ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

জোয়ার এলেই ঘর ডোবে

জেলা প্রতিনিধি | পটুয়াখালী | প্রকাশিত: ০৯:৪৬ এএম, ২১ আগস্ট ২০২০

আমাবস্যার জোয়ারের প্রভাবে বঙ্গোপসাগর উত্তাল হওয়ায় জেলার সকল নদ-নদীতে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। গত তিন দিন যাবৎ ভাঙা বেড়িবাঁধ দিয়ে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করছে। দিন-রাত দুই বার জোয়ারের পানি প্রবেশ করে আর ভাটায় পানি নেমে যায়। এতে ভোগান্তিতে পড়েছে সাধারণ মানুষ।

জানা গেছে, স্বাভাবিকের চেয়ে ২ থেকে ৩ ফুট জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় রাস্তাঘাটের উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। তলিয়ে গেছে গ্রামীণ জনপদ, মানুষের বাড়িঘর ও ফসলি জমি। জোয়ারের পানিতে রাঙ্গাবালী উপজেলার চালিতাবুনিয়া ইউনিয়নের চালিতাবুনিয়া বাজার, বিবির হাওলা, গোলবুনিয়া, চরলতা, মধ্য চালিতাবুনিয়া ও মরাজাঙ্গী গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। একইসঙ্গে ভাঙা বেড়িবাঁধ দিয়ে চরমোন্তাজ ইউনিয়নের চরআন্ডা গ্রাম এবং ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের কোড়ালিয়া গ্রামের লোকালয়ে পানি প্রবেশ করছে।

এছাড়া সাগরকন্যা কুয়াকাটার বিভিন্ন স্থান ভেঙে গেছে। সাগরের বিশাল বিশাল ঢেউ আছড়ে পড়ায় ঝাউবাগানসহ লেম্বুরচর এলাকার গাছগাছড়া উপড়ে পড়েছে। কলাপাড়ার লালুয়া, নিজামপুরসহ অনেক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

Potuakhali

এদিকে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় গলাচিপার হরিদেবপুর, মির্জাগঞ্জের পায়রাগঞ্জ, বাউফলের বগা এবং দুমকীর লেবুখালী ফেরিঘাটে ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে।

অপরদিকে পটুয়াখালী পৌর শহরে অপরিকল্পিত শহররক্ষা বাঁধ নির্মাণ করায় প্রতিবছর পূর্ণিমা-আমাবস্যার জোয়ারের পানিতে পৌরসভার নবাবপাড়া, জুবিলীস্কুল সড়ক, পুরাতন হাসপাতাল সড়ক, মহিলা কলেজ সড়ক, সিভিল সার্জন অফিস, সড়ক ও জনপথ অফিস, নিউমার্কেট পোস্টঅফিস সড়ক ও শিমুলবাগ প্লাবিত হওয়ায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে পৌরবাসীকে।

পটুয়াখালী ইউথ ফোরামের সভাপতি মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, গত কয়েকদিন জোয়ারের পানি শুধু গ্রাম-শহরকেই প্লাবিত করেনি, ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ও বাংলাদেশের জন্য সতর্ক সংকেতও দিয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পাবে এবং দক্ষিণাঞ্চল পানির নিচে কিভাবে ডুবে যাবে, তার জ্বলন্ত উদাহরণ এটি। আরও বেশি প্রমাণ দেখতে হলে কুয়াকাটা সৈকত দেখেন।

শহরের নদীর পাড় এলাকার বাসিন্দা শ্রী অতুল শীল জানান, গত তিন দিন যাবৎ রাত-দিন জোয়ারের পানিতে ঘর-দুয়ার তলিয়ে যায় আর ভাটায় পানি নেমে যায়। স্ত্রী ও ছোট ছোট সন্তানদের নিয়ে ঘরের চৌকির ওপরে উঠে বসে থাকি। জোয়ারের পানি নামলে আবার সব ঠিক করতে হয়। ভোগান্তি চরমে। যা বলে বোঝাতে পারবো না।

Potuakhali-1

পটুয়াখালী নদী বন্দরের উপপরিচালক খাজা জানান, নদী বন্দরে ২ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। সে কারণে ৬৫ ফুটের নিচে সকল নৌযান চলাচল আপাতত বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত তা বলবৎ থাকবে।

এদিকে পটুয়াখালী পৌর মেয়র মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, অপরিকল্পিত শহররক্ষা বাঁধের কারণে প্রতি বছর জোয়ারের পানি পৌর শহরে প্রবেশ করে। এতে পৌরবাসীর সিমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হয়। সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পানি উন্নয়ন বোর্ডকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে।

আলীপুর মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. আনছার উদ্দিন মোল্লা জানান, বৈরি আবহাওয়ার কারণে সাগর উত্তাল থাকায় জেলেরা উপকূলে ফিরে এসেছে। মাছ ধরার সব ট্রলার এখন আলীপুর-মহিপুর মৎস্য বন্দরে অবস্থান করছে।

মহিব্বুল্লাহ্ চৌধুরী/এফএ/পিআর