ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

দুই বাংলাদেশির লাশ ফেরত দেয়নি বিএসএফ

জেলা প্রতিনিধি | নওগাঁ | প্রকাশিত: ০৬:১৭ পিএম, ২৫ জানুয়ারি ২০২০

নওগাঁর পোরশা উপজেলার দুয়ারপাল সীমান্তে গুলিতে হত্যা করা তিন বাংলাদেশির দুজনের মরদেহ তিনদিনেও ফেরত দেয়নি ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।

গত বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) ভোরে উপজেলার দুয়ারপাল সীমান্ত এলাকার ২৩১/১০(এস) মেইন পিলারের নীলমারী বিল এলাকায় বাংলাদেশি তিন গরু ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যা করে বিএসএফ

হত্যার তিনদিন পেরিয়ে গেলেও দুই বাংলাদেশির মরদেহ ফেরত দেয়নি তারা। এ নিয়ে ঘটনার দিন বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত দুয়ারপাল সীমান্তের শূন্যরেখায় দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

তিনজন নিহতের ঘটনাকে অবৈধভাবে নিতপুরে করিডোর চালু করাকে দায়ী করছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। জনপ্রতিনিধিদের একটাই চাওয়া; সীমান্তে বন্ধ হোক অবৈধ প্রবেশ ও হত্যা।

নিহতরা হলেন- পোরশা উপজেলার বিষ্ণুপুর বিজলীপাড়ার শুকরার ছেলে রনজিত কুমার (২৫), দীঘিপাড়া গ্রামের খোদাবক্সের ছেলে মফিজুল ইসলাম (৩৫) এবং কাঁটাপুকুরের মৃত জিল্লুর রহমানের ছেলে কামাল হোসেন (৩২)।

বিজিবি ও স্থানীয় এলাকাবাসী সূত্র জানায়, গত বুধবার (২২ জানুয়ারি) রাতে রনজিত কুমার, মফিজুল ইসলাম ও কামাল হোসেনসহ ১০-১২ জনের এক দল পোরশা দুয়ারপাল সীমান্ত এলাকার ২৩১/১০(এস) মেইন পিলারের নীলমারী বিল দিয়ে ভারতে প্রবেশ করে। গরু নিয়ে বাংলাদেশে ফেরার পথে বৃহস্পতিবার ভোরে তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে ভারতের ক্যাদারীপাড়া ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যরা।

এ সময় অন্যরা পালিয়ে এলেও তিন গরু ব্যবসায়ী গুলিবিদ্ধ হন। বাংলাদেশের ২০০ গজ ভেতরে গরু ব্যবসায়ী মফিজুল ইসলামের গুলিবিদ্ধ মরদেহ পড়েছিল। পাশাপাশি রনজিত কুমার ও কামাল হোসেনের মরদেহ ভারতের ৮০০ গজ ভেতরে পড়েছিল। ওই দিন দুপুরে দুজনের মরদেহ নিয়ে যায় বিএসএফ।

এ নিয়ে ঘটনার দিন বিকেলে দুই ঘণ্টাব্যাপী দুয়ারপাল সীমান্তের শূন্যরেখায় বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে তিন বাংলাদেশিকে হত্যার কথা স্বীকার করে দুঃখপ্রকাশ করে বিএসএফ। একই সঙ্গে দুজনের মরদেহ ফেরত দেবে বলে জানায় তারা।

স্থানীয় সূত্র জানায়, নওগাঁর সীমান্তবর্তী পোরশা, সাপাহার ও ধামইরহাট উপজেলা। সীমান্তবর্তী উপজেলার মানুষ দরিদ্র। অভাবের কারণে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভারত থেকে গরু আনা-নেয়ার কাজ করেন কিছু রাখাল। প্রতি গরুতে পাঁচ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত পান। এতে সীমান্তে জীবন হারান তারা। মাঝখানে লাভবান হন গরু ব্যবসায়ীরা।

বিজিবির একটি বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, ভারতে অবৈধভাবে ঢুকে গরু নিয়ে আসেন বাংলাদেশিরা। গরু আনার সময় সীমান্তে হত্যার শিকার হন তারা। যে কারণে বিজিবি করিডোরের পক্ষে নয়। অনেকে মনে করে করিডোরের সবকিছু বিজিবির নিয়ন্ত্রণে। আসলে বিজিবি নয়। একটা কমিটি আছে, যেখানে শুধু কিছু বিজিবি সদস্য রয়েছেন।

করিডোরের মালিক শফিকুল ইসলাম ও ইছাউল হক বলেন, নিতপুর করিডোর ইজারা নেয়ার পর কিছু সমস্যা হয়েছিল। পরে হাইকোর্ট থেকে রিট করে ছয় মাসের জন্য চালু করার ব্যবস্থা করা হয়। গত তিন মাস থেকে করিডোর পরিচালনা করা হচ্ছে। তিনজন মারা যাওয়ার পর থেকে উপরের নির্দেশে করিডোর বন্ধ রাখা হয়েছে। আমাদের কার্ডধারী রাখাল আছে, যারা গরু আনা-নেয়া করে। যারা অবৈধভাবে গরু আনা-নেয়া করে তারা আমাদের রাখাল নয়। তিনজন মারা যাওয়ার আগেও আমাদের করিডোর বন্ধ ছিল। তবে করিডোরের কারণে এই তিনজন মারা যায়নি।

নিতপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কালাম শাহ বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষ দরিদ্র। তারা ২০ হাজার টাকার লোভে ভারত থেকে অবৈধভাবে গরু আনা-নেয়ার কাজ করেন। এজন্য প্রাণ হারান।

চেয়ারম্যান আবুল কালাম বলেন, নিতপুরে যে করিডোর চালু করা হয়েছে তা অবৈধ। আমরা করিডোর চালুর পক্ষে ছিলাম না এবং জোরালো প্রতিবাদ জানিয়েছিলাম। এজন্য একশ্রেণির ব্যবসায়ী ছয় মাসের জন্য হাইকোর্টে রিট করে করিডোর চালু করেছেন। করিডোর চালুর কারণে তিনজন মারা গেলেন। এ দায়ভার তাদেরই নিতে হবে।

১৬-বিজিবির উপ-অধিনায়ক মেজর আহসান হাবিব বলেন, দুই বাংলাদেশির মরদেহ নিয়ে আসার প্রক্রিয়া চলছে। বিএসএফ যখন তাদের মরদেহ হস্তান্তর করবে তখন আমরা নিয়ে আসব। ঘটনার পর থেকে করিডোর বন্ধ রাখা হয়েছে।

আব্বাস আলী/এএম/পিআর