EN
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

ওরা সুখের শৈশব ছেড়ে কষ্টের কর্মজীবনে

উপজেলা প্রতিনিধি | কুয়াকাটা (পটুয়াখালী) | প্রকাশিত: ০২:৫৩ পিএম, ২৫ নভেম্বর ২০২০

হাসি-খুশি ও আনন্দ-উল্লাসে বেড়ে ওঠার কথা ওদের। থাকার কথা ছিল স্কুল-মাদরাসায়। হাতে থাকার কথা ছিল বই-খাতা-কলম। কাঁধে স্কুলব্যাগ। বিকেলে ফুটবল, ক্রিকেটের কিংবা ব্যাডমিন্টন মাঠে খেলাধুলায় ব্যস্ত থাকার কথা ওদের। শিক্ষার আলোয় আলোকিত হওয়ার স্বপ্ন দেখার কথা ছিল। কিন্তু ওরা এখন কর্মব্যস্ত শুঁটকিপল্লীতে। কাঁধে সংসারের বোঝা।

যুগ যুগ ধরে এই দৃশ্যই চোখে পড়ছে অবহেলিত এ প্রান্তিক জনপদে। অভাবি সংসারের বোঝা কাঁধে নিয়ে অন্ধকার গন্তব্যে হাঁটছে ওদের ভবিষ্যৎ জীবন। দারিদ্র্যের কষাঘাতে অনিশ্চয়তায় বিবর্ণ ওদের শৈশব। শিশুশ্রমের বেড়াজালে বন্দিজীবন কাটছে উপকূলের হাজারো শিশুর। মোটকথা উপকূলে এখনো অপ্রতিরোধ্য শিশুশ্রম।

Chaild-2

উপকূলের শিশুরা কখনো সমুদ্রে নেটজাল টেনে বাগদা রেণু আহরণ করে, কখনো নিষিদ্ধ কারেন্টজাল টেনে ফাইশা, পোমাজাতীয় মাছ ধরে। কখনো মইয়্যা, ঝাঁকিজাল টেনে চিংড়ি মাছ ধরে, আবার কখনো ইলিশ আহরণে বড়দের সঙ্গে সমান তালে কাজ করে। আবার কেউ কেউ সস্তায় শ্রম বিক্রি করে। ওরা কখনো জেলে, কখনো কৃষক, কখনো বা কঠোর পরিশ্রমী দিনমজুর।

কথা হয় কুয়াকাটার পাঞ্জুপাড়ার শিশু শ্রমিক মেহেদি হাসানের (১৩) সঙ্গে। সে জানায়, দৈনিক ১২-১৪ ঘণ্টা মাছ শুকানোর কাজ করে। সকাল থেকে শুরু করে সন্ধ্যা পর্যন্ত নৌকা থেকে মাছ তোলা, মাছ কাটা এবং শুকানো সব কাজ করতে হয় তাকে। বিনিময় মিলছে না তেমন বেতন-ভাতা। বেতনের কথা জিজ্ঞাসা করলে বলে, ৩০০-৩৫০ টাকা পাই। পেটের দায়ে কাজ করতে আসছি।

Chaild-3

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, মেহেদির মতো অনেক শিশু শ্রমিক রয়েছে এ শুঁটকিপল্লীতে। তাদের সবার বয়স ৭-১৪ বছর। স্বাস্থ্যসুরক্ষা কী তা তারা বোঝে না। করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে মুখে মাস্ক নেই। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ। বেশিরভাগ শিশুকে অস্থায়ীভাবে তৈরি করা ঘরে রাতযাপন করতে হয়।

কথা হয় মহিপুর থানার গোড়াখালের শুঁটকিপল্লীতে কর্মরত সুমন (১৩) নামের এক শিশু শ্রমিকের সঙ্গে। সুমন বলে, ‘ঘরে থাইক্কা যে মোরা লেহা পড়া হরমু (করমু) হেইয়া মোগো কপালে নাই। বদলা (শ্রমিক) দিয়ে ৩০০-৩৫০ টাকা পাই। তা দিয়ে ঘরে চাউল কিনি।’

Chaild-4

সুমনের মতো হাজারো শিশুর স্বপ্নগুলো এভাবেই অঙ্কুরেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে এখানে কাজ করতে এসে। শুঁটকিপল্লী ছাড়াও বিভিন্ন হোটেল, রেস্তোরাঁয় ঝুঁকিপূর্ণ কাজে যুক্ত থাকতে দেখা যায় এ অঞ্চলের শিশুদের।

স্থানীয় একটি ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মো. কালিম মাহমুদ। তিনি জানান, করোনা মহামারির কারণে সবার পারিবারিক আয় কমে গেছে। অনেকের কর্মক্ষেত্র বন্ধ হয়ে গেছে। এসব কারণে এখানকার বেশিরভাগ লোকই অর্থ সংকটে ভুগছে।  ফলে শিশুরাও কাজে লেগে গেছে।

Chaild-4

শিশু সুরক্ষা নিয়ে কাজ করা স্থানীয় সংগঠন রুরাল ইনহ্যান্সমেন্ট অর্গানাইজেশনের (রিও) সভাপতি মাওলানা হাবীবুল্লাহ বলেন, ‘অর্থ সংকটের সময় অনেক পরিবারই খাদ্য জোগানের জন্য শিশুদেরও কাজে লাগিয়ে দেয়। আমাদের উচিত শিশুদের শ্রমে না লাগানো।’

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবু হাসনাত মোহাম্মাদ শহিদুল হক বলেন, ‘মহামারির সময় স্কুল বন্ধ থাকায় শিশুশ্রম ও বাল্যবিবাহ বেড়ে গেছে। তবে শিশুশ্রম বন্ধ ও বাল্যবিবাহ রোধে আমরা সবসময় সচেষ্ট।’

কাজী সাঈদ/এসআর/পিআর