ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

ফরিদপুরে পানিবন্দি ২০ হাজার পরিবার

জেলা প্রতিনিধি | ফরিদপুর | প্রকাশিত: ১০:৩৪ পিএম, ১৭ জুলাই ২০২০

ফরিদপুরের নদ-নদীর পানি প্রতিদিনই বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় পদ্মার গোয়ালন্দ পয়েন্টে ১৫ সেন্টিমিটার পানি বেড়েছে। বর্তমানে এ নদীর পানি বিপৎসীমার ৯৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

ইতিমধ্যে ফরিদপুর সদর উপজেলার দুটি ইউনিয়ন, চরভদ্রাসন ও সদরপুর উপজেলার আটটি ইউনিয়নের প্রায় ২০ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এছাড়াও পানিতে তলিয়ে গেছে ফসলি জমি।

স্থানীয় সূত্র জানায়, গত দুইদিনে চরভদ্রাসন উপজেলায় পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় কমপক্ষে ৪০০০ পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এরমধ্যে উপজেলা সদর ইউনিয়নের প্রায় ৫০০, গাজীরটেক ইউনিয়নের প্রায় ৪৫০, চরঝাউকান্দা ইউনিয়নের প্রায় ৪০০ ও চরহরিরামপুর ইউনিয়নের প্রায় সাড়ে ৬০০ পরিবার রয়েছে।

farid

চরভদ্রাসন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আলভীর হোসেন জানান, ২১৫ হেক্টর জমির ফসলের ক্ষতি হয়েছে। এরমধ্যে আউশ, আমন, সবজি ও আমনের বীজতলা রয়েছে।

চরভদ্রাসন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন সুলতানা জানান, উপজেলার অধিকাংশ এলাকা পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে। ইতিমধ্যে ৪০০০ পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। দুর্গতদের খাদ্য সহায়তা দেয়া শুরু হয়েছে।

ফরিদপুর সদর উপজেলার নর্থচ্যানেল ও ডিক্রিরচর ইউনিয়নে প্রায় ৬০০০ পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এছাড়া চরমাধবদিয়া ও আলিয়াবাদ ইউনিয়নের আংশিক এলাকা পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে।

ফরিদপুর সদর উপজেলার নর্থচ্যানেল ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তাকুজ্জামান বলেন, ইউনিয়নের ৭০ শতাংশই পানিতে তলিয়ে গেছে।

farid

সদরপুর উপজেলার চরনাছিরপুর ইউনিয়নে চার হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এছাড়া চরমানাইর ইউনিয়নে ১৫০০ পরিবার, দিয়ারা নারিকেলবাড়িয়ায় ২০০ এবং আকোটেরচর ও ঢেউখালী ইউনিয়নের এক হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

চরনাছিরপুর ইউপি চেয়ারম্যান শেখ মো. আক্কাস আলী বলেন, ইউনিয়নে প্রায় ৪০০০ পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। ট্রলারে করে মানুষ যাতায়াত করছে।

farid

সদরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পূরবী গোলদার বলেন, আমরা দুর্গতদের সহায়তার জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। আগামীকাল শনিবার (১৮ জুলাই) থেকে ত্রাণ সহায়তা দেয়া শুরু হবে।

ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুলতান মাহমুদ জানান, পদ্মার পানি গোয়ালন্দ পয়েন্টে বিপৎসীমার ৯৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকায় পানি প্রবেশ করছে। তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে মধুমতি নদীর আলফাডাঙ্গা ও মধুখালী উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নে।

ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক অতুল সরকার জানান, দ্বিতীয় দফায় পানি বৃদ্ধির কারণে জেলা সদরের দুটি ইউনিয়নসহ চরভদ্রাসন এবং সদরপুর উপজেলার প্রায় ২০ হাজার পরিবার পানিবন্দি রয়েছে। দুর্গতদের শুকনা খাবারসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ শুরু হয়েছে।

বি কে সিকদার সজল /এএইচ