ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

গিলে খাচ্ছে তিস্তা, বরাদ্দের অভাবে অসহায় পাউবো

জেলা প্রতিনিধি | কুড়িগ্রাম | প্রকাশিত: ১১:২১ এএম, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২০

তিস্তা নদীর ভয়াল থাবায় কুড়িগ্রাম-গাইবান্ধা জেলার সীমানা এলাকার তিন শতাধিক বাড়িঘরসহ স্কুল ও মসজিদ নদীগর্ভে চলে গেছে। একমাত্র পাকা সড়কের দু’শ মিটার বিলীন হওয়ায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এলাকাটি। দুই জেলার সীমানা হওয়ায় রশি টানাটানি, জনপ্রতিনিধি এবং সরকারি কর্মকর্তাদের নজরদারীর অভাবে ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব মানুষ। তীব্র ভাঙনে সবকিছু নদী গর্ভে চলে গেলেও বরাদ্দ না পাওয়ায় অসহায় পানি উন্নয়ন বোর্ড।

সরেজমিনে দেখা যায়, তিস্তা নদীর তীব্র ভাঙনে কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার চর বজরা ও গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের লখিয়ার পাড়া এলাকার তিন শতাধিক পরিবার ভিটেহারা হয়েছে। ভাঙনে বিলীন হয়েছে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মসজিদসহ যোগাযোগের একমাত্র পাকা সড়কটিও।

জনপ্রতিনিধিদের অবহেলা এবং তিস্তা নদী দ্বারা বিচ্ছিন্ন গাইবান্ধা জেলার কাশিমবাজার এলাকাটি কুড়িগ্রাম অংশে পড়ায় এর উন্নয়নে দু’জেলার কর্মকর্তাদের গাফিলতি আর রশি টানাটানিতে চরম হুমকির মুখে রয়েছে ৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান,বাজারসহ প্রায় দু’ হাজার পরিবার। ভাঙনে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় গেল ২/৩ বছরে তিন ভাগের দুইভাগ এলাকা তিস্তা নদীর পেটে চলে গেছে। চরচরিতাবাড়ী, চরপাড়াসাধুয়া, মাদারীপাড়াসহ বেশ কিছু গ্রাম তিস্তা নদীর করাল গ্রাসে বিলীন হয়েছে।

jagonews24

পানি উন্নয়ন বোর্ড অস্থায়ীভাবে জিও ব্যাগ ফেললেও অপ্রতুলতার কারণে চলমান তিস্তা নদীর ভাঙনের মুখে রয়েছে লখিয়ারপাড়া, চরবজরাসহ ঐতিহ্যবাহী কাশিমবাজার হাট, কাশিমবাজার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, নাজিমাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়, কাশিমবাজার আলিম মাদরাসা এবং ২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এছাড়াও চিলমারীর উলিপুর বজরায় চলমান এলজিইডির গাফলতির কারণে নির্মাণাধীন মহাসড়কের প্রায় ২শ মিটার সড়ক নদীগর্ভে চলে যাওয়ায় উপজেলার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এলাকাবাসী বলছেন, দ্রুত এই ভাঙন রোধে ব্যবস্থা না নিলে চরবজরা ও কাশিমবাজার এলাকাটি বিলীন হয়ে যাবে। হাজার হাজার মানুষ পথে বসবে।

মাদারীপাড়ার কৃষক খালেক ও সোবহান বলেন, তিস্তা নদীর ভাঙনে ৩-৪ বছরে ৮ বিঘা আবাদি জমি বিলীন হয়ে গেছে তার।

পাড়াসাধুয়ার বাসিন্দা বৃদ্ধা সকিমন বেওয়া (৬৫) বলেন, ‘স্বামী মারা গেছে প্রায় ২০ বছর হইল। এক বেটা আর একটা প্রতিবন্ধী বেটি আছে। বেটা ঢাকাত থাকে খোঁজ নেয় না। প্রতিবন্ধী বেটিক নিয়া খায়া না খায়া দিন কাটে। চেয়ারম্যান-মেম্বার কেউ খোঁজ নেয় না। ২-৩ বছরে তিস্তা নদীর ভাঙনে ৪০ শতক বাড়িভিটা বিলীন হইছে। আর আছে শতক দুয়েক মাটি। সেটাও ভাঙ্গি যাবাইছে। একনা চলি গেলে মোর থাকার কিছু থাকবে না।’

একই এলাকার জব্বার (৬০) বলেন, ‘এ পর্যন্ত ৮-১০ বার নদী ভাঙ্গিয়া নিঃস্ব করি ফেলাইল। এবার ঘরবাড়ি ভেঙে মানুষের জমিতে ফেলে রাখছি। কয়েকদিন ধরে থাকার জন্য জমি চাচ্ছি কেউ দেয় না। কী হবে বউ বাচ্চা নিয়ে মহা দুশ্চিন্তায় আছি।’

jagonews24

কাশিমবাজার এলাকার বাসিন্দা শিমু ও ফরহাদ জানান, গাইবান্ধা জেলার অংশসহ কুড়িগ্রামের এলাকাটুকুও এখন নিশ্চিহ্ন হওয়ার পথে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা জানায় বরাদ্দ নেই। তাই তারা পুরোদমে কাজ করতে পারছে না।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, জেলার ৯টি উপজেলায় ব্রহ্মপুত্র, দুধকুমার, তিস্তা, ধরলা নদীর ৬৭টি পয়েন্টে প্রায় ৮ কিলোমিটার জায়গাজুড়ে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। এরমধ্যে ৫৩টি পয়েন্টে ৬কিলোমিটার জায়গায় জরুরি ভিত্তিতে কাজ চলমান রয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম বলেন, ভাঙন রোধে বৃহৎ পরিকল্পনা করা হচ্ছে। সেভাবে প্রকল্প করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এবার প্রায় ৪র্থ দফা বন্যা মোকাবিলা করতে হচ্ছে। প্রায় ৪ মাস ধরে পানি ওঠা নামা করায় ভাঙনের তীব্রতা অনেক বেশি। গেল অর্থ বছরে প্রায় ১৪ কোটি এবং চলতি অর্থ বছরে প্রায় ১৫ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে। বরাদ্দ চেয়ে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলে ভাঙন রোধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব বলে জানান তিনি।

নাজমুল হোসেন/এফএ/জেআইএম