গৃহবধূ হত্যার বিচার চাইতে মাঠে নামলেন শতাধিক গৃহবধূ
পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার মন্ডতোষ গ্রামের গৃহবধূ মিনা খাতুনকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। মিনা হত্যাকারীদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও শাস্তি প্রদান করতে হবে। এ দাবি ওই গ্রামের শতাধিক গৃহবধূর।
শনিবার (২৭ জুন) দুপুরে ভাঙ্গুড়া বাজার বকুলতলা চত্বরে ঘণ্টাব্যাপী এক মানববন্ধন কর্মসূচিতে তারা এসব দাবি করেন।
গৃহবধূদের এ মানববন্ধনে উপস্থিত হয়ে বক্তব্য দেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আজাদ খান, মন্ডতোষ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. নুর ইসলাম মিন্টু, উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমান তারেক, পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি প্রভাষক হেলাল খান, মৃত গৃহবধুর খালা শিল্পী খাতুন ও মামা সাহেব আলী প্রমুখ।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সোমবার সকালে রান্না ঘরের ডাবের সাথে মিনাকে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। সেখান থেকে তার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। কিন্তু ওই ডাব থেকে মেঝের দূরত্ব এতো বেশি নয় যেখানে ঝুলে আত্মহত্যা করা যায়। এ মৃত্যুর পেছনে রহস্য রয়েছে। তাকে মেরে ফেলা হয়েছে বলে তারা দাবি করেন।
তারা অরও বলেন, ঘটনার আগের দিন রাতে মিনার স্বামী খালেক ঢাকা থেকে বাড়ি আসেন এবং ভাইদের সহায়তায় মিনার ওপর নির্যাতন চালান। এতে মিনা মারা যান। পরে তার গলায় দড়ি পেচিয়ে ঘরের ডাবের সাথে ঝুলিয়ে রেখে খালেক গা ঢাকা দেন।

মানববন্ধনে বক্তারা এ হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। তারা অবিলম্বে এ ঘটনায় জড়িত আসামিদের গ্রেফতার ও তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
মন্ডুতোষ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ বলেন, মিনা খাতুনকে হত্যা করা হয়েছে বলে গ্রামবাসী তার কাছে অভিযোগ করেছেন।
ভাঙ্গুড়া থানা পুলিশের ওসি (তদন্ত) নাজমুল হক বলেন, প্রাথমিক তদন্তে এটি আত্মহত্যা বলে মনে হযেছে। তবে লাশের ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়ার পর হত্যার প্রমাণ মিললে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
প্রসঙ্গত, ১৫ বছর আগে পারিবারিকভাবে চাচাতো বোন মিনা খাতুনকে বিয়ে করেন আব্দুল খালেক। বিয়ের পর থেকেই শ্বশুর ও চাচা মন্তাজ আলীকে জামাই খালেক সব সম্পত্তি তাকে লিখে দিতে বলতেন। এ নিয়ে দফায় দফায় ঝামেলা করতেন তিনি। শেষ পর্যন্ত মিনার বাবা মন্তাজ আলী মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে তার মোট ১২ বিঘা জমি মিনার নামে দানস্বত্ত্ব হিসেবে রেজিস্ট্রি করে দেন।
এতে আব্দুল খালেক আরও রাগান্বিত হন। তার নামে জমি না দেয়ায় তিনি মিনাকে মারধর করতেন। শুধু তাই নয় কিছুদিন আগে তিনি ২য় বিয়ে করেন। তাকে নিয়ে ঢাকায় চলে যান এবং একটি গার্মেন্টসে চাকরি নেন। মিনার সাথে যোগাযোগও বন্ধ করে দেন। তিনি মাঝে মধ্যে গ্রামে আসতেন। তবে মিনাকে তিনি স্ত্রীর মর্যাদা দেননি। এমনকি মিনার দেবর শানিল হোসেন (২৮)ও বড় ভাবি মিনার ওপর নির্যাতন করতেন।
স্বামীর বাড়ির অন্য সদস্যরাও খালেকের পক্ষ নিয়ে মিনার সাথে খারাপ ব্যবহার করতেন। এতে দুঃখ পেয়ে মিনার বাবাও মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। ঘটনার আগের দিন রাতে মিনার স্বামী খালেক বাড়ি আসেন। আর সকালেই মিনার ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এমএএস/এমকেএইচ