই নেই।
যে সময় নতুন বই নিয়ে বিদ্যালয়ে ছুটোছুটি করার কথা, ঠিক সেই সময় মাইমুনার দিন কাটছে হাসপাতালের বেডে শুয়ে। সে বর্তমানে ভারতের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
গোদার বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি মোকছেদুর রহমান মোমিন জাগো নিউজকে বলেন, মাইমুনা শান্ত স্বভাবের একটি মেয়ে। হঠাৎ যখন জানতে পারলাম সে ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত, তখন বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছিল। এ বয়সে সৃষ্টিকর্তা ওকে এত বড় রোগ দিয়েছেন। তিনি সমাজের হৃদয়বান ব্যক্তিদের মাইমুনাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসতে অনুরোধ করেন।
মাইমুনার বাবা রাজু আহম্মেদ বলেন, গত বছরের অক্টোবর মাসে হঠাৎ করে মাইমুনার জ্বর হয়। সেই সঙ্গে বমি হতে থাকে। হাসপাতালে নেবার পর চিকিৎসকরা মাইমুনাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। সেখানে ২ দিন চিকিৎসার পর ডাক্তাররা মাইমুনাকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যেতে বলেন। ওই দিনই ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে আসেন। সেখানে ৮ দিন ভর্তি থেকে চিকিৎসা করার পর বাড়িতে চলে আসেন। বাড়ি এসে ২ সপ্তাহ থাকার পর আবার ঢাকার নিয়ে গ্রীন ভিউ ক্লিনিকে ইউনুস ডাক্তারের তত্বাবধায়নে মাইমুনার বনমেরু টেস্ট করান। এরপর আবার বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বনমেরু করার পর রক্ত স্বল্পতা দেখা দেয়। ওই সময় ৪ ব্যাগ রক্ত দিয়ে আবার বাড়িতে চলে আসেন। বাড়িতে আসার কয়েকদিন পর মাইমুনার আবার রক্ত বমি হতে থাকলে পরদিন আবার ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যান। ওই সময় আবার ৪ ব্যাগ রক্ত দেয়া হয়। যার ১ ব্যাগ রক্তের মূল্যে ১৩ হাজার ৪৫০ টাকা। তখন মাইমুনার শরীরের রক্তের স্তর দেড় লাখ বা তার উপরে থাকার কথা, কিন্তু তখন স্তর ছিল মাত্র ৩ হাজার।

পড়ে মালিবাগের পদ্মা ডায়াগনিস্টিক সেন্টারে নিয়ে ডাক্টার জলিল মাইমুনার হাড় কেঁটে টেস্ট করলে ব্লাড ক্যান্সার ধরা পড়ে। ওই সময় ডাক্তার বলেন, মাইমুনাকে সুস্থ করতে চিকিৎসার জন্য প্রায় ২০ লাখ টাকা লাগবে। কিন্তু এত টাকা তিনি কোথায় পাবেন মাইমুনার কাঠমিস্ত্রি বাবা?
মাইমুনার বাবা রাজু আহম্মেদ বলেন, এখন পর্যন্ত মেয়ের চিকিৎসার জন্য প্রায় ৩ লাখ টাকার বেশি খরচ হয়েছে। আত্মীয় স্বজনের অনেকেই ৫/১০ হাজার করে দিয়ে সহযোগিতা করেছে। নিজের কোনো জমি-জমাও নেই যে, সেটা বিক্রি করে মেয়ের চিকিৎসার খরচ জোগাড় করবেন।
এখন আল্লাহর ওপর ভরসা করে সমাজের বৃত্তবান ও হৃদয়বান ব্যাক্তিদের সহযোগিতা কামনা করছেন তিনি।
তিনি বলেন, টাকার ব্যবস্থা না হলে মাইমুনাকে বাঁচাতে পারবেন না। বর্তমানে ওর অবস্থা ভালো না
মাইমুনাকে সহযোগিতা করা যাবে, ইসলামী ব্যাংক রাজবাড়ী শাখা (বাবা) রাজু আহম্মেদ, হিসাব নং- ১০৫৪ নম্বরে। যোগাযোগ করা যাবে ০১৭১৪-২৯৬৯০৮ (বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছে) নম্বরে।
সতর্কতা : যেকোনো মানবিক সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পর একটি প্রতারক চক্র ভুক্তভোগী পরিবারটিকে ফোন করে জানায়, তিনি সমাজ সেবা মন্ত্রণালয় থেকে বলছেন। তারা আরও জানায়, এ সংবাদ দেখার পর সরকার ৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন। সেই টাকা তুলতে বিকাশে টাকা চেয়ে থাকেন প্রতারক চক্রটি। নিজ দায়িত্বে চক্রটির ফাঁদ থেকে দূরে থাকুন।
রুবেলুর রহমান/এমএএস/জেআইএম