আম স্তূপ করে চাষি বললেন সব শেষ হয়ে গেল
ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের তাণ্ডবে চুয়াডাঙ্গায় ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এতে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। মৌসুমের উঠতি ফসলের ক্ষতি সবচেয়ে বেশি হয়েছে। আম, কলা, ধানসহ বিভিন্ন ধরনের ফসল নষ্ট হয়ে গেছে।
চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকাল থেকে চুয়াডাঙ্গায় ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের প্রভাব পড়তে শুরু করে। বৃষ্টি ও ঝড়ের কারণে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আম, কলা, ধান, পান, মুগ ডাল, সবজিসহ বিভিন্ন ধরনের ফসল ঝড়ে নষ্ট হয়েছে। যার কারণে কৃষকদের এ মৌসুমে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।
চুয়াডাঙ্গার চার উপজেলায় ১৯৫০ হেক্টর জমিতে ৬৫২টি আম বাগান রয়েছে। এর মধ্যে ১১৭২ হেক্টর জমির আম ঝরে পড়ে গেছে। পান চাষ হয়েছিল ১৬১৭ হেক্টর জমিতে; নষ্ট হয়েছে ৬২৭ হেক্টর জমির পান। ১২১০ হেক্টর জমির সব মুগডাল পানির নিচে তলিয়ে গেছে। বিক্রির উপযুক্ত মাঠে থাকা কলা নষ্ট হয়েছে ১৮০৪ হেক্টর জমির মধ্যে ৬৬৪ হেক্টর জমির। বোরো ধানের ক্ষতি হয়েছে দুই হাজার হেক্টর জমির। সবজির ক্ষতি হয়েছে ৭৩৭৫ হেক্টর জমির মধ্যে ১৭৭৪ হেক্টর জমির। তরমুজ, পাটসহ বিভিন্ন ধরনের ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার হাটবোয়ালিয়া গ্রামের কৃষক সোহেল হুদা বলেন, মাঠে তিন বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছিলাম। কিন্তু ঝড়ের কারণে পাট গাছ মাটিতে শুয়ে পড়েছে। পাটের ফলন ভালো হবে না। লোকসান হওয়ার সম্ভবনা বেশি।

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার গাইদঘাট গ্রামের আম বাগান মালিক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আমার ছোট-বড় মিলিয়ে তিনটি আমের বাগান রয়েছে। ঝড়ে বাগানের প্রায় ৭০ ভাগ আম পড়ে গেছে। যার কারণে পুরো লোকসান হবে। কয়েক লাখ টাকার ক্ষতি হলো এই মৌসুমে। কাঁচা আমের দাম নেই। তাই বাগানে ফেলে রাখতে হচ্ছে। কারণ যে টাকা খরচ করে আম বাজারে নিয়ে বিক্রি করব তাতে লোকসান হবে। সব শেষ হয়ে গেল আমার।
দামুড়হুদা উপজেলার কলাবাড়ি গ্রামের কৃষক রোকন মিয়া বলেন, মাঠে সাড়ে চার বিঘা জমিতে পাকা ধান রয়েছে। ঝড়ের কারণে পানির নিচে তলিয়ে গেছে ধান। সব ধান নষ্ট হয়ে যাবে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক আলী হাসান বলেন, ঘূর্ণিঝড় চুয়াডাঙ্গায় আঘাত হানার সম্ভবনা ছিল না। ঝড়ের কারণে আম, ধান, কলা ও সবজিসহ বিভিন্ন ফসল আক্রান্ত হয়েছে। কত টাকার ফসল নষ্ট হয়েছে তা এখন বলা সম্ভব হচ্ছে না। কয়েক দিন সময় লাগবে। বিষয়টি আমরা কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। কৃষকদের তালিকা করে ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে।
চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার বলেন, ঝড়ের কারণে জেলায় অনেক ফসলের ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতি পুষিয়ে নিতে কৃষকদের সহযোগিতা করা হবে। ক্ষতির পরিমাণটা এখন নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না।
সালাউদ্দীন কাজল/এএম/এমকেএইচ