ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

দেড়শ মিটার ভাঙা সড়কের জন্য ৫ গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ

জেলা প্রতিনিধি | কক্সবাজার | প্রকাশিত: ০২:০৬ পিএম, ২৭ জুন ২০২০

কক্সবাজার সদরের ঈদগাঁওয়ের বাসস্টেশন-দরগাহপাড়া-ভাদিতলা সড়কের দেড়শ মিটার ভাঙা অংশ নিয়ে গত ১০ বছর ধরে ভুগছে পাঁচ গ্রামের প্রায় ১৫ হাজার মানুষ। কাঠের সাঁকোতে কোনো মতে চললেও সম্প্রতি ঢলে সেই সাঁকোও তলিয়ে গেছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছে ওইসব গ্রামের মানুষ। সড়কের ভাঙা অংশটি টেকসইভাবে মেরামতে উদ্যোগ নেয়ার অনুরোধ জানিয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেছেন একেএম জাহাঙ্গীর আলম নামে ওই এলাকার এক বাসিন্দা।

আবেদনটি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দিন আহমেদ, চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর কক্সবাজারের উপ-পরিচালকের কাছে অনুলিপি হিসেবে পাঠানো হয়েছে। আবেদনকারী একেএম জাহাঙ্গীর আলম সদরের ঈদগাঁও ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড ভাদিতলার বাসিন্দা মাস্টার আলী হোছাইনের ছেলে।

একেএম জাহাঙ্গীর আলম তার আবেদনে উল্লেখ করেছেন, কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ঈদগাঁও বাসস্টেশনের পূর্বপাশের ভাদিতলা-দরগাহপাড়া-শিয়াপাড়া-পশ্চিম ভাদিতলাসহ ৭ নম্বর ওয়ার্ডে ভোটার সংখ্যা প্রায় ৩ হাজার ৬০০। এখানে দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও তিনটি পাড়ালিয়া বাজার রয়েছে। এলাকায় উৎপন্ন হয় নানা মৌসুমী অর্থকরী ফসল। এসব এলাকায় প্রায় ১৫ হাজার মানুষের বসবাস। শিক্ষার্থীসহ এসব মানুষের যাতায়াতের একমাত্র পথ বাসস্টেশন-দরগাহপাড়া-ভাদিতলার প্রায় তিন কিলোমিটারের সড়ক।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিগত বছর দশেক আগে পাহাড়ি ঢলের বন্যায় ঈদগাঁও ফুলেশ্বরী নদীর পালপাড়া অংশটি ভেঙে সড়কটির দরগাহপাড়ার পশ্চিমাংশে প্রায় দেড়শ মিটারের মতো একেবারে জলাশয়ে পরিণত হয়। ক্ষতবিক্ষত হয় আরও কিছু অংশ। তখন থেকে বিভিন্ন দফতরে নানাভাবে যোগাযোগ করা হলেও সড়কটি মেরামতে যথাযথ উদ্যোগ নেয়া হয়নি। স্থানীয়রা স্ব-উদ্যোগে কাঠের সাঁকো তৈরি করে কোনো মতে যাতায়াত সচল রাখেন। কিন্তু প্রতিবছর বর্ষায় পাহাড়ি ঢলে কাঠের সাঁকোটি ভেসে যায়।

Coxs-Eidgah-Damage-Road

গত ১৬ জুনের ভারি বর্ষণে ১৭ জুন ভোররিয়াঘোনা হয়ে আসা ঢলের পানিতে শিয়াপাড়া-পালপাড়া-দরগাহপাড়া, ভাদিতলা, কলেজ গেইট, মাইজপাড়ার পুরো বিল পানিতে একাকার হয়ে যায়। এ সময় সড়কটির সেই কাঠের সাঁকোটি আবারও ভেঙে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। নিজেদের প্রচেষ্টায় আবারও কাঠের সাঁকো তৈরি হয়েছে। কিন্তু এভাবে অস্থায়ী সমাধানে প্রকৃতির সঙ্গে সবসময় যুদ্ধ করতে হচ্ছে হাজারো শিক্ষার্থীসহ ১৫ হাজার মানুষকে।

সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কটির ভাঙা অংশে নড়বড়ে সাঁকো তৈরি করে স্থানীয়রা চলাচল অব্যাহত রেখেছেন। পূর্বপাশে সাঁকো তৈরি করা গেলেও পশ্চিমাংশে সাঁকো করার কোনো পজিশন না পেয়ে এক পাশে একটি বাঁশ টানিয়ে কোনো মতে পার হচ্ছেন স্থানীয়রা। এখানে জনচলাচলই ঝুঁকিতে হওয়ায় যান চলাচল কল্পনাও করা যাচ্ছে না। ফলে যে কোনো মালামাল পারাপারে দুর্ভোগের পাশাপাশি ব্যয়ও বেশি হচ্ছে।

স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ড কক্সবাজার জেলার সাধারণ সম্পাদক নুরুল হাকিম নুকি বলেন, ভাঙা সড়কটি মেরামতে বিভিন্ন দফতরে যোগাযোগ করা হয়েছে। স্থানীয় এমপিও বেশ কয়েকবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। কিন্তু এলাকার মানুষের দুর্ভোগ কোনোভাবেই লাঘব হচ্ছে না।

আবেদনকারী একেএম জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এতদিন সব জায়গায় মৌখিকভাবে যোগাযোগ হয়েছে। হয়তো সে কারণে আমাদের ভোগান্তি লাঘবে উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে না ভেবে সবার কথা চিন্তা করে এবার লিখিত আবেদন করেছি। সড়কের ভাঙা অংশে একটি সুপরিসর কালভার্টসহ উভয় পাশ টেকসইভাবে পাকা করা গেলে ১৫ হাজার মানুষ যাতায়াতের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাবে।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন বলেন, একটি আবেদন পেয়েছি। এলাকাটি পরিদর্শন করে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের জানানো হবে।

সায়ীদ আলমগীর/আরএআর/পিআর