লক্ষ্মীপুরে চাঁদা না পেয়ে ঠিকাদারকে মারধর করে টাকা লুট
প্রতীকী ছবি
লক্ষ্মীপুরে চাঁদা না পেয়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন নির্মাণকাজের সহকারী ঠিকাদার মো. মিলনকে মারধর করে দুই লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে। রোববার (৩০ আগস্ট) বিকেলে ওই কাজের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রিয়া এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মামুনুর রশিদ এ ঘটনায় ঘটনায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। আহত মিলন সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।
ভুক্তভোগী জানান, শনিবার (২৯ আগস্ট) রাতে মধ্য হামছাদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণের অস্থায়ী ঘরে ঢুকে মিলনকে মারধর করেন আসামিরা। এ সময় তার কাছে থাকা শ্রমিকদের বেতন এক লাখ ৬০ হাজার টাকা, দুটো মোবাইল ও বিকাশের গোপন নম্বর নিয়ে যান তারা। বিকাশের ১৮ হাজার টাকা ছিল তার।
অভিযুক্তরা হলেন- সদর উপজেলার উত্তর হামছাদী ইউনিয়নের মধ্য হামছাদী গ্রামের কাউছার, নুর হোসেন বাচ্চু, পিন্টু, রিয়াজ, জুয়েল, ইউসুফ, সুমন, সফি উল্যা, জামাল, আলমগীরসহ আরও ১৫ জন। তাদের বিরুদ্ধে সদর থানায় অপহরণ, চাঁদাবাজি ও ছিনতাইয়ের একাধিক মামলা রয়েছে বলে থানা পুলিশ জানিয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রিয়া এন্টারপ্রাইজ টেন্ডারের মাধ্যমে মধ্য হামছাদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণের কাজ পায়। ওই কাজের সহকারী ঠিকাদার হিসেবে মিলন দায়িত্ব পালন করেন। কাজের শুরু থেকে অভিযুক্তরা ঠিকাদারের কাছ থেকে চাঁদা দাবি করেন। সুষ্ঠুভাবে কাজ পরিচালনার জন্য বাধ্য হয়ে ঠিকাদার তাদের মাঝেমধ্যে চাঁদা দেন। কিন্তু তারা আরও বেশি চাঁদা চায়। দাবি করা চাঁদা না পেয়ে শনিবার রাতে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে নির্মাণকাজের অস্থায়ী ঘরে ঢুকে মিলনের কাছ থেকে ১৬০ হাজার টাকা, দুটি মোবাইল ও বিকাশের গোপন নম্বর নিয়ে যান তারা। পরে তাকে পাশের বাগানে নিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে জখম করা হয়। খবর পেয়ে গ্রাম পুলিশ নিয়ে উত্তর হামছাদী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য (মেম্বার) হাফিজ উল্যা ঘটনাস্থল থেকে মিলনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করেন। পরে তাকে চিকিৎসা দিতে সদর হাসপাতালে নেয়া হয়। মিলনের শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
ইউপি সদস্য হাফিজ উল্যা বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল গিয়ে আহত অবস্থায় মিলনকে উদ্ধার করেছি। পরে স্কুল ভবন নির্মাণকাজের ঠিকাদারের সঙ্গে কথা বলে চিকিৎসার জন্য তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়।
রিয়া এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মামুনুর রশিদ বলেন, বিভিন্ন সময় আমার কাছে অভিযুক্তরা চাঁদা চেয়েছেন। চাঁদা না পেয়ে তারা আমার সহকারী ঠিকাদারকে মারধর করে টাকা, মোবাইল ছিনিয়ে নিয়েছেন। তাদের বাধার কারণে সরকারি কাজ ব্যাহত হচ্ছে।
এ ব্যাপারে সদর মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম আজিজুর রহমান মিয়া বলেন, ঠিকাদারের অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্তের জন্য উপপরিদর্শক (এসআই) সোহেল মিয়াকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। অপরাধী কেউ পার পাবে না।
কাজল কায়েস/এএম/এমএস
সর্বশেষ - দেশজুড়ে
- ১ চট্টগ্রামে ১১ দলীয় জোটের আসন বণ্টন, ১৬ আসনে জামায়াতের ভাগে ৯
- ২ আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে বিএনপি সমর্থককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা
- ৩ ফরিদপুরে ঐতিহ্যবাহী গরুদৌড় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত
- ৪ সুনামগঞ্জে প্রার্থিতা ফিরে পেলেন বিএনপি ও এবি পার্টির প্রার্থী
- ৫ আচরণবিধি লঙ্ঘন করায় মিন্টুর ভাই আকবরকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা