সেই সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে এসিল্যান্ডের চিঠি
মাদারীপুর পৌরসভার উপ-সহকারী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে চিঠি দিয়েছেন ভাঙ্গার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুহাম্মদ আল আমীন।
সরকারি চাকরিজীবী হয়েও উপজেলা পরিষদের উপ-নির্বাচনে একজন প্রার্থীর পোলিং এজেন্ট হওয়া, কর্তব্যরত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে অসদারচরণ ও জাল ভোট প্রদানের প্রচেষ্টার অভিযোগে তাকে চিঠি দেয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসকের কাছে নির্বাচনের দিনেই লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন তিনি। এরপর মঙ্গলবার ওই অভিযোগটি জেলা প্রশাসনের স্থানীয় সরকার বিভাগে গ্রহণ করা হয়।
গত ১০ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হয় চরভদ্রাসনের এ উপ-নির্বাচন। নির্বাচনে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুহাম্মদ আল আমীন।
নির্বাচন শেষে তিনি জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগে বলেন, নির্বাচনের দিনে চর অযোদ্ধা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের দোতলায় বুথের সামনে এক ব্যক্তিকে সন্দেহভাজন হিসেবে দেখা যায়। তিনি জাল ভোট দিচ্ছেন এমন সন্দেহ হওয়ায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তখন জানা যায় তিনি একজন পোলিং এজেন্ট। তখন নির্বাচনের সুষ্ঠ পরিবেশ বজায় রাখার স্বার্থে তাকে হেফাজতে নেয়া হয়।
অভিযোগে বলা হয়, অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে হেফাজতে নেয়া ওই ব্যক্তির নাম লুৎফর রহমান রানা। তিনি মাদারীপুর পৌরসভার উপ-সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত।
তিনি সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা ১৯৭৯ এবং উপজেলা পরিষদ নির্বাচন বিধিমালা ২০১৩, উপজেলা পরিষদ (নির্বাচন আচরণ) বিধিমালা ২০১৬ এবং সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপীল) বিধিমালা ২০১৮ এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন করেছেন। এ ব্যাপারে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) তার পত্রে আরও উল্লেখ করেন, এরপর ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান নিক্সন চৌধুরী তাকে মোবাইলে ফোন করে ধৃত ব্যক্তিকে ছেড়ে দিতে বললে তিনি আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন।
এরপর সংসদ সদস্য চরভদ্রাসনের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে ফোন করে ভদ্রলোকের পক্ষে প্রকাশের অযোগ্য অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং তার বাসভবনে হামলার হুমকি দেন।
বি কে সিকদার সজল/এমএএস/এমকেএইচ