ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

মন্ত্রী পরিচয়ে তদবির-অর্থ আদায়, প্রতারক গ্রেফতার

জেলা প্রতিনিধি | গাইবান্ধা | প্রকাশিত: ০৮:৫৫ পিএম, ২১ জুন ২০২০

গাইবান্ধায় শিল্পমন্ত্রী পরিচয় দিয়ে ডিসি, এসপি, ডিআইজি ও বিজিবির হেড কোয়ার্টারে ফোন দিয়ে প্রতারণা করে অর্থ আদায়ের দায়ে নাছির উদ্দিন (২৮) নামে এক ভুয়া শিল্পমন্ত্রীকে গ্রেফতার করেছে ডিবি পুলিশ।

গ্রেফতারকৃত প্রতারক নাছির উদ্দিন গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার পূর্ব বৈদ্যনাথ গ্রামের জাহিদুল ইসলামের ছেলে।

রোববার (২১ জুন) দুপুরে গাইবান্ধা পুলিশ সুপারের (এসপি) কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। এর আগে রোববার সকালে তাকে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার পূর্ব বৈদ্যনাথ গ্রাম থেকে গ্রেফতার করা হয়।

সংবাদ সম্মেলন গাইবান্ধার পুলিশ সুপার মুহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম জানান, গ্রেফতারকৃত নাছির উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে কখনও শিল্পমন্ত্রী, কখনও রাষ্ট্রের বিভিন্ন দফতরের বড় কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন অফিসে ফোন করে তদবিরসহ অর্থ আদায় করে আসছে। গত ৩ মার্চ দুপুর ২টা ২০ মিনিটে নাছিরের নিজস্ব মোবাইল নম্বর- ০১৭১১৫১৮৫০১ থেকে গাইবান্ধা পুলিশ সুপারের ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরে- ০১৭১৮৭২৭৫৩১ ফোন করে নিজেকে শিল্পমন্ত্রী পরিচয় দিয়ে এসআই আবদুল ওয়াহেদের বদলি স্থগিত করতে নির্দেশ দেন। এরপর গত ৭ জুন দুপুর ২টা ৩৫ মিনিটে একই নম্বর থেকে রংপুর রেঞ্জের ডিআইজির সরকারি টিএনটি নম্বরে- ০৫২১৬৮১০১ ফোন করে শিল্পমন্ত্রীর পরিচয় দিয়ে তদবির করার চেষ্টা করেন। এরপর রংপুর রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজির সরকারি মোবাইল নম্বরে- ০১৭১৩৩৭৪৬৪১ ফোন দিয়ে একইভাবে শিল্পমন্ত্রীর পরিচয় দিয়ে পুলিশ সদস্যের বদলিসহ নানা তদবিরের বিষয়ে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখান। তদবিরের বিষয়টি সুন্দরগঞ্জ উপজেলার হওয়ায় অতিরিক্ত ডিআইজি গাইবান্ধার পুলিশ সুপারের সঙ্গে আলোচনা করেন।

jagonews24

পরে গাইবান্ধার পুলিশ সুপারের কাছে বিষয়টি সন্দেহ হলে ডিআইজির কাছ থেকে মোবাইল নম্বরটি নিয়ে দেখেন একই নম্বর। তখন উক্ত নম্বরের কললিস্ট সংগ্রহ ও নেটের গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, উক্ত নম্বরটি সুন্দরগঞ্জের নাছির উদ্দিন ব্যবহার করছেন। সে এই নম্বর ব্যবহার করে বিভিন্ন অফিসে চাকরি, বদলিসহ নানা অপকর্ম করছেন। সে একজন পেশাদার প্রতারক বলে জানান পুলিশ সুপার।

এছাড়াও নাছির গত ২৫ মে বিগ্রেডিয়ার জাহিদের ফোনে কল করে মির্জা জলিলের পরিচয় দেন। ৪ জুন কুড়িগ্রামের ডিসির ফোনে শিল্পমন্ত্রীর পরিচয়ে নিয়োগের তদবিরের কথা বলেন। ১১ মে বিজিবি হেডকোয়াটারের কর্নেল মাহফুজের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। ১৭ মে যমুনা ব্যাংকের এমডি ইলিয়াসের ফোনে তদবির করার বিষয়ে কথা বলেন। ৪ জুন দিনাজপুরের পুলিশ সুপারের ফোনে জনৈক এএসআই এর বদলির বিষয়ে তদবির করেন। ১৮ মে ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট ডিজি মেডিকেল সার্ভিসের ফোনে কল দিয়ে মির্জা জলিলের পরিচয়ে তদবির করেন। এছাড়াও বিভিন্ন অফিসে বিভিন্ন পরিচয়ে প্রতারণা করে অর্থ হাতিয়ে নেন। নাছির প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত সিম কার্ডটি ৩ হাজার টাকা দিয়ে ঢাকার এক রিকশাওয়ালার নিকট থেকে কিনেছেন।

এসব ঘটনায় তার নামে সুন্দরগঞ্জ থানায় প্রতারণা, অর্থ আত্মসাৎ ও ভুয়া নাম পরিচয়ের দায়ে মামলা দায়ের হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- গাইবান্ধার এএসপি আবু খায়ের, এএসপি আব্দুল আউয়াল, এএসপি ময়নুল হক, সদর থানার অফিসার ইনচার্জ খান মো. শাহরিয়ারসহ গাইবান্ধা জেলায় কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় কর্মরত সাংবাদিকরা।

জাহিদ খন্দকার/এফআর/এমকেএইচ