গাইবান্ধায় বাড়ছে পানি বাড়ছে ভাঙন আতঙ্ক
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ ও পলাশবাড়ি উপজেলায় করতোয়া নদীর পানি আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় এসব এলাকার মানুষের মধ্যে বন্যা আতংক বিরাজ করছে। গত ২৪ ঘণ্টায় করতোয়া নদীর পানি ৯৩ সেন্টিমিটার বৃদ্ধির ফলে বাঙ্গালী, কাটাখালি ও আলাই নদীতেও বাড়তে শুরু করেছে পানি। ফলে স্রোতের তীব্রতার সঙ্গে দেখা দিয়েছে নদীভাঙন।
অপরদিকে ব্রহ্মপুত্র ও ঘাঘট নদীর পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফুলছড়ি, সাঘাটা ও সদর উপজেলার নদী তীরবর্তী বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ভাঙন শুরু হয়েছে। এক সপ্তাহে এ জেলার ৪ উপজেলায় শতাধিক বসতবাড়ি ও কয়েক একর জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।

জানা যায়, ব্রহ্মপুত্র ও ঘাঘট নদীর পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি, সাঘাটা ও সদর উপজেলার নদী তীরবর্তী বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ভাঙন শুরু হয়েছে। এ চার উপজেলার ৩০টির বেশি পয়েন্টে গত দুইদিনে প্রায় দেড় শতাধিক ঘরবাড়ি ও প্রচুর আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এছাড়াও করতোয়া নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে পানি বাড়তে শুরু করেছে বাঙ্গালী, কাটাখালি ও আলাই নদীতে। গত ৩ দিন বাঙ্গালী নদীর ভয়াবহ ভাঙনে সাঘাটা উপজেলার কচুয়া ইউনিয়নের রামনগর গ্রামের কয়েক একর ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।
ভাঙনের শিকার রামনগর গ্রামের আবুল প্রধান জানান, গত ৩ বছরে এই গ্রামের ৫ শতাধিক পরিবার নদী ভাঙনের শিকার হয়েছে। কেউ কখনও খোঁজ রাখেনি।
নদীভাঙনের শিকার রোজিনা বেগম জানান, কয়েকবার বাঙ্গলী নদীর ভাঙনের শিকার হয়ে বাড়ি অন্য স্থানে সরিয়ে নিয়ে যেতে হয়েছে।

কচুয়া ইউপি সদস্য হাবিবুর রহমান জানান, গত দু’দিনে রামনগর গ্রামের ১০টি পরিবার ভিটেমাটি হারিয়েছে। সরকার কোনো ব্যবস্থাই নিচ্ছে না।
গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মোখলেছুর রহমান বলেন, করতোয়ার পানি আগামী দুইদিনের মধ্যে নেমে যাবে। আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। সাঘাটার নদীভাঙন কবলিত স্থানে জিও ব্যাগ ফেলার কাজ চলছে। এছাড়াও যেসব স্থানে নতুন করে ভাঙন দেখা দিয়েছে সেখানে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
জাহিদ খন্দকার/এফএ/এমকেএইচ