ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

মোবাইল ব্যাংকিংয়ে ঈদের সালামি

জেলা প্রতিনিধি | ব্রাহ্মণবাড়িয়া | প্রকাশিত: ০৪:৩৭ পিএম, ২৬ মে ২০২০

ছোটদের কাছে ঈদের প্রধান আকর্ষণ থাকে গুরুজনদের সালামি। প্রতিবছরই পবিত্র ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহায় ছোটাদের সালামি হিসেবে নতুন টাকা দিয়ে থাকেন গুরুজনরা। সেই সালামি ছোটদের ঈদ আনন্দকে আরও বেশি রাঙিয়ে তোলে। কিন্তু প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের কারণে এবারের ঈদ অনেকটাই রঙহীন। তাই বলে তো সালামি দেয়া-নেয়া বন্ধ থাকতে পারে না। আর তাইতো ঘরে বসেই গুরুজনদের কাছ থেকে সালামি পেয়েছে ছোটরা। নগদ টাকার পরিবর্তে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে সালামির টাকা পেয়ে খুশি তারা।

জরুরি প্রয়োজনে অনেকেই মোবাইল ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে অর্থ লেনদেন করে থাকেন। সহজ ও ঝামেলাবিহীন হওয়ায় দিন দিন বাড়ছে মোবাইল ব্যাংকিং সেবাগ্রহীতার সংখ্যাও। কিন্তু এই মোবাইল ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে ঈদের সালামি দেয়া-নেয়ার ধারণা একেবারেই নতুন ও ব্যতিক্রম। ভিন্নধর্মী এই লেনদেনে দু’পক্ষই বেজায় খুশি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মোবাইল ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে এবার ঈদের সালামি দিয়েছেন এবং নিয়েছেন এমন বেশ কয়েকজনের সঙ্গে কথা হয় জাগো নিউজের এ প্রতিবেদকের। স্বাস্থ্যবিধি মেনে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার স্বার্থে অনেকেই এবার ফেসবুকে মোবাইল ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে ঈদ সালামি দেয়ার বিষয়টি তুলে ধরেন।

আশিকুর রহমান মিঠু ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের কাজীপাড়া মহল্লার বাসিন্দা। বাড়িতে তার ছোট দুই ভাই রয়েছেন। দুই ঈদে তাদেরকে সালামি দেয়ার পাশাপাশি মহল্লার ছোট ভাইদেরও সালামি দিতে হয়। ঈদের দিন পা ছুঁয়ে সালাম করেই ছোট ভায়েরা হাত বাড়ায় সালামির জন্য। সালামি দিতে দিতেই মানিব্যাগ থেকে টাকা ফুরিয়ে যায় মিঠুর।

তিনি বলেন, ঈদের আগে ব্যাংকে ভিড় বেশি থাকায় টাকা তুলতে পারিনি। ঈদের আগের দিন রাতে ফেসবুকে দেখি অনেকেই মোবাইল ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে সালামি চাইছে। বিষয়টি আমার কাছে খুবই চমৎকার লেগেছে। সেজন্য এবার ছোট দুই ভাইকে বিকাশ ওয়ালেটের মাধ্যমে ঈদের সালামি দিয়েছি। স্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা বিবেচনায় মহল্লার ছোট ভাইরা বাড়িতে আসতে পারেনি। কিন্তু তাদরেকেও বিকাশের মাধ্যমে সালামি দিয়েছি। সবমিলিয়ে এবারের ঈদে ১০ হাজার টাকা সালামি দিতে হয়েছে।

বাহাদুর আলম নামে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের ফুলবাড়িয়া এলাকার এক যুবক জানান, ঈদের দিন বড়দের পা ছুঁয়ে সালাম করে তাদের কাছ থেকে সালামি নেয়াটা তার কাছে ভীষণ আনন্দদায়ক। এবার ঈদ উপলক্ষে আগেই ঢাকার মিরপুরে থাকা বড় বোন তার জন্য একটি পাঞ্জাবি পাঠিয়েছেন। আর ঈদের আগের দিন রাতে সালামি হিসেবে বিকাশের মাধ্যমে দুই হাজার টাকা পাঠিয়েছেন। বোনের কাছ থেকে সালামির টাকা পেয়ে বেজায় খুশি তিনি। এ টাকাই ঈদের দিন খরচ করেছেন।

আবু সাঈদ নামে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সুহিলপুর গ্রামের এক কিশোর জানায়, জেলা শহরের কাজীপাড়ায় থাকা তার ফুফাতো ভাই প্রতি ঈদেই তাকে সালামি দিয়ে থাকে। কিন্তু এবার লকডাউনের কারণে কাজীপাড়া গিয়ে সালামি আনতে পারেনি সে। সেজন্য মোবাইল ব্যাংকিং সেবা রকেটের মাধ্যমে ঈদের দিন দুপুরে তাকে সালামি পাঠিয়ে দিয়েছেন। নতুন টাকা না পেলেও রকেটের মাধ্যমে সালামি পেয়ে ভীষণ আনন্দিত সে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কারাগারের চিকিৎসক ইনজামামুল হক সিয়াম জানান, তিনিও ঢাকায় থাকা তার পরিবারের ছোটদের এবার ঈদের সালামি বিকাশের মাধ্যমে দিয়েছেন। পাশাপাশি তার অধিনস্ত কয়েকজন স্টাফকেও সালামি বিকাশ করেছেন। সবমিলিয়ে ৭-৮ জনকে সর্বনিম্ন ২০০ টাকা থেকে শুরু করে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত দিয়েছেন তিনি। করোনার এই উদ্ভুত পরিস্থিতিতে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ছোটদের সালামি দেয়ার বিষয়টি তার কাছে খুবই চমৎকার এবং ব্যতিক্রম মনে হয়েছে।

ফরিদ মিয়া নামে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের এক মোবাইল ব্যাংকিং এজেন্ট জানান, ঈদের নামাজের পর থেকে দোকানে ছোট ছেলেদের আনাগোনা বাড়তে থাকে। দুপুর পর্যন্ত তার দোকানে ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকার ক্যাশ আউটকারীর সংখ্যাই ছিল সবচেয়ে বেশি।

সময় বাঁচাতে এবং ঝামেলা বিহীন হওয়ায় মানুষ দিন-দিন মোবাইল ব্যাংকিংয়ে পারদর্শী হয়ে উঠছে। আর মোবাইল ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে ঈদ সালামি দেয়ার বিষয়টিকেও চমকপ্রদ মনে করছেন ব্যাংক সংশ্লিষ্টরা।

এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ব্যাংকার্স ফোরামের সভাপতি ইকবাল হোসেন ভূইয়া বলেন, দিন দিন মোবাইল ব্যাংকিং সেবা জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এবারের ঈদে অনেকেই মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে সালামি দিয়েছেন বলে শুনেছি। আমার নিজের কাছেও বিষয়টি চমকপ্রদ মনে হয়েছে।

আজিজুল সঞ্চয়/এফএ/পিআর