ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

গৃহবধূকে নির্যাতন : সুমন রিমান্ডে, ইউপি সদস্যের জামিন নামঞ্জুর

জেলা প্রতিনিধি | নোয়াখালী | প্রকাশিত: ০১:৫৮ পিএম, ১৩ অক্টোবর ২০২০

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় গৃহবধূকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ঘটনায় মূলহোতা দেলোয়ারসহ চারজনকে আদালতে নেয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে ঘটনার মূলহোতা ও ধর্ষণ মামলার আসামি দেলোয়ারকে নারায়ণগঞ্জ থেকে, মামলার ৯ নম্বর আসামি শামছুদ্দিন সুমনকে হবিগঞ্জ থেকে, ইউপি সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন সোহাগকে নোয়াখালী কারাগার থেকে এবং কালামকে সাতদিনের রিমান্ড শেষে নোয়াখালী আদালতে আনা হয়।

জেলা জজ আদালতের এপিপি আশ্রাফুল ইসলাম মাসুদ জানান, সকালে জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম মাসফিকুল হকের ১নং আমলি আদালতে আসামিদেরকে তোলা হয়। এর মধ্যে দেলোয়ারের গ্রেফতার আবেদন মঞ্জুর করা হয়েছে। মামলার সাত নম্বর আসামি শামছুদ্দিন সুমনের সাতদিনের রিমান্ড চাইলে আদালত চারদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

অন্য আসামি ইউপি সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন সোহাগ নিজেই নিজের জামিন চাইলে আদালত তা নামঞ্জুর করেন। তারপক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না।

এদিকে মামলার তিন নম্বর আসামি কালাম সাতদিনের রিমান্ড শেষে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বাীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়ার কথা রয়েছে।

জানা গেছে, গত ২ সেপ্টেম্বর ওই গৃহবধূর স্বামী তার সঙ্গে দেখা করতে দীর্ঘদিন পর বাবার বাড়িতে আসেন। রাত ৯টার দিকে শয়নকক্ষে স্বামী-স্ত্রী একসঙ্গে ছিলেন। এ সময় বাদল, রহিম, আবুল কালাম, ইসরাফিল হোসেন, সাজু, সামছুদ্দিন সুমন, আবদুর রব, আরিফ ও রহমত উল্লাহসহ অজ্ঞাত কয়েকজন দরজা ভেঙে তাদের ঘরে প্রবেশ করে। এরপর তার স্বামীকে মারধর করে পাশের কক্ষে নিয়ে আটকে রাখে।

একপর্যায়ে তারা ওই গৃহবধূকে বিবস্ত্র করে ধর্ষণের চেষ্টা করে। এতে রাজি না হলে তারা তার ওপর নির্মম নির্যাতন চালায় এবং মুঠোফোনে ভিডিও ধারণ করে। এ সময় তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা কাউকে কিছু জানালে তাকে হত্যার হুমকি দেয়। হামলাকারীরা চলে যাওয়ার পর কাউকে কিছু না জানিয়ে নির্যাতিত ওই গৃহবধূ জেলা শহর মাইজদীতে বোনের বাড়ি আশ্রয় নেন।

সেখানে থাকা অবস্থায় মুঠোফোনে হামলাকারীরা তাদের প্রস্তাবে রাজি না হলে নগ্ন ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দেয়। একপর্যায়ে রোববার (৪ অক্টোবর) দুপুরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ওই ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে দেশব্যাপী তোলপাড় শুরু হয়।

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট ১১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এদের মধ্যে সাতজন ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

মিজানুর রহমান/আরএআর/পিআর