EN
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

ঘরে স্ত্রীর লাশ রেখে ছেলেকে নিয়ে পালালেন স্বামী

জেলা প্রতিনিধি | জয়পুরহাট | প্রকাশিত: ০৪:৪৬ পিএম, ১৮ নভেম্বর ২০২০

জয়পুরহাট সদর উপজেলার বেলআমলা গ্রামে নেশার টাকা না পেয়ে মণিকা রানী মহন্ত (২৬) নামে এক গৃহবধূকে মারধরের পর শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামীর বিরুদ্ধে। বুধবার (১৮ নভেম্বর) সকালে বেলআমলা গ্রাম থেকে ওই গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এদিকে ঘরে স্ত্রীর লাশ রেখে স্বামী অনুকুল চন্দ্র মহন্ত (৩৫) একমাত্র ছেলে অপূর্ব মহন্তকে (৫) নিয়ে পালিয়ে গেছেন। তাকে খুঁজছে পুলিশ।

এলাকাবাসী ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, আট বছর আগে বেলআমলা গ্রামের হরেন চন্দ্র মহন্তের ছেলে রাজমিস্ত্রি অনুকুল চন্দ্র মহন্তের সঙ্গে নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার কৃত্তিপুরগ্রামের পঞ্চমহন্তের মেয়ে মণিকা রানী মহন্তের বিয়ে হয়। বিয়েতে যৌতুক দেয়ার পরও প্রায়ই প্রতিদিনই অনুকুল স্ত্রীকে টাকার জন্য চাপ দিতেন ও মারধর করতেন। সন্তানের সুখের আশায় গরিব দিনমজুর মণিকার বাবা এরই মধ্যে কয়েকবার ধার-দেনা করে টাকা দেন। অনুকুল নেশা ও জুয়া খেলায় আসক্ত হয়ে পড়লে নির্যাতনের মাত্রা আরও বেড়ে যায়। এ নিয়ে বেশ কয়েকবার পারিবারিকভাবে বৈঠক করে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়।

মোহাম্মদাবাদ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান জানান, মঙ্গলবার বিকেলে অনুকুলের বাবা-মামা তাদের মেয়ের বাসায় বেড়াতে যান। বাড়িতে কেউ না থাকায় অনুকুল মণিকা রানীকে পিটিয়ে আহত করার পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করে ঘরের মেঝেতে ফেলে রেখে একমাত্র ছেলেকে নিয়ে পালিয়ে যান।

jagonews24

অনুকুল প্রতিদিনই জুয়া খেলতেন ও নেশা করে স্ত্রী মণিকাকে মারধর করতেন। জুয়া ও নেশার টাকা জোগাড় করতে তিনি দেনা হন। পাওনাদারদের চাপে টাকা পরিশোধ করতে কয়েকদিন আগে স্ত্রী মণিকা স্থানীয় একটি এনজিও থেকে ১০ হাজার টাকা ঋণ তোলেন। ঋণের টাকা থেকে দুই হাজার টাকা চান অনুকুল। টাকা না দেয়ায় স্ত্রীকে হত্যা করেন অনুকুল।

অনুকুলের বাবা হরেন চন্দ্র মহন্ত বলেন, নবান্নের জন্য গতকাল স্ত্রীসহ মেয়ের বাড়ি মঙ্গলবাড়িতে যাই। সকালে বাড়িতে এসে দরজা খোলা দেখতে পেয়ে ডাকাডাকি করে ঘরের ভেতর ছেলের বউকে মৃত অবস্থায় পাই।

নিহত মণিকা রানী মহন্তের মা ছবি রানী বলেন, নির্যাতনের কারণে মেয়ে এক মাস আগে বাড়িতে গেলে আর তাকে স্বামীর বাড়ি পাঠাবো না বলে সিদ্ধান্ত নিই। কিন্তু জামাই বিভিন্ন জনকে ধরে আবার বাড়িতে নিয়ে যায়। মেয়ে হত্যার সুষ্ঠু বিচার চাই। হত্যাকারীর ফাঁসি চাই।

জয়পুরহাট সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর জাহান জানান, নিহতের গলায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে তাকে শ্বাসরোধে হত্যার পর স্বামী অনুকুল ছেলেকে নিয়ে পালিয়ে গেছেন। অনুকুলকে আটকের চেষ্টা চলছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য জয়পুরহাট জেলা আধুনিক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পেলে আসল ঘটনা জানা যাবে।

রাশেদুজ্জামান/আরএআর/এমএস