ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

আর ভিক্ষা করতে হবে না আলেয়া-আলাপির

জেলা প্রতিনিধি | ফরিদপুর | প্রকাশিত: ০৮:৫২ এএম, ১৬ আগস্ট ২০২০

আর ভিক্ষা করে জীবিকা নির্বাহ করতে হবে না আলেয়া, আলাপি ও স্বপ্নাষীর। কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন জেলা প্রশাসক অতুল সরকার। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে শনিবার (১৫ আগস্ট) বিকেলে ফরিদপুরের অসহায় পাঁচ ব্যক্তিকে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন জেলা প্রশাসক অতুল সরকার।

সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মাসুম রেজার উদ্যোগ ও ‘উই কেয়ার’র সভাপতি কানাডা প্রবাসী রোকেয়া পারভিনের আর্থিক সহযোগিতায় অসহায় ৫ নারী-পুরুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হয়। জেলা প্রশাসক অতুল সরকার প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে অসহায় এ পাঁচজনের হাতে কাজের সকল সরঞ্জামাদি তুলে দেন।

কর্মসংস্থান পাওয়া শহরের গোয়ালচামট এলাকার আলেয়া বেগম, শোভারামপুর এলাকার আলাপি বেগম ও স্বপ্নাষীর কোনো বাড়িঘর নেই। এরা সকলেই ভিক্ষা করে তাদের জীবিকা নির্বাহ করতেন।

আলেয়া বেগমকে চায়ের দোকান করার জন্য দুটি কেতলি, কেরোসিন চুলা, ছাকনি, চা ও চিনি রাখার পাত্র, ১২টি চায়ের কাপ দেওয়া হয়। আলাপি বেগমকে ফুচকা ও ফুচকা তৈরির কাঁচামাল, হাফপ্লেট ও অন্যান্য জিনিসপত্র দেওয়া হয় এবং স্বপ্নাষীকে বিভিন্ন ধরনের সবজি কিনে দেয়া হয় যা বিক্রি করে নিজে সাবলম্বী হতে পারবে।

আলেয়া বেগম ও আলাপি বেগম বলেন, আমরা খুব খুশি হয়েছি। আমাদের আর মানুষের কাছে হাত পাততে হবে না। আমরা ভিক্ষার পথ ছেড়ে দেব। আমরা এখন কাজ করে রোজগার করব। দু’মুঠো ভাতের জন্য ভিক্ষা করতাম। এখন চা বিক্রি করে রোজগার করব।

এদিকে গুহলক্ষীপুরের আজাদকে চা তৈরি করে বিক্রি করার সরঞ্জামাদি ও শোভারামপুরের মনোজ শীলকে সেলুন দেয়ার জন্য সরঞ্জামাদি দেয়া হয়।

স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘উই কেয়ার’র সমন্বয়কারী সঞ্জয় সাহা বলেন, আমরা মোট একশ জন ভাসমান বা অসহায়কে কর্মসংস্থান করে দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছি। জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় ও সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মাসুম রেজার সহযোগিতায় জাতীয় শোক দিবসে এই উদ্যোগের যাত্রা শুরু হলো। আমরা খুঁজে খুঁজে এমন একশ মানুষ বের করতে চাই যারা ভিক্ষা করে চলে বা এখানে সেখানে থাকে। যাদেরকে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দিলে চলতে পারবে।

জেলা প্রশাসক অতুল সরকার বলেন, আমরা ভিক্ষুকমুক্ত একটি সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে চাই। যারা ভিক্ষাবৃত্তির সঙ্গে জড়িত তাদেরকে যদি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দেয়া যায় তাহলে ভিক্ষুকমুক্ত সমাজ গড়া সম্ভব। এই কাজে উই কেয়ার যেমন সহযোগিতা করছে এভাবে যদি প্রত্যেকটি সমাজিক সংগঠন এগিয়ে আসে তাহলে ভিক্ষুকমুক্ত সমাজ গড়া সম্ভব।

সিকদার সজল/এফএ/এমএস