ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বৃদ্ধকে বলাৎকার মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ

জেলা প্রতিনিধি | পটুয়াখালী | প্রকাশিত: ০৮:১৮ পিএম, ১৪ জুলাই ২০২০

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় পুলিশ কর্মকর্তার কথা না শোনায় আবুল কালাম মৃধা (৬৫) নামে এক বৃদ্ধ ব্যবসায়ীকে শিশু বলাৎকার মামলায় ফাঁসিয়ে দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে পটুয়াখালীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. সিহাব উদ্দিনের আদালতে দুই শিশুর জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। পরে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য তাদের পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, আবুল কালাম মৃধা বাউফল উপজেলার বগা বন্দর সেতু এলাকায় জেলা পরিষদের ডাকবাংলোর সামনে দীর্ঘদিন ধরে তসবি, টুপি ও জায়নামাজ বিক্রি করতেন। ওই বাংলোতে বগা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মহিবুল্লাহ থাকেন। সম্প্রতি ওই পুলিশ কর্মকর্তা কালাম মৃধাকে দোকান সরিয়ে নিতে বলেন। এ নিয়ে বৃদ্ধের সঙ্গে পুলিশ কর্মকর্তা মহিবুল্লাহর কথাকাটাকাটি হয়। এতে মহিবুল্লাহ ক্ষুব্ধ হন; সেই সঙ্গে কালাম মৃধাকে দেখে নেয়ার হুমকি দেন।

এরই মধ্যে শনিবার (১১ জুলাই) রাতে বগা এলাকার এক শিশুর বাবাকে বাদী করে বাউফল থানায় একটি মামলা গ্রহণ করে পুলিশ। মামলার এজাহারে ওই অভিভাবকের শিশুসন্তানসহ আরেক শিশুকে অপহরণ করে শুক্রবার (১০ জুলাই) ও শনিবার (১১ জুলাই) কালাম মৃধা বলাৎকার করেছেন বলে অভিযোগ আনা হয়। অভিযোগের প্রেক্ষিতে শনিবার রাতেই কালাম মৃধাকে গ্রেফতার করেন বগা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মহিবুল্লাহ।

মামলার বাদী শিশুর বাবা এবং মা সাংবাদিকের কাছে অভিযোগ করে বলেন, আমার ছেলে অপ্রাপ্তবয়স্ক। তাকে ভয় দেখিয়ে স্বীকারোক্তি নিয়েছে পুলিশ। একই সঙ্গে নিরপরাধ বৃদ্ধের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেয়া হয়।

শিশুটির মা বলেন, সোমবার রাতে আমাদের খবর দিয়ে বাউফল থানায় নেয়া হয়। আমাদের এমন ঘটনা জানানো হলে আমরা বলেছি মিথ্যা। এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। তখন ওসি আমাদের ধমক দিয়ে বাড়ি চলে যেতে বলেন। একপর্যায়ে ওসি আমার ছেলেকে থানায় রেখে দেন। ওই দিন রাত ১টার দিকে আমরা বাড়ি চলে যাই। পরে আমার ছেলেকে বাড়ি পাঠানো হয়।

কালাম মৃধার স্ত্রী আলোকা বেগম বলেন, ডাকবাংলোর সামনে আমার বৃদ্ধ স্বামী দোকান করেন দীর্ঘদিন। ওই ডাকবাংলোতে থাকেন পুলিশ কর্মকর্তা মহিবুল্লাহ। আমার স্বামীকে সেখান থেকে দোকান সরিয়ে নিতে বলেছেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা। কিন্তু তার কথা শোনেননি আমার স্বামী। এজন্য তাকে মামলায় ফাঁসিয়েছেন মহিবুল্লাহ।

স্থানীয় দোকানদার আজিজ বলেন, কালাম ভাই দোকানদারি করে তিন সন্তানকে লেখাপড়া করান। লোকটি অনেক দরিদ্র। অনেক কষ্ট করে এ পর্যন্ত এসেছেন। তার নামে কখনও খারাপ কিছু শুনিনি। তিনি শিশুদের সঙ্গে এমন কাজ করেছেন আমাদের বিশ্বাস হয় না। তাকে ফাঁসিয়ে দেয়া হয়েছে।

বাউফল উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল মোতালেব হাওলাদার বলেন, আমি বিষয়টি নিয়ে পটুয়াখালীর পুলিশ সুপারের সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি বলেছেন ঘটনাটি তদন্ত করে দেখবেন। কালাম মৃধা বৃদ্ধ মানুষ। তিনি এমন কাজ করতে পারেন না। তার সঙ্গে এলাকার কারও কোনো ধরনের বিরোধ নেই। তাকে ফাঁসানো হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বগা তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মহিবুল্লাহ বলেন, ব্যক্তিগত কোনো বিরোধের জেরে নয়; বরং মামলার প্রেক্ষিতে কালাম মৃধাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ১০ ও ১১ বছরের দুই শিশুকে অপহরণ করে বলাৎকারের অভিযোগে মামলা হয়েছে। তবে মামলার বাদী এখন ঘটনাটি অস্বীকার করছেন। স্থানীয় এক প্রভাবশালীর চাপে বাদী ঘটনাটি অস্বীকার করছেন।

এ বিষয়ে বাউফল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বলাৎকারের শিকার দুই শিশু থানায় উপস্থিত হয়ে আমার কাছে ঘটনার বর্ণনা দিয়েছে। দুই শিশুর বক্তব্য রেকর্ড করা আছে। এখন যদি শিশুদের পরিবার বিষয়টি অস্বীকার করে তাহলে আমাদের কিছু করার নেই।

মহিব্বুল্লাহ চৌধুরী/এএম/এমএস