উচ্ছেদ অভিযানে ম্যাজিস্ট্রেট লাঞ্ছিত, প্রকৌশলীকে মারপিট

জেলা প্রতিনিধি যশোর
প্রকাশিত: ০৪:২২ এএম, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০
উচ্ছেদ অভিযানে ম্যাজিস্ট্রেট লাঞ্ছিত, প্রকৌশলীকে মারপিট

যশোর-খুলনা মহাসড়কের মণিহার থেকে মুড়লি পর্যন্ত তিন কিলোমিটার সড়কের দুই পাশে বুধবার অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ শুরু করেছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। বিকেলে এ অভিযান চলাকালে বকচর র‌্যাব ক্যাম্পের সামনে একজন প্রকৌশলী ও বুলডোজার চালককে মারপিট করেছে র‌্যাব সদস্যরা। উচ্ছেদ অভিযানে নেতৃত্বকারী ম্যাজিস্ট্রেটকেও লাঞ্ছিত করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তবে র‌্যাব বিষয়টিকে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা দাবি করেছে।

এদিকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান যশোরের জেলা প্রশাসক মো. শফিউল আরিফ এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগ যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী এসএম মোয়াজ্জেম হোসেন। তারা হামলার শিকার দুজনকে উদ্ধার করে নিয়ে আসেন। তবে তারা এ নিয়ে গণমাধ্যমের সামনে কথা বলতে রাজি হননি।

j

উচ্ছেদ অভিযানে নেতৃত্বদানকারী সড়ক ও জনপথ বিভাগের খুলনা জোনের স্টেট অফিসার সিনিয়র সহকারী সচিব অনিন্দিতা রায় বলেন, যশোরের পালবাড়ী মোড় থেকে মুড়লি মোড় পর্যন্ত মহাসড়কটি চারলেনে উন্নীতকরণের লক্ষ্যে বুধবার সকাল থেকে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়। বিকেলে উচ্ছেদকারী দলটি শহরের বকচর এলাকায় র‌্যাবের অস্থায়ী কার্যালয়ের সামনে আসে। এ কার্যালয়ের প্রাচীরটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের জায়গায় নির্মিত হওয়ায় উচ্ছেদকারী দল র‌্যাব সদস্যদের তাদের গাড়ি সরিয়ে নিতে বলেন। গাড়ি সরিয়ে নেয়ার পর প্রাচীরটি বুলডোজার দিয়ে ভেঙে দেয়া হয়। এর কিছু সময় পর র‌্যাব সদস্যরা ক্যাম্প থেকে বের হয়ে এসে বুলডোজারচালক প্রতাপ কুমার ও উপসহকারী প্রকৌশলী তরুণ কুমার দত্তকে মারপিট করে এবং বুলডোজারের সামনের কাঁচ ভেঙে দেয়। এরপর তাদের ধরে ক্যাম্পের ভেতর নিয়ে যায়।

অভিযানে নেতৃত্বদানকারী ম্যাজিস্ট্রেট অনিন্দিতা রায় অভিযোগ করেন, র‌্যাব কর্তৃপক্ষ আগে থেকেই উচ্ছেদের বিষয় জানে। তাদের সঙ্গে সড়কের কর্মকর্তাদের কথাও হয়েছে। র‌্যাব সদস্যরা যা করেছে তা গ্রহণযোগ্য না।

j

এদিকে প্রত্যক্ষদর্শী বুলডোজারের এক চালক বলেন, ‘প্রাচীর ভাঙার আগেই ম্যাজিস্ট্রেট ম্যাডাম র‌্যাব সদস্যদের গাড়ি সরাতে বলেছেন। গাড়ি সরানোর পরই প্রাচীর ভাঙা হয়েছে। এরপর র‌্যাবের ১০-১৫ জন ক্যাম্প থেকে বেরিয়ে এসে চালক প্রতাপ কুমার ও ইঞ্জিনিয়ার স্যারকে ধরে মারপিট শুরু করেছে। ভয়ে আমরা পালিয়ে যাই।’

প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় কয়েকজন বলেন, র‌্যাব সদস্যরা হকিস্টিক দিয়ে বেধড়ক মারপিট করেছে। বুট দিয়ে লাথি দিয়ে রক্তাক্ত করে উচ্ছেদে আসা দুজনকে। এরপর তাদের ধরে নিয়ে র‌্যাবের অফিসের ভেতর বেঁধে রেখেছে।

j

অবশ্য র‌্যাব সদস্যরা দাবি করেন, ম্যাজিস্ট্রেট ম্যাডাম কোনো কথা শুনতে রাজি হননি। গাড়ি সরানোর সময় পর্যন্ত দেননি। র‌্যাব অফিস একটি নিরাপত্তাবেষ্টিত এলাকা। অস্ত্রসহ সরকারি সম্পত্তি নিয়ে সরে যাওয়ার আগেই ভাঙচুর করা হয়। ক্যাম্প কমান্ডারের সঙ্গে মোবাইলে কথা বলিয়ে দিতে চাইলেও তিনি কথা বলেননি। এভাবে সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রাচীর ভাঙা যুক্তিযুক্ত হয়নি বলে দাবি করেন তারা।

j

অভিযোগ প্রসঙ্গে বক্তব্য নেয়ার জন্য র‌্যাব-৬ যশোর ক্যাম্পের অধিনায়কের দাফতরিক মোবাইল নম্বরে একাধিকবার ফোন করা হলেও কেউ রিসিভ করেনি।

মিলন রহমান/বিএ


সর্বশেষ - দেশজুড়ে

জাগো নিউজে সর্বশেষ

জাগো নিউজে জনপ্রিয়