পদ্মা জয়ের সাক্ষী হতে যশোর থেকে মাওয়া
নানান জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে বসে গেলো পদ্মা সেতুর শেষ স্প্যান (সুপার স্ট্রাকচার)। এর মধ্য দিয়েই পদ্মার বুকে দৃশ্যমান হলো সেতুর ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার অবকাঠামো। এই স্বপ্ন জয়ের সাক্ষী হতে যশোর থেকে এসেছিল একদল কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষ। ট্রলারের মধ্যে তাদের বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস।
আগত দর্শনার্থীরা জানালেন, গতরাতে (বুধবার) টেলিভিশনের মাধ্যমে পদ্মা সেতুর ৪১তম স্প্যান বসানোর সংবাদ পান। এরপর আট হাজার টাকা দিয়ে মাইক্রোবাস ভাড়া করে ছুটে আসেন পদ্মা পাড়ের মাওয়া প্রান্তে। তারপর দুই হাজার টাকায় ট্রলার ভাড়া করে চলে আসেন মাঝ পদ্মার ১২ ও ১৩ নম্বর পিলারে কাছে।
যশোরের কেশব পুর থেকে আসা আবুল কাশেম বলেন, এলাকার ১৩ জন ভাই-বন্ধু নিয়ে রাত সাড়ে ১২টার সময় বাড়ি থেকে যাত্রা করি মাওয়ার উদ্দেশে। আজ ফজরের আজানের সময় মাওয়ায় পৌঁছাই। এখন নিজের চোখে পদ্মা সেতু স্প্যান বসানো দেখলাম। কত যে আনন্দ লাগছে তা ভাষায় প্রকাশ করতে পারছি না। কল্পনাও করতে পারছি না। যখন থেকে পদ্মা সেতুর কথা শুনেছি তখন থেকেই নিজের চোখে দেখার স্বপ্ন ছিল।
মো. খাইরুল ইসলাম নামের এক কৃষক বলেন, পদ্মা সেতুর কাজ দেখার ইচ্ছা ছিল। আজ আমার স্বপ্ন পূরণ হলো। আশা করি আগামী বছর সেতুর ওপর দিয়ে মাওয়া ঘুরতে আসতে পারব।
সেতুতে স্প্যান বসানো দেখতে আসা আরও কয়েকজন দর্শনার্থী জানান, সেতুতে সর্বশেষ স্প্যান বসানোর মধ্য দিয়ে উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার চলাচলের পথ সুগম হলো। সেতুর কাজ শেষ হলে যশোর থেকে ঢাকা আসতে যে বিড়ম্বনার শিকার হতে হতো, তা আর হবে না। এছাড়া অর্থনৈতিক উন্নয়নের নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে। কৃষি পণ্য দ্রুত সময়ের দেশের বিভিন্ন স্থানে পৌঁছানো যাবে। এতে দেশ আরও এগিয়ে যাবে।

বৃহস্পতিবার (১০ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টা ২ মিনিটে ১২ ও ১৩ নম্বর পিলারের ওপর বসানো হয় ৪১তম স্প্যানটি। এর মাধ্যমেই দৃশ্যমান হলো ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পদ্মা সেতু।
শুধু তাই নয়, মাওয়া ও জাজিরা প্রান্তে বসানো স্প্যানগুলোতে রেলওয়ে স্ল্যাব ও রোডওয়ে স্ল্যাব বসানোর কাজও দ্রুতগতিতে চলমান। সেতুতে প্রয়োজন হবে ২ হাজার ৯১৭টি রোডস্ল্যাব। এরই মধ্যে এক হাজার ২৩৯টিরও বেশি স্ল্যাব বসানো হয়েছে। রেলওয়ের জন্য প্রয়োজন হবে ২ হাজার ৯৫৯টি রেলস্ল্যাব। যার মধ্যে এ পর্যন্ত এক হাজার ৮৬০টিরও বেশি বসানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর ৩৭ ও ৩৮ নম্বর পিলারে প্রথম স্প্যান বসানো হয়। প্রথম স্প্যান থেকে শুরু করে ৩৯তম স্প্যান বসানো পর্যন্ত সময় লেগেছে তিন বছরের ওপর।
৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই বহুমুখী সেতুর মূল আকৃতি হবে দোতলা। কংক্রিট ও স্টিল দিয়ে নির্মিত হচ্ছে পদ্মা সেতুর কাঠামো। সেতুর উপরের অংশে যানবাহন ও নিচ দিয়ে চলবে ট্রেন।
ভবতোষ চৌধুরী নুপুর/এসজে/জেআইএম