ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

ইচ্ছে থাকলে যে উপায় হয় সেটি প্রমাণ করেই চলেছেন সনি

জেলা প্রতিনিধি | দিনাজপুর | প্রকাশিত: ০৯:১৩ পিএম, ২৪ মে ২০২০

ইচ্ছে থাকলে যে উপায় হয়, সেটি বার বার প্রমাণ করে চলেছেন দিনাজপুরের সুইহারী এলাকার তরুণ প্রকৌশলী মো. মিরাজুস সালেকিন সনি (৩০)। দেশের যেকোনো দুর্যোগে ঝাঁপিয়ে পড়া এ তরুণের সুবাদে এখন পর্যন্ত বহু মানুষ উপকার পেয়েছেন।

চলমান মহামারি করোনাভাইরাস মোকাবিলাতেও মাঠে নেমেছেন তিনি। পরিবারের সদস্যসহ ফেসবুক বন্ধুদের কাছ পাওয়া সহযোগিতা নিয়ে কর্মহীন মানুষগুলো পাশে দাঁড়িয়েছেন সনি।

এখন পর্যন্ত ১৪ হাজার মানুষকে অর্থ, খাবার, ইফতার, সাবান ও তেলসহ নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী প্রদান করেছেন সনি। ঈদ উপলক্ষে অব্যাহত রেখেছেন সেমাই, চিনি ও দুধ বিতরণ।

jagonews24

রিজেন্ট এভিয়েশন একাডেমির কর্মকর্তা প্রকৌশলী মো. মিরাজুস সালেকিন সনির বাবা মো. আকবর আলী পেশায় একজন ঠিকাদার। আর মা মোছা. সেলিনা আখতার সরকারি চাকরিজীবী। তারা দুই ভাই। বড় ভাইও প্রকৌশলী।

বাবা-মায়ের পাশাপাশি পরিবারের অনেকেই বিভিন্ন দফতরের বড় বড় কর্মকর্তা। আত্মীয়দের অনেকেই থাকেন প্রবাসে। তারাই সনির বড় শক্তি।

মানবিক এসব উদ্যোগ নিয়ে কথা হয় প্রকৌশলী মো. মিরাজুস সালেকিন সনির সঙ্গে। শুনালেন দুর্যোগে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়ানোর গল্প।

jagonews24

২০১৭ সালে দিনাজপুরে ভয়াবহ বন্যায় প্রতিবেশী মানুষের কষ্ট দেখে সিদ্ধান্ত নেন ১০০ কেজি চাল বিতরণ করবেন। সেই থেকে শুরু তার। এরপর যখনই অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছেন ততবারই সহযোগিতার আহ্বান তুলে ধরেন ফেসবুকে। এতে ব্যাপক সাড়া পান সনি।

ফেসবুক বন্ধুদের পাশাপাশি এগিয়ে আসেন পরিবারের সদস্যরাও। এ থেকে উৎসাহ আরও কয়েকগুন বেড়ে যায় সনির। তখন থেকে সুযোগ হলেই মানুষের জন্য কিছু করা তার নিত্য দিনের কাজের একটি অংশ হয়ে উঠে। গড়ে তুলেন ‘আস্থা ফাউন্ডেশন’।

Sony-(3).jpg

সেই ফাইন্ডেশনের পক্ষ থেকে এবারও বসে থাকেননি প্রকৌশলী সনি। করোনাভাইরাসে লকডাউনে কর্মহীন হয়ে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়ান তিনি। সহযোগিতা চান ফেসবুক বন্ধুদের কাছে। এগিয়ে আসেন পরিবারের সদস্যরাও।যারা দেশের বাইরে থাকেন তারাও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন।

বাবা, মা, ভাই, চাচা, মামা সকলের সহযোগিতায় প্রথমে চাল, ডালসহ খাদ্যসামগ্রী বিতরণ শুরু করেন তিনি। পরে রমজান মাসের প্রথম দিন থেকে প্রতি বিজোড় রোজায় প্রথম ৩ দিন ২৫০ জন এবং পরে ১০০০ জন করে ১৫ দিনে ১৪ হাজার মানুষকে ইফতার সামগ্রী, খিচুড়ি ও বিরিয়ানি বিতরণ করেন সনি। এসব রান্না করেন নিজ বাড়িতেই। আর এসব কাজে তাকে সবচেয়ে বেশি সহযোগিতা করেন তার মা মোছা. সেলিনা আখতার।

এখন পর্যন্ত আড়াই লাখ টাকার খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেছেন সনি। আরও এক লাখ টাকা তার কাছে মজুদ রয়েছে। এ টাকায় খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করবেন ঈদের পর।

Sony-(3).jpg

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করা মো. মিরাজুস সালেকিন সনি জাগো নিউজকে বলেন, পরিবারের পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি সাড়া পেয়েছি ফেসবুক বন্ধুদের কাছে।সমাজের হৃদয়বান মানুষগুলো আমাকে বিশ্বাস করে সহায়তা পাঠিয়ে থাকেন। তাদের আস্থা আর বিশ্বাসই আমার পুঁজি। ঈদের পরেও এ সহায়তা অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।

সনি বলেন, তার দুটি ফেসবুক পেজ রয়েছে।একটির মাধ্যমে তিনি সাধারণ মানুষকে চিকিৎসকদের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেন। অপরটির মাধ্যমে অসহায় রোগীদের রক্ত জোগাড় করে দেন।

jagonews24

রাজনীতির কথা বলতেই তিনি বলেন, ওই রাস্তায় তিনি হাঁটতে চান না। কারণ রাজনীতি করলে যারা সহযোগিতা করছেন তারা আর সহযোগিতা নাও করতে পারেন। আর সহযোগিতা না পেলে একার পক্ষে মানুষের জন্য এতো কিছু করা সম্ভব নয়।

প্রচার বিমুখ এ তরুণের সহযোগিতা পেয়েছেন এমন একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা কথা হয়। তারা জানায়, প্রতিটি দুর্যোগেই তারা মো. মিরাজুস সালেকিন সনিকে পেয়েছেন। তার সহযোগিতা পেয়ে তারা অনেক খুশি।

এমদাদুল হক মিলন/এমএএস/এমএস