EN
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

সাত বছরেও শেষ হয়নি শিক্ষক কামরুল হত্যার বিচার

জেলা প্রতিনিধি | ফরিদপুর | প্রকাশিত: ০৭:১১ পিএম, ২৪ নভেম্বর ২০২০

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার চতুল গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক কামরুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের সাত বছর পেরিয়ে গেলেও বিচারকাজ শেষ হয়নি।

এতে হতাশায় ভুগছে নিহতের পরিবার। বিচার বিভাগের প্রতি তাদের আর্তি দ্রুততম সময়ে এ হত্যাকাণ্ডের বিচার শেষ করে প্রকৃত দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার।

মামলার বাদী নিহতের ভাই এস এম খায়রুল ইসলাম জানান, ২০১৩ সালের ২৫ নভেম্বর বিকেল তিনটার দিকে শিক্ষক কামরুল ইসলাম সাইকেলযোগে বোয়ালমারী বাজারে যাচ্ছিলেন। চতুল চিতাঘাটা এলাকায় পৌঁছালে দুর্বৃত্তরা তার ওপর হামলা চালায়।

এ সময় ১৪-১৫ জন হামলা চালিয়ে প্রকাশ্যে বেধড়ক মারপিট করে তাকে গুরুতর জখম করে। অজ্ঞান অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নেয়া হয়। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে নেয়ার পথে রাত পৌনে দশটার দিকে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় পরদিন ২৬ নভেম্বর বোয়ালমারী থানায় ১২ জনের নাম উল্লেখ করে আরও চার-পাঁচ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা করা হয়।

এ ঘটনায় ২০১৪ সালের ২০ ডিসেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। এরই মধ্যে সাত বছর পেরিয়ে গেলেও বিচারকাজ শেষ হয়নি।

তবে আসামিরা জামিন নিয়ে এলাকায় ঘুরে বেড়ানোর পাশাপাশি সামাজিক চাপ সৃষ্টি করছে। নানাভাবে সামাজিকভাবে চাপের মধ্যে রয়েছেন নিহতের পরিবারের সদস্যরা।

নিহত শিক্ষকের বৃদ্ধা মা লাইলি বেগম জানান, পুত্র শোক সইতে না পেরে এক বছরের মধ্যে মারা গেছেন বাবা হাজী আবুল হাসেম মাস্টার। মৃত্যুর আগে সন্তানের হত্যাকারীদের বিচার দেখে যেতে চাই।

নিহতের স্ত্রী তানজিলা খানম জানান, স্বামীর হত্যাকারীদের চোখের সামনে দিয়ে বীরদর্পে ঘুরে বেড়ানো ও বাজে কথা সইতে না পেরে স্বামীর বাড়ি ছেড়েছি। আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করি, ন্যায়বিচার যেন পাই।

ফরিদপুর জজ কোর্টের অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি এম এ সালাম বলেন, মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে দ্রুত রায় ঘোষণা হবে।

বি কে সিকদার সজল/এএম/এমকেএইচ