ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

এত নির্যাতন তবুও আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন আসমানির

জেলা প্রতিনিধি | কুড়িগ্রাম | প্রকাশিত: ০৯:১১ পিএম, ১০ মার্চ ২০২০

কুড়িগ্রামে চরম নির্যাতনের শিকার পিতৃহীন কিশোরী আসমানি এখন ঘুরে দাঁড়াতে চায়, নতুন করে বাঁচতে চায়। হঠাৎ একটি কালোমেঘ জীবনকে তছনছ করে দিলেও প্রাথমিক ধাক্কা সামলে এখন আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন দেখছে আসমানি।

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ঘোগাদহ ইউনিয়নের কাজলদহ গ্রামের দিনমজুর আমজাদ হোসেন ও নাজমা বেগমের দুই কিশোরী সন্তানের মধ্যে আসমানি ছোট। দুই বোন আর মাকে নিয়ে দিনমজুর বাবা তাদের অনেক কষ্টে মানুষ করছিলেন। সামান্য জমানো টাকায় বড় মেয়েকে রাজারহাট উপজেলায় বাল্যবিয়ে দেয়া হয়। পড়াশোনার শখ থাকায় আসমানিকে ভর্তি করা হয় মাদরাসায়। এভাবেই চলছিল তাদের সংসার।

আসমানি যখন ৭ম শ্রেণিতে উঠে তখন হঠাৎ করে মারা যান বাবা আমজাদ হোসেন। তার মৃত্যুতে মা নাজমা বেগমের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে। কিশোরী মেয়েকে নিয়ে তিনি চরম সংকটের মধ্যে পড়ে যান। এ অবস্থায় মায়ের বাড়িতে চলে আসেন নাজমা। দাদির বাড়িতেই পড়াশোনা চলছিল আসমানির।

চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে দেবর আশরাফুল ইসলাম তার বাড়িতে মেয়েসহ নাজমাকে ডাকেন। সেখানে গিয়ে জানতে পারেন আসমানির বিয়ের আয়োজন চলছে। বর একই ইউনিয়নের আলোরচর গ্রামের নবরুদ্দিনের ছেলে আলামিন।

asmani

সেখানে আসমানিকে কিছু বুঝতে না দিয়ে মৌলভী দিয়ে বিয়ে পড়ানো হয়। তবে এই বিয়ে অস্বীকার করে আসমানি। শ্বশুরবাড়ির লোকজন চেষ্টা করেও তাকে বাড়িতে নিয়ে যেতে পারেনি। ফলে পরিবারের সবাই ক্ষিপ্ত হয় তার ওপর। এ নিয়ে চাচা আশরাফুল, মা, বোন ও দাদি তাকে বিভিন্নভাবে মারধর করে।

একদিন বর জোর করে ঘরে ঢুকলে আসমানির সঙ্গে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় বর আসমানিকে ওড়না দিয়ে বেঁধে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে। তার চাচা তাকে নদীতে ফেলে দেয়ার হুমকি দেয়। এতেও কথা না শোনায় ৯ হাজার টাকায় কবিরাজ এনে চিকন কঞ্চি দিয়ে আসমানিকে পেটানো হয়। এ ঘটনার পর বাড়ি থেকে পালিয়ে যায় আসমানি।

ঘোগাদহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহ আলম বলেন, আসমানি নামে মেয়েটি গভীর রাতে আমার বাড়িতে এসে জানায় আর বাড়িতে ফিরবে না। তাকে আশ্রয় না দিলে আত্মহত্যা করবে। আমি মেয়েটিকে আশ্রয় দিয়ে পরদিন তার অভিভাবকদের ইউনিয়ন পরিষদে ডেকে আনি। সেখানে সালিশ বৈঠকে মেয়েটি জানায় তাকে মায়ের কাছে ফেরানোর চেষ্টা করা হলে জীবন দিয়ে দেবে। মেয়েটির নিরাপত্তার কথা ভেবে নিজের বাড়িতে মেয়ে হিসেবে আশ্রয় দিয়েছি।

asmani

আসমানি জানায়, আমি পড়তে চাই। আরও জানতে চাই। আমাদের সমাজে মেয়েদের মতামতের গুরুত্ব না দিয়ে তাদের জোর করে বাল্যবিয়ে দেয়া হয়। এটা আমি মানি না।

বেসরকারি এনজিও এইড কুমিল্লার ডিস্ট্রিক ইনচার্জ মিজানুর রহমান বলেন, আমরা মেয়েটির নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে তাকে প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগের ব্যবস্থা করে দিয়েছি। তাৎক্ষণিকভাবে বইপত্র কেনার জন্য অর্থ সহযোগিতা করেছি। ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউএনও তার দায়িত্ব নিয়েছেন।

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিলুফা ইয়াসমিন বলেন, নিরাপত্তার কথা ভেবে পরিবারের কাছে মুচলেকা নিয়ে মেয়েটিকে চেয়ারম্যান শাহ আলমের জিম্মায় দেয়া হয়েছে। মেয়েটির পাশে থাকব আমরা।

নাজমুল/এএম/জেআইএম