ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

হাজার কোটি টাকার ক্ষতি, অন্ধকারে বেনাপোল

বেনাপোল (যশোর) | প্রকাশিত: ০৯:৩৪ পিএম, ২২ মে ২০২০

সুপার সাইক্লোন আম্ফানের তাণ্ডবে বেনাপোল ও শার্শা উপজেলা এখন অন্ধকারে। করোনার তাণ্ডবের মধ্যেই হানা দিল ঘূর্ণিঝড় আম্ফান। এতে লন্ডভন্ড বেনাপোল; বিধ্বস্ত হয়েছে ঘরবাড়ি, গাছপালা, সবজির ক্ষেত ও ফলের বাগান।

এমনকি ঝড়ের সময় ভেঙে পড়া গাছের চাপায় প্রাণ হারিয়েছেন চারজন। আহত হয়েছেন কয়েকজন। ঝড়ের তাণ্ডবে বেনাপোল-শার্শায় কয়েক হাজার ঘরবাড়ির ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেই সঙ্গে ২০ একর সবজি ক্ষেত নষ্ট হয়েছে।

বাজারে তোলার মতো আম ও লিচুর বেশির ভাগই ঝরে পড়েছে। ছোট-বড় অনেক গাছ উপড়ে ও ডালপালা ভেঙে অনেক জায়গা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। খুঁটি ভেঙে ও লাইনের তার ছিঁড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ অচল হয়ে আছে। খুঁটি ও লাইন মেরামত শেষ না হওয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।

benapole

ঝড়ে নিহতরা হলেন- উপজেলার শার্শা গ্রামের জেলেপাড়ার মৃত সুনিল মন্ডলের ছেলে গোপাল বিশ্বাস (৬৫), জামতলা এলাকার আব্দুল গফুরের ছেলে মুক্তার আলী (৬৫), গোগা গ্রামের পশ্চিমপাড়ার শাহাজানের স্ত্রী ময়না খাতুন (৪০) ও মহিষাকুড়া গ্রামের মোবারকের ছেলে মিজানুর রহমান(৪০)।

নিহতদের প্রত্যেকের পরিবারকে ২০ হাজার টাকা করে সহায়তা দেয়া হবে বলে যশোরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ শফিউল আরিফ জানিয়েছেন।

বেনাপোলসহ শার্শা উপজেলার আশপাশের গ্রাম ঝড়ে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। কি পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তা নিরূপণ করা না গেলেও হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।

benapole

আম্ফানের তাণ্ডবে লেবুর বাগান, ড্রাগন, পেয়ারা বাগান, পেঁপে বাগানসহ শাকসবজির মাঠ একেবারে পানিতে মিশে গেছে। বেনাপোল বাজার এলাকায় সড়কের পাশে বড় বড় গাছ পড়ে রয়েছে। বৈদ্যুতিক খুঁটি ও পৌরসভার আধুনিক ল্যাম্প পোস্ট ভেঙে সড়কের ওপর পড়ে আছে। প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় টিনের ঘরের ছাউনি উড়ে গেছে। গাছ পড়ে ভেঙে গেছে অনেকের ঘরবাড়ি।

বেনাপোল, ছোটআঁচড়া মাঠ, পুটখালী মাঠ, চাতুরিয়ার বিলে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে সবজি চাষিদের। এ এলাকার বড় বড় আমবাগান রয়েছে। প্রতি বছর এখান থেকে বিদেশে রফতানি হয় আম। সেই আমবাগানে কাঁচা আম পড়ে বাগান সয়লাব হয়েছে। চাষিরা কাঁচা আম নিয়ে বাজারে ৫ টাকা কেজিতে বিক্রি করেছেন।

আমচাষি বক্স মিয়া বলেন, আমার বাগানে প্রায় ২০ মণ কাঁচা আম পড়ে আছে। এগুলো বাজারে নিলে কেউ কিনতে চায় না। এক আড়তদারকে ৫ টাকা কেজিতে আমগুলো দিয়ে এসেছি। বিক্রি হলে আমাকে টাকা দেবে।

একই কথা বললেন আমচাষি হায়দার আলী ও জলিল। তাদের বাগানের সব আম ঝরে পড়ে গেছে। কাঁচা আম বিক্রি করতে পারছেন না তারা।

benapole

এদিকে, বেনাপোল কাস্টমস হাউস, বিজিবি ক্যাম্প ও বন্দরের শেডগুলোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বেনাপোল পৌরসভার বাস ও ট্রাক টার্মিনালের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। টার্মিনালের গ্লাস ভেঙে এবং পানির ট্যাংক উড়ে গেছে। শ্রমিকদের থাকার ঘর ভেঙে উড়ে গেছে।

ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের তাণ্ডবে বেনাপোল-শার্শার জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বুধবার রাত থেকে সঞ্চালন লাইনের খুঁটি ও বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। বেনাপোল বন্দরসহ গোটা উপজেলা রয়েছে অন্ধকারে। এখন পর্যন্ত বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করা যায়নি।

যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির শার্শা জোনাল অফিসের সহকারী জুনিয়ার ইঞ্জিনিয়ার নেয়ামুল হাসান বলেন, উপজেলার ১১ ইউনিয়নে বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে লাইনের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ১১ জন লাইনম্যান ও ৫০ জন ঠিকাদার সংযোগ চালুর চেষ্টা চালাচ্ছেন।

বেনাপোলের বৃদ্ধ আমির হোসেন বলেন, আমার বয়স ৯০ বছর। এত বড় ঝড় এর আগে দেখিনি। ১৯৮৮ সালে যশোরে একবার বড় ধরনের সাইক্লোন আঘাত করেছিল। ২০০০ সালে যশোরে একবার বন্যা হয়েছিল। এবার ২০২০ সালের আম্ফানের তাণ্ডব ছিল স্মরণকালের সবচেয়ে বড় বিপর্যয়।

জামাল হোসেন/এএম/জেআইএম