গাজনার বিলে নিখোঁজের ২০ ঘণ্টা পর মিলল শিক্ষার্থীর লাশ
বাবা-মায়ের সঙ্গে নৌকা ভ্রমণে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে গাজনার বিলের পানিতে পড়ে নিখোঁজের ২০ ঘণ্টা পর তামিম (১৭) নামে এক শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
এর আগে বুধবার (১৯ আগস্ট) বিকেলে পাবনার সুজানগর উপজেলার গাজনার বিলে বাবা-মায়ের সঙ্গে নৌকা ভ্রমণে গিয়েছিল তামিম। বিকেল ৪টার দিকে বিলের ওপর দিয়ে টানানো বৈদ্যুতিক তারে স্পর্শ লেগে সে পানিতে পড়ে নিখোঁজ হয়।
পাবনা ফায়ার সার্ভিসের ওয়্যারহাউজ ইন্সপেক্টর সোহেল রানা এবং তামিমের খালা নতিজা খাতুন মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিহত তামিম পাবনার সুজানগর উপজেলার আহমেদপুর ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামের তাহেজ মন্ডলের ছেলে। তার মা নূরজাহান বেগম সোনাতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা। সে এবার সুজানগর উপজেলার দুলাই উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে গোল্ডেন এ প্লাস পেয়ে কলেজে ভর্তির অপেক্ষায় ছিল।
আমিনপুর থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) খোকন চন্দ্র দাস স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানান, তামিম গাজনার বিলে পারিবারিক ভ্রমণে বের হয়েছিল। সঙ্গে তার বাবা-মা ছিলেন। নৌকা যখন সুজানগর উপজেলার হাটখালী ইউনিয়নের গাজনা বিলের বাদাই নামক স্থানে ছিল তখন তামিম নৌকায় দাঁড়িয়ে ছিল। সেখানে বৈদ্যুতিক তার দুই পাশে উঁচুতে থাকলেও মাঝে বেশ নিচু ছিল। সেখানে তামিমের মাথায় বিদ্যুৎবাহী তার লাগে। এতে খোকন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে পানিতে পড়ে যায়।
এদিকে ঘটনার পরপরই তামিমের বাবা-মায়ের চিৎকারে স্থানীয়রা নৌকা নিয়ে ছুটে আসেন। তারা বিকেল থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত খোঁজাখুঁজি করেও তামিমকে খুঁজে পাননি।
পাবনা ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক সাইফুজ্জামান জানান, পাবনাায় কোনো ডুবুরি নেই। তাই রাজশাহী ফায়ার সার্ভিস থেকে তিনজন ডুবুরি নিয়ে আসা হয়। তারা বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা থেকে অনুসন্ধান শুরু করেন। দুপর ১২টায় বিলের তলা থেকে তামিমের মরদেহ দেহ উদ্ধার করেন।
আমিনপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক জানান, রাত ১১টা পর্যন্ত স্থানীয়রা ও তামিমের স্বজনরা খোঁজাখুঁজি করেও তাকে পাননি। বৃহস্পতিবার দুপুরে ডুবুরিরা তামিমের মরদেহ উদ্ধার করেছেন। তার মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
আরএআর/জেআইএম