লালমনিরহাটে খাবার ও পানির সঙ্কটে ৩০ হাজার পরিবার
উজানের ঢলে তিস্তার পানি ক্রমেই বেড়ে বিপৎসীমার ২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে লালমনিরহাট জেলার পাঁচ উপজেলায় তিস্তা তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের প্রায় ৩০ হাজার পরিবার তিনদিন ধরে পানিবন্দি। এ অবস্থায় প্রয়োজনীয় খাবার ও পানির সঙ্কটে রয়েছে কয়েক হাজার পরিবার।
গত তিন দিনেও কোনো ত্রাণসহায়তা পায়নি দুর্গতরা। একদিকে করোনাভাইরাসের আতঙ্ক অন্যদিকে পানিবন্দি ও নদীভাঙনের আতঙ্ক। সব মিলে চরম দুর্ভোগে পড়েছে পানিবন্দি পরিবারগুলো।
শনিবার (২৭ জুন) বিকেল ৩টার দিকে দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজ ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানিপ্রবাহ রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ৮০ সেন্টিমিটার, যা বিপৎসীমার ২০ সেন্টিমিটার (স্বাভাবিক ৫২ দশমিক ৬০ সেন্টিমিটার) ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ব্যারাজটি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ৪৪টি গেট খুলে দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

রাস্তা-ঘাট পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় দুর্ভোগ বেড়েছে বন্যাকবলিত মানুষের। বেশির ভাগ বানভাসি মানুষ গত তিনদিন থেকে রান্না করতে না পেরে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে। পরিবারগুলোর মাঝে বিশুদ্ধ পানি ও খাবারের সঙ্কট দেখা দিয়েছে। গত তিনদিনে বানভাসিদের মাঝে সরকারিভাবে কোনো খাদ্যসহায়তা পৌঁছায়নি। অনেক পরিবার রাস্তায় আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছে। জরুরি ভিত্তিতে তাদের জন্য খাদ্যসহায়তা দেয়া দরকার।
এদিকে, পানি বৃদ্ধির ফলে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম, হাতীবান্ধা উপজেলার সানিয়াজান, বাঘেরচর, জিঞ্জির পাড়া, নিজ শেখ সুন্দর, পাড় শেখ সুন্দর, গড্ডিমারী, দোয়ানী, ছয়আনী, সিন্দুর্না, চরসিন্দুর্না পাটিকাপাড়া, হলদিবাড়ি, সিংগিমারী, ধুবনী, উত্তর ধুবনী, ডাউয়া বাড়ি, বিছন দই, কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী, তুষভান্ডারের আমিনগঞ্জ, কাকিনা, আদিতমারী উপজেলার মহিষখোঁচা, পলাশী, সদর উপজেলার চর বাসুনিয়া খুনিয়াগাছ, রাজপুর, গোকুণ্ডা ইউনিয়নের তিস্তা নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের প্রায় ৩০ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
তিস্তা পারের বাসিন্দা খোদেজা বেগম (৪৫) বলেন, ঘরে পানি ওঠায় রান্না করতে পারিনি। বন্যার পানিতে হাতে-পায়ে ঘা ধরেছে। কোথাও আশ্রয় নিতে পারিনি। ঘরে খাবার নেই। না খেয়ে আছি আমরা।

গড্ডিমারী ইউনিয়নের ছবের আলী (৫০) বলেন, বানের পানি এসে ঘরে ঢুকেছে। অনেক মালামাল নষ্ট হয়ে গেছে। আমরা পড়েছি বিপদে। না খেয়ে আছি। গত তিনদিনে ত্রাণ কিংবা খাবার পাইনি।
গড্ডিমারী ইউনিয়নের বাঘের চর এলাকায় হাফেজ আলী (৪৮) বলেন, তিনদিন আগে বানের পানির স্রোতে ঘরভিটে ভেঙে গেছে। এখন দোয়ানী গ্রামের সাধুর বাজার এলাকায় রাস্তার পাশে আশ্রয় নিয়েছি। পানি ও খাবারের কষ্টে আছি।
হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আতিয়ার রহমান বলেন, আমার ইউনিয়নের ১, ২, ৩, ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডে বন্যার পানি ঢুকে প্রায় দুই হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। সরকারিভাবে পরিবারগুলোর তালিকা করেছি। তবে এখন পর্যন্ত কোনো ত্রাণসহায়তা দিতে পারিনি।

তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়ার নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, শনিবার সকালে তিস্তার পানি কিছুটা কমলেও বিকেল ৩টার পর বিপৎসীমার ২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অনেক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) আবু জাফর বলেন, পানিবন্দি পরিবারগুলোর জন্য ৮০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। বানভাসি মানুষের মাঝে দ্রুত বিতরণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
রবিউল হাসান/এএম/এমকেএইচ
সর্বশেষ - দেশজুড়ে
- ১ নকল দুধ তৈরির দায়ে কারখানা মালিকের এক বছর কারাদণ্ড
- ২ এলপিজি সংকটে সব গ্যাস স্টেশন বন্ধ, ভোগান্তিতে চালক-সাধারণ মানুষ
- ৩ কোটিপতি ‘ব্যবসায়ী’ তাহেরীর স্ত্রীর নামে কিছুই নেই
- ৪ মোড়কজাত নিবন্ধন না থাকায় দুই প্রতিষ্ঠানকে দেড় লাখ টাকা জরিমানা
- ৫ ‘প্রত্যেক ভোটকেন্দ্রে ক্যামেরা থাকবে, লাইভ দেখা যাবে থানা থেকে’