EN
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

মাথায় ঋণের বোঝা নিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা

উপজেলা প্রতিনিধি | কলাপাড়া (পটুয়াখালী) | প্রকাশিত: ১০:০৭ পিএম, ১৯ নভেম্বর ২০২০

লাখ লাখ টাকা ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে মৌসুমের শুরুতে ব্যবসায় নেমেছেন পটুয়াখালীর উপকূলের শুঁটকি ব্যবসায়ীরা। চলমান করোনাভাইরাসের থাবায় লোকসানের মুখে মূলধন সংকটে পড়েছেন এসব ব্যবসায়ীরা। প্রতি বছর শুঁটকি ব্যবসায়ীদের লাভ হলেও এবারের শুরুটা হয়েছে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিয়ে। গত কয়েক মাসে ব্যবসায়ীদের লাখ লাখ টাকা লোকসান গুনতে হয়েছে।

সংরক্ষণাগার ও যথাযথ প্রক্রিয়াজাতকরণের আধুনিক ব্যবস্থা না থাকায় করোনায় অবিক্রিত থাকা শুঁটকি মাছ নষ্ট হয়েছে। এতে কুয়াকাটাসহ উপকূলের ব্যবসায়ীদের ৩০ থেকে ৪০ কোটি টাকা সমপরিমাণ ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ব্যবসায়ীরা। ফলে নতুন করে ব্যবসা শুরু করতে গিয়ে মূলধন সংকটের মুখে পড়েছেন এখানকার শুঁটকি ব্যবসায়ীরা।

jagonews24

সরেজমিনে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রফতানি করার জন্য বিগত বছরগুলোর মতো প্রস্তুতি নিলেও মৌসুমের শুরুতেই করোনার কারণে ধাক্কা লাগে এ ব্যবসায়। ফলে দীর্ঘ ৫ মাস ধরে লকডাউনের মধ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কিংবা দেশের বাইরে কোথাও শুঁটকি রফতানি করতে পারেননি তারা। ফলে নানামুখী সংকটে পড়েছেন এসব ব্যবসায়ীরা।

একদিকে ব্যাংকের লোন পরিশোধের দুশ্চিন্তা অন্যদিকে, মহাজনের দাদনের ফাঁদে দিশেহারা শুঁটকি ব্যবসায়ীরা। এভাবে চলতে থাকলে বেশিরভাগকেই ব্যবসা ছেড়ে দিতে হবে বলে জানিয়েছেন শুঁটকি ব্যবসায়ীসহ আড়তদাররা।

jagonews24

এদিকে, হতাশার মাঝেও শুঁটকি পল্লীতে ব্যস্ত সময় পার করছেন স্থানীয় ও দূরদূরান্ত থেকে আগত শ্রমিকরা। ডাঙা তৈরি করে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ধুয়ে প্রাকৃতিকভাবে তৈরি করা হয় এখানকার শুঁটকি। গুণগত মান বজায় থাকার কারণে কুয়াকাটার শুঁটকির চাহিদা দেশের সর্বত্রই। দেশের বাইরেও রফতানি করা হয় কুয়াকাটার শুঁটকি। উপকূলের প্রায় ৫ হাজার মানুষ এ পেশায় নিয়োজিত থেকে জীবিকা নির্বাহের স্বপ্ন দেখেন।

অক্টোবরের শুরু থেকেই মার্চ পর্যন্ত চলমান থাকে এখানকার শুঁটকি মাছের উৎপাদন। উপজেলা মৎস্য অফিসের তথ্যমতে, কুয়াকাটা থেকেই প্রতি বছর ১৫০-২০০ কোটি টাকার মতো শুঁটকি দেশে ও দেশের বাইরে বিক্রি হয়। অক্টোবরের শুরু থেকে শুঁটকির কাজে নিয়োজিত হয় এখানকার জেলেরা।

স্থানীয় শুঁটকি ব্যবসায়ী নিজাম উদ্দিন জানান, শুঁটকি ব্যবসায় প্রচুর মূলধন লাগে। মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই প্রায় সকল ব্যবসায়ীরা নিজেদের মূলধনের পাশাপাশি ধার কর্জ করে লাখ লাখ টাকা এনে মাছ কিনে শুঁটকি করে। এখান থেকে কিছু মাছ স্থানীয় শুঁটকি মার্কেটে বিক্রি হলেও বেশিরভাগ রফতানি হয় দেশের বাইরে। এবারে করোনার কারণে বেশিরভাগ শুঁটকি বিক্রি না হওয়ায় ৭-৮ লাখ টাকা লোকসান গুনেছেন এ ব্যবসায়ী।

jagonews24

স্থানীয় আরেক ব্যবসায়ী মো. রফিক বলেন, ‘আমাদের এখানে যদি আধুনিক সংরক্ষণাগার থাকত তাহলে আমাদের এত ক্ষতি হতো না। আমার ১৫-২০ হাজার কেজি শুঁটকি মাছ ঘরে পড়ে আছে। যা এবারে অর্ধেক দামে বিক্রি করতে হবে।’

আড়তদার মো. সুলতান আহমেদ জানান, করোনাভাইরাসের কারণে দেশে ও দেশের বাইরে শুঁটকি পাঠাতে না পেরে আর্থিক ক্ষতি হয়েছে অনেক। ফলে শুঁটকি পল্লীর ব্যবসায়ীদের কোটি কোটি টাকা লোকসান হচ্ছে।

শুটকির মার্কেট ব্যবসায়ী সোহেল মাহমুদ বলেন, ‘আমাদের এই মার্কেটে প্রতিটা দোকানে ১৫-২০ টাকার শুঁটকি মাছ পড়ে আছে, কিন্তু কোনো বিক্রি নেই।’

কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. জহিরুন্নবী বলেন, ‘নিরাপদ ও মানসম্পন্ন শুঁটকি উৎপাদনের জন্য কুয়াকাটার ব্যাপক সুনাম রয়েছে। তবে এ বছর লোকসানের মুখে শুঁটকি ব্যবসায়ীরা। আমরা চেষ্টা করছি, যাতে সরকারি প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় শুঁটকি ব্যবসায়ীরা আসতে পারে।’

কাজী সাঈদ/এফআর/জেআইএম