ত্রাণ বিতরণ নিয়ে ঠিকাদার ও চেয়ারম্যানের গোলাগুলি, আহত ১০
ঈদের পরদিন ত্রাণ বিতরণকে কেন্দ্র করে ইউপি চেয়ারম্যান গ্রুপের সমর্থকদের গুলিতে তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার কবিরাজপুর ইউনিয়নের পান্তাপাড়া বাজারে।আহতদের মধ্যে দুইজনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং একজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ ৬ জনকে আটক করেছে।
পুলিশ ও বিশ্বস্ত স্থানীয় সূত্র জানায়, ঢাকার ঠিকাদার ও ব্যবসায়ী লক্ষন দাস উপজেলার কবিরাজপুর ইউনিয়নের পান্থাপাড়া মোড়ে করোনাভাইরাসে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ত্রাণ হিসেবে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করছিলেন। এ সময় স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান টিপু সুলতানের ভাই কামরুজ্জামানসহ ২০/২৫ যুবক মোটরসাইকেল নিয়ে মহড়া দেয়। এ নিয়ে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে উভয়পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।

একপর্যায়ে সংঘর্ষ ব্যাপক আকার ধারণ করে।সংঘর্ষ চলাকালে গোলাগুলিতে দুইজন গুলিবিদ্ধসহ ৮ জন আহত হয়। আহত দুই গুলিবিদ্ধ বাদল খোন্দকারকে ঢাকা মেডিকল কলেজ হাসপাতালে ও মোকা মাতুব্বরকে ফরিদপুর মেডিকল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া আরেক আহত কাদের মাতুব্বরকেও ফরিদপুর মেডিকল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়। তবে বাদল খোন্দকারের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
ত্রাণ বিতরণ করা সেই ঠিকাদার লক্ষন দাস জানান, এলাকাবাসীর আহ্বানে ত্রাণ দিতে ঢাকা থেকে এলাকায় আসি এবং ১৪শ পরিবারের মাঝে বিতরণ করি। আরও ৭শ পরিবারের ত্রাণ আমার গোডাউনে মজুদ রয়েছে। বাধার মুখে পড়ে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এ ঘটনার পর মজুদকৃত ত্রাণ বিতরণ করতে পারবো কিনা তা নিয়ে আমি শংকিত।
এ ঘটনায় চেয়ারম্যান টিপু সুলতান জানান, ত্রাণ বিতরণে বাঁধা দেয়া হয়নি।সদ্য ঢাকা থেকে আসায় তাকে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে বলা নিয়ে বিতণ্ডা বাধে। অন্যদিকে একে অপরকে দোষারোপ করায় গুলি বর্ষণের ঘটনা নিয়ে ধুম্রজালের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে ওসি তদন্ত আনোয়ার হোসেন জানান, এ ব্যাপারে ৬ জনকে আটক করা হয়েছে।রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
একে এম নাসিরুল হক/এমএএস/এমএস